কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতার মিশ্র প্রতিক্রিয়া

চট্টগ্রাম মহানগর

Sharing is caring!

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সদ্য ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতা। সম্মেলনের এক বছর পর গত সোমবার (১৩ মে) ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ৩০১ সদস্যের এই কমিটিতে চট্টগ্রাম মহানগরে রাজনীতি করা কোন নেতার জায়গা না হওয়া অনেককেই বিস্মিত করে৷ নগর ছাত্রলীগের কেউ কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা করেন এই ইউনিটের সব স্তরের নেতা কর্মীরা।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কমিটিতে চট্টগ্রাম মহানগরের কাউকে না রাখার বিষয়টি কিভাবে দেখছেন, জানতে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করে সিনিউজ অনলাইন।

মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহম্মেদ ইমু এই বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন এটাই প্রথম নয়, গত কমিটিতেও চট্টগ্রাম মহানগর থেকে কাউকে রাখা হয়নি। তবে এই বিষয়ে এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি ইমু। তিনি বলেন কেন্দ্রীয় কমিটিতে চট্টগ্রাম মহানগরের মত গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের কেউ জায়গা না পাওয়া দুঃখজনক, তবে আমি যেহেতু একটা দায়িত্বে আছি এই বিষয়ে আপাতত আমি বেশি কিছু বলতে চাচ্ছি না।

অন্যদিকে এই ঘটনায় খুব অবাক ও ব্যথিত হয়েছেন মন্তব্য করে নগর ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর বলেন চট্টগ্রাম মহানগর বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অন্যতম একটি ইউনিট। গত সময়গুলোতে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় আমরা অন্য ইউনিটগুলোর চেয়ে বেশি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছি। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে অনেক জাতীয় ইস্যু সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে অনেক বেগ পেতে হয়েছে সেসব ইস্যু আমরা সফলভাবে সামাল দিতে পেরেছি। তাছাড়া ছাত্রদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন সংগ্রামে আমরা যা করেছি বাকিরা তা পারেনি। তার পরেও এই ইউনিট থেকে কাউকে কেন্দ্রে না রাখাটা আসলে হতাশাজনক।

অতীতে কেন্দ্রীয় কমিটি করার ক্ষেত্রে নগরের প্রতিনিধি নির্বাচনে মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা, সাবেক ছাত্রনেতা ও নগরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সাথে সম্মিলিতভাবে আলাপ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হতো বলেও জানান তিনি। তবে এবার এধরনেই কোন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি, যোগ করেন জাকারিয়া দস্তগীর।

নগর ছাত্রলীগ থেকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে কেউ জায়গা না পাওয়ায় শীর্ষ নেতা হিসেবে নিজেদের কোন ব্যর্থতা আছে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে জাকারিয়া দস্তগীর বলেন, দেখুন কমিটি করায় আমাদের কোন ভূমিকা নেই। আমরা সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় দায়বদ্ধ। সেটা আমরা ভালভাবেই করেছি। আমরা রাজপথে আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি। এসবের মূল্যায়ন করা যাদের দায়িত্ব তারা যদি মূল্যায়ন না করে তবে আমাদের কি করার আছে। এটা কিভাবে আমাদের ব্যর্থতা হয়!

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে আপনারা দেখেছেন কমিটি নিয়ে প্রচুর সমালোচনা হচ্ছে। বিতর্কিত অনেকে পদ পেয়েছে বলে বলা হচ্ছে। শুনেছি বিতর্কিতদের বাদ দিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিতে পারেন। যদি এমনটা হয় তাহলে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে শূন্য পদগুলো পূরণের ক্ষেত্রে আমাদের ইউনিটের যোগ্য নেতা কর্মীদের যাতে মূল্যায়ন করা হয় আমি সেই দাবি করবো।

তবে সেক্ষেত্রেও যাতে এখান থেকে বিতর্কিত কেউ সেই সুযোগ না পায় সে ব্যাপারেও সচেতন থাকতে হবে। যোগ করেন জাকারিয়া দস্তগীর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *