জনগণমন অধিনায়ক মোদী, ভারত ভাগ্যবিধাতা?

মতামত

Sharing is caring!

মৌলবাদী শব্দটা যারা শুধু ইসলাম আর মুসলিমের সাথে যুক্ত করতে অভ্যস্ত, তারাই মোদীর বিজয়ে এতটা উচ্ছ্বসিত।
মোদী, তার দল বিজেপি আর মাতৃসংগঠন আরএসএস শতভাগ মৌলবাদী সংগঠন, যা ভারতবর্ষের বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থার সাথে সব সময়ই সাংঘর্ষিক।

ভারতের নির্বাচন নিয়ে এত মাতামাতির কি আছে, যারা এরকম ভাবেন তারা কি জানেন না, ওপারে একটা মসজিদ ভাঙা হলে সীমান্তের এপারে হাজারো মন্দির ভাঙে? নাকি একপক্ষ যখন ধর্মান্ধ, অন্যপক্ষে আপনি শুধুই অন্ধ?

রাষ্ট্রীয় হিশেব আলাদা। ভারতের বিদেশ নীতি আমাদের মত সরকার বদলালেই বদলে যায় না। তাদের বন্ধুরা আজীবন বন্ধু, শত্রুরা শত্রুই থাকে। আমাদের রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক সুমধুর থাকবে, স্বাভাবিক থাকবে। এই আন্তঃরাষ্ট্রীয় উষ্ণতা অবশ্যই কাঙ্ক্ষিত। তার মানে ২০১৪ সালের মত বিএনপি যেমন উল্লাসে ফেটে পড়েছিলো, পল্টনে মিষ্টি বিতরণ শুরু করেছিলো সেরকমটা করার কোনো মানে হয় না।

পপুলারিজমের এই যুগে শেখ হাসিনার ইমেজ ছাড়া এদেশে অধিকাংশ এমপি জিতে আসতে পারবে না। ভারতের এবারের নির্বাচনটা সাধারণ নির্বাচন সেই সাধারণ রুপটাই পরিগ্রহ করতে পারেনি। এটা ছিল মোদীর প্রতি জনতা ভরসা করে কি না তার একটা “আস্থা ভোট”! মোদী তার উগ্র-জাতীয়তাবাদ, পাকিস্তান কার্ড, হিন্দুত্ববাদ, বাঙালি বিরোধী ও মুসলিম বিরোধী কার্ডগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার করে জনতাকে ভোলাতে সক্ষম হয়েছেন, তিনি সফল। এই আস্থা ভোটে তিনি উতরে গেছেন, আরও পাঁচটা বছরের জন্য।

জননন্দিত নেতা হিশেবে মোদী হয়তো তার ১৪ সালের ইশতেহারের প্রতিশ্রুত দাবীগুলো পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন, তবে তিনি মানুষকে এটা বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের পক্ষেই তিনিই একমাত্র ব্যক্তি! বাকিরা সবাই মুসলিম তোষণ করে। মোদী-অমিত একরকম মুসলিম ভোট হিশেবের বাইরে রেখেই নির্বাচনের লড়াইয়ে নেমেছিলো। ভোটের হিশেবে দেখা যাবে তারপরেও বিভিন্ন আসনে তারা মুসলিম ভোটও পেয়েছে!

বিগত পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে এন.আর.সি বা জাতীয় নাগরিকত্ব পঞ্জিকরণ করা হবে। বিশেষত পশ্চিমবঙ্গে। একদা বামের রাজ্যে হঠাৎ রামরাজ্য প্রতিষ্ঠা হতে যাওয়া পশ্চিমবঙ্গে এই পঞ্জিকরণ যে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি করবে তার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে বাংলাদেশকেও! আসামের অভিজ্ঞতা আমাদের অন্তত তাই হলে!

পাঁচ বছরের একটা অসহনীয়-অসহিষ্ণু অবস্থা থেকে কংগ্রেসের ইউপিএ অথবা আঞ্চলিক দলগুলোর সমন্বয়ে একটা দূর্বল হলেও বিজেপির বাইরে সরকার গঠিত হবে- এটাই প্রত্যাশা ছিল। হলো না।

দেখা যাক এখন কী আছে ভারতের ভাগ্যে! কী করে জনগণমন অধিনায়ক মোদী, ভারত ভাগ্য বিধাতা!

লেখক: সোহেল রহমান শাস্ত্রী,
অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া সম্পাদক, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হল হল, ঢাবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *