‘এবারের বাজেট উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রাথমিক ভিত রচনার বাজেট’

অর্থনীতি

Sharing is caring!

দুদিন পর আগামী ১৩ জুন ঘোষিত হতে যাচ্ছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট। কেমন হতে যাচ্ছে এবারের বাজেট? এই বাজেটে চট্টগ্রামের জন্য কি থাকছে? এসব প্রশ্ন নিয়ে আমরা সিনিউজ অনলাইন মুখোমুখি হয়েছিলাম বাংলাদেশের অর্থনীতির স্বর্ণদ্বার খ্যাত চট্টগ্রাম বন্দর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল লতিফ এমপির। বাজেট ও চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে নানা খুটিনাটি আলোচনার কিছু অংশ পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হলো-

সিনিউজ অনলাইন:- দুইদিন পরেই বাজেট অধিবেশন, কেমন হতে পারে এবারের বাজেট?

আব্দুল লতিফ:- বিগত বাজেটে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির অবকাঠামোগত উন্নয়ন সহ শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য সব খাতেই একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন প্রতিফলিত হয়েছিল। এবারের বাজেটে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার জন্য প্রাথমিক ভিত রচনার সমস্ত বরাদ্ধগুলো থাকবে ইনশাআল্লাহ। আগামী বাজেটের পরে যে বাজেটগুলোতে যে বরাদ্ধগুলো থাকবে সেগুলোতে বাংলাদেশকে এশিয়া অঞ্চল তথা বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশে রূপান্তরিত করতে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার যে স্বপ্ন তারই প্রতিফলন আমরা দেখবো।

সিনিউজ অনলাইন:- প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা, এই বিরাট ঘাটতি নিয়ে বাজেট বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে?

আব্দুল লতিফ:- আমাদের দেশে অতীতেও আপনারা দেখেছেন বাজেটে ঘাটতি ছিল। বাংলাদেশ একটি ম্যাজিক অর্থনীতির দেশ। এই সোনার বাংলায় অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন বঙ্গবন্ধু কন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা। আমাদের দেশের মানুষ অত্যন্ত ক্রিয়েটিভ। আমাদের অর্থনীতির মজবুত ভিতের পেছনের রহস্য এখন পর্যন্ত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, বিশ্বব্যাংকও খুঁজে বের করতে পারে নি। আমি মনে করি আমাদের দেশের দক্ষ নেতৃত্ব ও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ততা, ক্রিয়েটিভিটির কারণে বাজেট ঘাটতি কাটিয়ে আমাদের বাজেট একটি সফল বাজেট হিসেবে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

সিনিউজ অনলাইন:- দেশের অর্থনীতির লাইফ লাইন চট্টগ্রাম। এখানকার ব্যবসায়ীদের নেতৃত্ব দিয়েছেন দীর্ঘদিন। বাজেটে চট্টগ্রামের জন্য বিশেষ কিছু আশা করছেন কিনা?

আব্দুল লতিফ:-চট্টগ্রামের জন্য বিগত বাজেটে কি পরিমান বরাদ্দ এসেছে তা আপনারাও দেখেছেন। বাংলাদেশের অবকাঠামোর উন্নয়নের প্রায় ৪০ শতাংশ বরাদ্দ চট্টগ্রামই পেয়েছিল। তার মধ্যে মাতারবাড়ি পাওয়ার প্ল্যান্ট, কর্ণফুলী ট্যানেল, চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি আরো ৪ টি নতুন বন্দর, যেমন পতেঙ্গা টার্মিনাল, বে টার্মিনাল, লালদিয়া টার্মিনাল, এবং মুরাদপুর টার্মিনালের মত নৌ অবকাঠামো নির্মিত হতে যাচ্ছে।

চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ ক্ষেত্রেও একটি অভাবনীয় পরিবর্তন এসেছে আপনারা দেখেছেন। এছাড়া চট্টগ্রামে অনেকগুলো ফ্লাইওভার হয়েছে। দেশের সবচেয়ে বড় ইকোনমিক জোন চট্টগ্রামে মিরসরাইয়ে হচ্ছে,এছাড়া আনোয়ারা বাঁশখালিতে আরো দুটি ইকোনমিক জোন পাইপ লাইনে আছে, যেগুলো বাস্তবায়নের পথে৷ সার্বিকভাবে পাওয়ার জেনারেশন বলেন, ডীপ সী পোর্টের কার্যক্রম সহ অন্যান্য অবকাঠামো তৈরি হচ্ছে। চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের অর্থনীতিত স্বর্ণদুয়ার বলা হয়। চট্টগ্রামকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমস্ত বড় বড় প্রকল্পগুলো চট্টগ্রাম অঞ্চলে দিয়ে যাচ্ছেন। আমি মনে করি চট্টগ্রামের যে ভৌগলিক অবস্থান এবং চট্টগ্রাম আশিয়ান ও সার্কের সংযোগস্থল। সুতরাং ইস্ট ওয়েস্টের কানেকশনের জন্য এই চট্টগ্রাম যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ, নেত্রীও দেশের সব বড় বড় প্রকল্পগুলো এখানে দিচ্ছেন আমি মনে করি দেশের অর্থনীতিতে চট্টগ্রামের যে প্রোটেশিয়েলিটি আছে তার প্রত্যাশা অনুযায়ী চট্টগ্রাম ভাল গুরুত্ব পাবে।

সিনিউজ অনলাইন:- সামগ্রিকভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা আসছে দীর্ঘদিন ধরে, বন্দর আসনের সাংসদ হিসেবে এই বিষয়ে আপনার কোন পরিকল্পনা আছে কিনা?

আব্দুল লতিফ:- আমি সংসদ সদস্য হিসেবে ১১ বছর ধরে আছি। স্বাধীনতা পরবর্তীতে বন্দরে সিসিটি নামক একটি টার্মিনাল ছাড়া অন্য কোন নতুন প্রকল্প চট্টগ্রাম বন্দর গ্রহন করতে পারেনি। যার কারনে ১১০ একর জায়গায় উপর যে বন্দর বৃটিশ আমলে তৈরি হয়েছিল সে বন্দরের পরিধি বাড়েনি। এখন ৫ টা টার্মিনাল হয়েছে, এগুলো সবগুলো চট্টগ্রাম বন্দরের আওতাধীন, বন্দর এখন মহেশখালী থেকে মিরসরাই পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা আগের চেয়ে প্রায় পাঁচ গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা আশা করছি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই সক্ষমতা বিশ গুন বেড়ে যাবে। আমি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সেই কথাটির পূনরায় উল্লেখ করতে চাই, বাংলাদেশ শুধু দক্ষিন পূর্ব এশিয়া নয় পৃথিবীর অন্যতম একটি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ ও অগ্রসরমান জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্য বন্দর অবকাঠামো উন্নয়ন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। চট্টগ্রাম বন্দর এখন পাঁচটি প্রকল্প হাতে নিয়ে খুব তড়িৎ গতিতে উন্নয়ন প্রকল্প সমাপ্তির পথে। বন্দর ইতোমধ্যেই একটি মর্ডান বন্দর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *