রাব্বানীর ‘ধান কাটার’ ছবি নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনার ঝড়!

জাতীয়

Sharing is caring!

বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর৷ এবার ধান কাটার ছবি ফেসবুকে পোষ্ট করে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছেন ছাত্রলীগের দ্বিতীয় শীর্ষ এই নেতা।

বুধবার (২২ মে) ফেসবুকে ভ্যারিফাইড আইডিতে দলবল নিয়ে ধান কাটার ছবি পোষ্ট করেন গোলাম রাব্বানী। সেখানে তিনি লিখেন সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নের শুক্কুর আলী নামের এক কৃষকের ডাকে সাড়া দিয়ে নিজে ধান কাটতে গিয়েছেন। ছবিতে নতুন কাপড়, কোমড়ে ও মাথায় নতুন গামছা ও জুতো পড়া অবস্থায় ধানের ছড়া হাতে হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে পোজ দিতে দেখা যায় তাকে। এসময় রাব্বানীর হাতে কাস্তে থাকলেও বাকিদের হাতে শুধু ধানের ছড়াই ছিল। অনেকের হাতে তাও ছিল না।

এই ছবি পোষ্ট করার সাথে সাথে ছবিটি নিয়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। অনেকে এই কাজকে কৃষকের সাথে তামাশা বলে উল্লেখ করেন। ‘নতুন লুঙ্গী নতুন গামছা পড়ে ও জুতো পায়ে ধান কাটার’ কথা বলার সমালোচনা করেন অনেকে। তারা বলেন ‘এভাবে জুতো পড়ে নতুন লুঙ্গি পড়ে কেউ ধান কাটতে যায়না। এই বিষয়টা খেয়াল করলেই বুঝা যায় সস্তা জনপ্রিয়তার লোভে কৃষকের সাথে এই মশকারা করেছেন তিনি’

এটাকে ধান ক্ষেতে শুটিং হিসেবে অভিহিত করে একজন লিখেছেন, ‘ধান ক্ষেতে শুটিং করতে গিয়া না আবার পাকা ধানে মই দেয়া হয়।’

নরোত্তম বনিক নামে অন্য একজন লিখেছেন, ‘এই ছবিটি কৃষকের সাথে প্রতারণার আরেকটি চিত্র হিসেবে দেখছি। আপনি ছাত্রলীগের সেক্রেটারি। আপনি কয় আটি ধান কেটেছেন? উদ্দেশ্য কি ধান ক্ষেতে ছবি উঠানোই ছিল?’

আরিফুল ইসলাম নামে একজন লিখেছেন, আগের এক ভাইকে দেখছিলাম ছাতা মাথায় লুঙ্গি পরে হাতের নিছে বই নিয়ে খেত পার হচ্ছে–কি অসাধারণ সহজ সরল জীবন যাপন করতো ভাইটি,
পরে শুনছিলাম ভাইটি হেলিকপ্টারে করে সম্মেলনে যায়। এখন এক মানবিক ভাইকে মানবতার ফেরিওয়ালাকে দেখলাম লুঙ্গি পরে জুতা পায়ে দিয়ে ধান কাটতে,
এই ভাইটি ভাবছি কতো সাধারণের চেয়েও সাধারণ।’

সোহেল শাহ নামে একজন খোঁচা দিয়ে লিখেন, ‘ভাইয়া কি ধান কাটার জন্য নতুন গামছা আর লুঙ্গি কিনলেন নাকি?’

মেহেদি হাসান শুভ নামে একজন লিখেছে, ‘আমার বাড়ির পিছনে অনেক ধান ক্ষেত। জীবনে কৃষকদের ধান কাটা কম দেখি নাই।কিন্তু চামড়ার জুতা পায়ে দিয়ে ধান কাটতে প্রথম দেখলাম। দুনিয়াতে দেখার আরো অনেক কিছু বাকি আছে।ভন্ডামির সীমা থাকা উচিত।’

রিফাত নামে একজন লিখেছেন, ‘ভাইয়া তাহলে মূল বিষয়টা বুঝে নাই। ধানের ন্যায্য মূল্য চেয়েছে ধান কাটার লোক চায় নাই।’

সাম্প্রতিক কালে ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার প্রতিবাদে ক্ষেতে আগুন লাগিয়ে প্রতিবাদ করেন কৃষকরা। এসময় কৃষকরা অভিযোগ করেন উৎপাদন খরচ বাদ দিয়েও শুধু মাত্র ধান কাটার জন্য একজন মজুর যে মজুরী চাচ্ছে তার চেয়ে কম দামে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৪ মে ময়মনসিংহের ফুলপুরে সহ বিভিন্ন এলাকায় স্বেচ্ছাশ্রমে কৃষকদের ধান কাটার উদ্যোগ নেয় স্কাউটের শিক্ষার্থীরা। ২২ মে একই রকমের নির্দেশনা দিয়ে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সভাপতি সেক্রেটারি সাক্ষরিত ঐ বিবৃতিতে দেশের সকল ইউনিটের নেতাকর্মীদের স্ব স্ব ইউনিটে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কৃষকদের ধান কাটায় সহযোগিতা করার নির্দেশনা দেয়া হয়ে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *