ঈদে নেতাকর্মীদের ভীড়ে চাঙ্গা ছালামের বাসা, মেজবান বাড়লো একদিন

চট্টগ্রাম মহানগর

Sharing is caring!

অন্যান্য বছর ঈদ উপলক্ষ্যে দলীয় নেতা কর্মী ও নগরীর জনসাধারনের জন্য দুদিন ব্যাপী মেজবান আয়োজন করলেও এবার একদিন বাড়িয়ে তিনদিন ব্যাপী মেজবান করেছেন এবারের ঈদে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের ঈদে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে আসা নেতাকর্মীদের পরিমান বাড়ায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কিছুদিন পরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন। গুঞ্জন রয়েছে এই নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন করতে দেখা যেতে পারে সিডিএর এই সাবেক চেয়ারম্যানকে। আব্দুচ ছালামের বাড়িতে হঠাৎ করে নেতাকর্মীদের ভীড় বাড়াকে এজন্য ইতিবাচকভাবেই দেখছেন ছালামের শুভাকাঙ্খীরা৷ তারা বলছেন চট্টগ্রামের উন্নয়নে শেখ হাসিনার প্রতিনিধি হিসেবে দশ বছর সফলতার সাথে কাজ করায় আগামীতে তাকে মেয়র হিসেবে পাওয়ার জন্য জনগনের মধ্যে একটা দারুণ উৎসাহ তৈরি হয়েছে। তার ফলস্রুতিতে ছালামের বাড়িতে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভীড় দিনদিন বাড়ছে। আবদুচ ছালাম দীর্ঘ ১০ বছর সিডিএ’র দায়িত্ব পালনকালে অত্যন্ত সফলতার সাথে চট্টগ্রামের সামগ্রিক উন্নয়নে অনন্য ভুমিকা পালন করেন। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে খাল খনন ও পরিস্কার প্রকল্পের পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, যানজট নিরসনে ফ্লাইওভার সহ বিভিন্ন রোড নেটওয়ার্ক প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করেন। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনসাধারন তাই আবদুচ ছালাম কে আগামীতে চট্টগ্রামের মেয়র প্রার্থী হিসেবে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করছেন।এছাড়া সিডিএ থেকে বিদায় নেয়ার পর থেকেই সব মহলেই এই বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা শুনা যাচ্ছে।

তবে কি সিটি নির্বাচনে অংশ নেয়ার গুঞ্জনটা সত্যি? এই বিষয়ে জানতে আবদুচ ছালামের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে সুযোগ দিয়েছেন বলেই চট্টগ্রামের উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি এবং যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি। গত দশ বছরে কি করেছি, কি করতে পেরেছি তার বিচারের ভার আমার প্রিয় চট্টগ্রামবাসীর উপর ছেড়ে দিলাম। আর নির্বাচনের ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা। আমার নেত্রী আমাকে যেখানেই যোগ্য মনে করবেন সেখানেই আমি আমার সততা এবং শ্রম দিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাব। আমার চাওয়া পাওয়ার ও কিছু নেই। আমি সবসময় নেত্রীর দেওয়া দায়িত্ব পালনে নিজেকে সবসময় প্রস্তুত রাখি।

আবদুচ ছালামের ছোট ভাই বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিল চট্টগ্রাম জেলার আহবায়ক ও বঙ্গবন্ধু ছাত্র যুব উন্নয়ন পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, “আসলে আমরা কিছুই জানি না। এবার ঈদে চট্টগ্রামের সকল ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভীড় অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশীগুন লক্ষ্য করা গেছে এটা ঠিক। ১৯৯৬ সাল থেকে মরহুম এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরীর পরামর্শে আমাদের বাড়ীতে ঈদের দিন ও ঈদের পরের দিন দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের জন্য মেজবান আয়োজন করছি। এবার অনেক দূর থেকে ও নেতাকর্মীরা ঈদ শুভেচ্ছা জানাতে এসেছেন আমাদের বাসায়। সত্যি বলতে ভেবেছিলাম বড় ভাই যেহেতু সিডিএ’র দায়িত্বে আর নাই তাই মানুষজনও কম আসতে পারে। কিন্তু দেখা গেল গত ৪/৫ বছরের তুলনায় বেশী আসছে। তাই আয়োজনটা এক দিন বাড়াতে হল।

বড় ভাইয়ের মেয়র নির্বাচনের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমাদের পরিবারে কোন আলাপ আলোচনা হয় নি। আমার বড় ভাই ও মেঝ ভাই কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ নুরুল ইসলাম সব সময় বলেন নেত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে আমরা সদা প্রস্তুত থাকব। তবে সাধারন মানুষের মুখে মুখে যেটা শুনছি সেটা তাদের ব্যক্তিগত অভিপ্রায়। বড় ভাই নির্বাচন করবেন নাকি করবেননা সেটা একমাত্র নেত্রী ভাল জানেন। আপনাদের মাধ্যমে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের আন্তরিক ধান্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। সবাইকে ঈদ মোবারক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *