দিল্লির মসনদে আবারো মোদি

আন্তর্জাতিক

Sharing is caring!

নিজের রেকর্ড ভঙ্গ করে নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদি দ্বিতীয়বারের জন্য বিপুল ভোটের ব্যবধানে ভারতের সপ্তদশ লোকসভার প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন। নির্বাচন কমিশন এখনো সরকারিভাবে ভোটের ফল ঘোষণা করেনি। কিন্তু ৫৪২টি আসনের ভোট গণনা থেকেই স্পষ্ট, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ ৩৪৭ আসনে এগিয়ে রয়েছে। এর মধ্যে বিজেপি একাই পেয়েছে ২৯৮টি। গতবার বিজেপি পেয়েছিল ২৮২টি। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২৭২। বিরোধী কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ গতকাল রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পেয়েছে ৮৩টি। এর মধ্যে কংগ্রেসের নিজস্ব মাত্র ৫৩। ভারতের পার্লামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী বিরোধী দলের মর্যাদা পেতে প্রয়োজন ১০ শতাংশ অর্থাৎ ৫৫। প্রধানমন্ত্রী মোদি টুইট করে বলেছেন, ‘এটা সবকা সাথ সবকা বিকাশ এবং ভারতের জয়।’ ২০১৪ সালের থেকেও বেশি ভোটের ব্যবধানে এবার মোদি জিতছেন। মোদি নিজে বারানসি থেকে ২ লাখের বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।

এবার লোকসভা ভোটের বড় চমক হলো গান্ধী পরিবারের খাসতালুক আমেথিতে রাহুল গান্ধীর পরাজয়। এখানে বিজয়ী হয়েছেন বিজেপির স্মৃতি ইরানি। তবে কেরালার ওয়েনাড় কেন্দ্র থেকে ইতিমধ্যেই জয়ী হয়েছেন রাহুল গান্ধী। রায়বেরিলি থেকে সোনিয়া গান্ধী জিতেছেন স্বাভাবিকভাবেই। দ্বিতীয় চমক পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের বিপুল জয়ের জন্য মূলত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বালাকোটে বিমান হানা, হিন্দুত্বের প্রচার ও সামাজিক সকল্যাণের কয়েকটি প্রকল্পকে নিয়ামক মনে করা। এ ছাড়া কৃষকের হাতে ভোটের আগে ৬ হাজার রুপি পৌঁছে দেওয়া, গরিব পরিবারে বিনামূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার ও বাড়ি তৈরি করে দেওয়া ইত্যাদিও রয়েছে।

ভোটের ফল প্রাথমিকভাবে ঘোষণা না হওয়ার মূল কারণ, এই প্রথম ইভিএমের (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) সঙ্গে ভিভিপ্যাট স্লিপ গোনা হয়েছে। প্রতিটি ইভিএমের সঙ্গে একটি পৃথক মেশিন রয়েছে; যেখানে ভোটারদের ভোট কাগজে ছাপা হবে। তার পরই নির্বাচন কমিশন ফল ঘোষণা করবে।

ভোটের ফল প্রাথমিকভাবে বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মূলত উত্তর থেকে পূর্ব ও মধ্য ভারতের রাজ্যগুলোয় বিজেপি নিরঙ্কুশ আসন পেয়েছে। সে তুলনায় দক্ষিণের কেরালা, অন্ধ্র ও তামিলনাড়ুতে তারা কোনো আসন পায়নি। এখানে কংগ্রেস ও জোট শরিক ডিএমকে প্রায় সব আসন পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী টুইট করে বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে গড়ব, বিকাশ করব। আমরা অন্তর্মুখী ভারত গড়ব।’ ভোটের সময় প্রবল হিন্দুত্বের প্রচারে সমাজে যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে তা প্রশমনের জন্যই মোদি অন্তর্মুখী ভারত গড়ার ডাক দিয়েছেন। ভারতের নির্বাচনের ইতিহাস দেখলে বোঝা যায়, তিন দশকের পর এই প্রথম একটি দল এককভাবে দ্বিতীয়বার সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে।

ভারতের নির্ণায়ক রাজ্য উত্তর প্রদেশে মায়াবতী ও অখিলেশের সমাজবাদী পার্টি জোট বাঁধায় ধারণা হয়েছিল বিজেপি বড় ধরনের ধাক্কা খাবে। কিন্তু তা হয়নি। তবে আগের থেকে কিছু আসন কমেছে। মোট ৮০ আসনের মধ্যে এনডিএ ৫৯, সমাজবাদী-মায়াবতী ২০ একমাত্র সোনিয়া গান্ধী জিতছেন। গতবার বিজেপি পেয়েছিল ৭৩টি। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রতিটি প্রদেশের ভোটের গতিপ্রকৃতি পরিবর্তন হচ্ছে। তাই এখনই চূড়ান্ত ফল দেওয়া যাচ্ছে না।

রাজধানী দিল্লির ৭টি আসনেই বিজেপি এগিয়ে। তেমনি গুজরাটের সবকটি আসনে এগিয়ে। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ এখান থেকে ৪ লাখের বেশি ভোটে জয়ী হতে চলেছেন। কংগ্রেসের তারকাদের মধ্যে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া হারতে চলেছেন। মহারাষ্ট্রে কংগ্রেস-এনসিপি জোট ধরাশায়ী হয়েছে বিজেপি-শিবসেনা জোটের কাছে। কর্ণাটকে কংগ্রেস-জনতা দল সরকারে থাকলেও সেখানে বিজেপি বেশির ভাগ আসনে জয়ী হচ্ছে। ফলে সেই সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অন্ধ্রে আঞ্চলিক দল গজন রেদ্দির ওয়াইএসআর-কংগ্রেস ২৫টি আসনে জয়ী হয়ে রেকর্ড করেছে। সেখানে পরাজিত মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর দল। তেমনি তেলেঙ্গানায় জয়ী তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতির চন্দ্রশেখর রাও। কেরালা ছাড়া কংগ্রেস বেশির ভাগ আসনে জয়ী হচ্ছে পাঞ্জাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *