নবরূপে সজ্জিত চট্টগ্রামের বিনোদন কেন্দ্রগুলো

চট্টগ্রাম মহানগর

Sharing is caring!

রূপ খুলেছে চট্টগ্রামের বিনোদন কেন্দ্রগুলো। ঈদ উপলক্ষে বিনোদন কেন্দ্রগুলো নতুন সাজে সাজছে। পেয়েছে নতুন অবয়ব। করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন। দেওয়া হয়েছে নান্দনিকতা। ছবির মতই ভাসছে নয়নাভিরাম পর্যটনকেন্দ্রগুলো। ঈদে প্রতিবারের মতো এবারও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীর ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গার সমুদ্র সৈকত, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা, ফয়েস লেকের এ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও সী ওয়ার্ল্ড, চট্টগ্রাম শিশু পার্ক, আগ্রাবাদ পার্ক, বিপ্লব উদ্যান, ফিরিঙ্গি বাজার নেভাল-২, কর্ণফুলী সেতু, বাটারফ্লাই পার্ক এবং আনোয়ারা পারকি সৈকত অন্যতম।
জানা যায়, প্রতিবছরই চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি লোক সমাগম ঘটে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে। ঈদের দিনই লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় পুরো সমুদ্রসৈকত। তাছাড়া এ বছর নতুন অবয়ব পেয়েছে সৈকতটি। সৌন্দর্য বর্ধন করে নানাভাবে নান্দনিকতা দেওয়া হয়েছে। ফলে অপরূপ রূপ পেয়েছে চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহত্তম এ পর্যটন কেন্দ্র।

অন্যদিকে, নয়নাভিরাম করা হয়েছে চট্টগ্রামের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানাকে। সমৃদ্ধ করা হয়েছে নানা রকম পশু-পাখি দিয়ে। নতুন সংযোজন হয়েছে মিনি এভিয়ারি (ছোট্ট পক্ষীশালা)। হল্যান্ড ৬ প্রজাতির ৩০০ পাখি নিয়ে নতুন অবয়ব নিয়ে যাত্রা করেছে এটি। ৩৪ লাখ টাকা (অবকাঠামো ব্যয় ২০ লাখ, পাখি ক্রয়ে ব্যয় ১৪ লাখ টাকা) ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে ন্যাচারাল মিনি এভিয়ারি। বর্তমানে এ চিড়িয়াখানায় আছে ৬৭ প্রজাতির সাড়ে তিন শতাধিক পশু-পাখি আছে। চিড়িয়াখানার টিকিট বিক্রির টাকায় নির্মাণ করা হয়েছে সীমানা প্রাচীর ও পশুদের জন্য দেওয়া হয় খাঁচা। চিড়িয়াখানার দেওয়ালগুলোকে দেওয়া হয়েছে নানা রূপ, বৈচিত্র।

চট্টগ্রাম শাহ্ আমানত আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরের পাশেই আছে বাটারফ্লাই পার্ক। ঈদের দিন থেকে ওই পার্কেও শুরু হয় তিনদিনব্যাপী উৎসব। ঈদ উপলক্ষে পার্কে নতুন ১০/১২ প্রজাতির প্রজাপতি ছাড়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে আছে প্রায় ৫০/ ৬০ প্রজাতির প্রজাপতি। প্রতিবছরই দুষ্প্রাপ্য প্রজাপতি দেখতে এখানে দর্শনার্থীর ভিড় জমে।

বহদ্দারহাটস্থ সিটি কর্পোরেশনের স্বাধীনতা কমপ্লেক্স, কাজীর দেউড়ির চট্টগ্রাম শিশুপার্ক, আগ্রাবাদ শিশুপার্ক, নগরীর ডিসি হিল, ভাটিয়ারি লেক, কাট্টলী সমুদ্র সৈকতেও প্রতিবছর দর্শনার্থীর ঢল নামে। তবে স্বাধীনাত কমপ্লেক্সের বিশেষ বৈশিষ্ট আছে। এটিকে বলা হয়, ‘মিনি বাংলাদেশ’। এ পার্কে আছে জাতীয় সংসদ ভবন, দরবার হল, কার্জন হল, সোনা মসজিদ, আহসান মঞ্জিল, হাইকোর্ট, লালবাগ কেল্লা, কান্তজিউর মন্দির, বড়কুঠি, ছোট কুঠি, পাহাড়পুর বিহার, সেন্ট নিকোলাস চার্চ, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, ট্রেনের নিচে ব্রিজ, ছয়টি কিউচ (বসার স্টল) আহসান মঞ্জিল। স্বাধীনতা পার্কের ভিতরে থাকা ও চিরন্তন পল্লী দেখতে দর্শনার্থীর উপচেপড়া ভিড়।

এছাড়া নগরের বাইরে বাঁশখালী ও সীতাকুন্ডের ইকো পার্ক, রাউজানের রাবার বাগান, মীরসরাইয়ের মুহুরী প্রজেক্ট, ফটিকছড়ির চা বাগান, মীরসরাইয়ের সুন্দরী ঝর্ণা, সীতাকুণ্ডের সহস্রধারা-সুপ্তধারা ঝর্ণা, আনোয়ারার পারকি সৈকতসহ বিভিন্ন বিনোদন স্পটে বিনোদন প্রেমীরা সোৎসাহে ভ্রমণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *