হত্যা মামলায় কারামুক্তির পর মসজিদের মিম্বরে কাউন্সিলরের বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক

চট্টগ্রাম মহানগর

Sharing is caring!

চট্টগ্রামে আলোচিত মহিউদ্দিন সোহেল হত্যা মামলায় জামিন মুক্তি পেয়েছেন এই মামলার প্রধান আসামি স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাবের আহমেদ সওদাগর। গত বৃহষ্পতিবার জামিনের বের হওয়ার একদিনের মাথায় স্থানীয় মসজিদে জুম্মার খুতরার পর বক্তব্য দেন তিনি। এই বক্তব্যকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

জানা গেছে বৃহস্পতিবার (২০ জুন) হাই কোর্ট থেকে পাওয়া জামিনে চট্টগ্রাম কারাগার থেকে মুক্তি পান সাবের আহমেদ সওদাগর। আজ শুক্রবার (২১ জুন) পশ্চিম নাছিরাবাদ জামে মসজিদে জুম্মার নামাজে অংশ নিয়ে খুতবার পর মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন তিনি। বক্তব্য তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে দাবি করে তিনি সবার কাছে দোয়া চান।

এই বিষয়টিকে দুঃখজনক মন্তব্য করে নিহত মহিউদ্দিন সোহেলের ছোট ভাই ও মহিউদ্দিন সোহেল হত্যা মামলার বাদী শিশির সিনিউজকে বলেন, একটা হত্যা মামলার এজাহার ভুক্ত প্রধান আসামী জামিনে মুক্তি পেয়ে মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে বক্তব্য দিচ্ছে এর চেয়ে দুঃখজনক আর কি হতে পারে। এই বিষয়টা মেনে নিতে পারছি না।

এছাড়া তাদেরকে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি দেয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, পরোক্ষভাবে আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের প্রতিনিয়ত বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি দেয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে আমরা আগেই পাহাড়তলী থানায় একটা সাধারণ ডায়েরি করেছি। সবসময় একটা আতংকে থাকি। তার উপর মামলার প্রধান আসামী জামিনে বের হয়ে আসায় এখন আরো অনিরাপদবোধ করছি। এছাড়া জামিনে মুক্তি পেয়ে আসামীরা বিভিন্নভাবে মামলাকে প্রভাবিত করতে পারে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে শিশির বলেন, আমরা শুধু অনিরাপত্তায় ভুগছি না, আমরা আশঙ্কা করছি জামিনে বের হয়ে ক্ষমতা ও অর্থের প্রভাব খাটিয়ে এই মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হতে পারে।

মসজিদে মামলা প্রসঙ্গে কথা বলার বিষয়ে জানতে চাইলে সাবের আহমেদ সওদাগর সিনিউজকে বলেন, আমি এই মসজিদ কমিটির সভাপতি আমি মসজিদে কথা বলবো না? জামিনে বের হওয়ার পর নামাজ পড়তে যাওয়ার পর মুসল্লীরা আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। এসময় আমি সবার উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলেছি। সবার কাছে দোয়া চেয়েছি। এটা নিয়ে বিতর্ক করার কি আছে? যারা বিতর্ক করছে তাদের জিজ্ঞেস করুন আমি কি আমার পরিবারের সাথে থাকতে পারবো কিনা, নাকি আমার সেই অধিকারও নেই।

এর আগে সাবের আহমেদ উচ্চ আদালত থেকে একমাসের অন্তবর্তিকালীন জামিনে ছিলেন। তাকে এক মাসের মধ্যে নিম্ম আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিতে নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত। ২৮ মে চট্টগ্রামের মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত বাদী ও বিবাদী পক্ষের বক্তব্য শুনার পর সাবের আহমেদের জামিনে আবেদন বাতিল করে কারাগারে পাঠায়। তার ২৩ দিনের মাথায় আবারো উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেন তিনি।

উল্লেখ্য গত ৭ জানুয়ারী সোমবার সকাল ১১টার দিকে পাহাড়তলী রেলওয়ে কাঁচা বাজারে চাঁদাবাজির অভিযোগে স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ীরা মহিউদ্দিন সোহেলকে গণপিটুনী ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। খুনের ঘটনায় নিহত মহিউদ্দিন সোহেলের ছোট ভাই শিশির বাদী হয়ে পরদিন রাতে নগরের ডবলমুরিং থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১২ নম্বর সরাইপাড়া ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাবের আহমদ সওদাগর, নগর জাতীয় পার্টির সহসভাপতি ওসমান খানসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *