অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে লালবোটে উঠতে অস্বীকৃতি; চার যাত্রীকে মেরে নদীতে ফেলে দিল ঘাটের কর্মীরা

চট্টগ্রাম মহানগর

Sharing is caring!

সন্দ্বীপের কুমিরা গুপ্তছড়া ঘাটের সন্দ্বীপের পার্শ্বে দুই প্রবাসী সহ চার যাত্রীকে পিটিয়ে আহত করেছে ঘাট ইজারাদারের লোকজন। সার্ভিস বোট থেকে কূলে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত লালবোটে অতিরিক্ত যাত্রী হিসেবে উঠতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাদের উপর এই হামলা হয়েছে বলে জানা গেছে৷

হামলার শিকার হওয়া ঐ চার ব্যাক্তির নাম মানিক, সোহেল, শিবলু ও শিহাদ৷ তারা মুছাপুরের আলীমিয়ার বাজার এলাকার মান্দিরগো বাড়ির বাসিন্দা। জানা গেছে সোহেল ও শিবলু দুজন প্রবাস থেকে বাংলাদেশে এসেছেন সদ্য৷ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে আজ চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ যান তারা। এসময় তাদের ছোট ভাই শিহাদ, পিতা মানিক, মা, সোহেলের স্ত্রী -সন্তান ও বোন তাদের সাথে ছিল। সন্দ্বীপের কূলে যাওয়ার পর সার্ভিস বোট থেকে যাত্রীদের কূলে নামানোর জন্য আসা লাল বোটে অতিরিক্ত যাত্রী উঠায় সেই বোটে উঠতে অস্বীকৃতি জানায় সোহেল। সে বোটের স্টাফদের জানায় তার সাথে তার ছোট বাচ্চা আছে, মা বোন স্ত্রী আছে,সে পরের বোটে যাবে। এই কথা বলার সাথে সাথে স্টাফদের একজন সোহেলকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে৷ গালির প্রতিবাদ করার পর স্টাফরা প্রথমে সোহেলকে ধাক্কা দিয়ে সার্ভিসবোট থেকে লাল বোটে ফেলে দেয়। পরে সেখানে তাকে বেধড়ক পেটায়। সোহেলকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার পিতা মানিক ও ছোট দুই ভাই শিবলু ও শিহাদকেও মারধর করে ঘাট ইজারাদারের লোকজন। এসময় সার্ভিস বোটে থাকা যাত্রীরা বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে ইজারাদারের লোকজন লালবোট চালিয়ে সার্ভিস বোট থেকে দূরে সরে যায়। সেখানে ঐ অবস্থায় আরেক দফা মারধর করা হয় তাদের। পরে কূলের কাছাকাছি এলে একজন কর্মচারী সোহলকে লাথি দিয়ে নদীতে ফেলে দেয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আরাফাত রহমান সাব্বির সিনিউজ অনলাইনকে জানিয়েছেন, হঠাৎ করেই দেখি ঘাটের লোকজন মিলে লালবোটে ফেলে একজনকে মারছে। এরপর ঐ লোককে বাঁচাতে ২/৩ জন সার্ভিস বোট থেকে লাফিয়ে লাল বোটে যায়। সাথে সাথে তারা লালবোটটা সার্ভিস বোটের কাছ থেকে সড়িয়ে নেয়। কতদূর নিয়ে গিয়ে নৌকা থামিয়ে নদীর মাঝখানে তাদের আবার পেটানো হয়। পরে কূলে নিয়ে লাথি মেরে বোট থেকে ফেলে দেয়। সবচেয়ে খারাপ লেগেছে ঐ মানুষটা একজন প্রবাসী। তার স্ত্রী,ছোট একটা মেয়ে আর মা বোন ঐ সময় ঐ সার্ভিস বোটে ছিল।

এই বিষয়ে সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ শরিফুল আলম সিনিউজ অনলাইনকে বলেন দুপুরের দিকে ঘাটের শ্রমিকদের দ্বারা হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ নিয়ে চারজন এসেছিল থানায়। তারা অভিযোগ না করে চলে যেতে চাইলো। বললো তারা এটা আলোচনা করে সমাধান করবে। কিন্তু আমরা তাদের বুঝিয়ে বলেছি একটা লিখিত অভিযোগ করার জন্য। তারা ইতোমধ্যে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে। আমরা ঘটনাটা দেখছি।

এই বিষয়ে কথা বলার জন্য ঘাট ইজারাদার এস এম আনোয়ার হোসেনকে মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য এর আগে ২০১৭ সালের ২ এপ্রিল অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে কূলে ভীরতে গিয়ে একটি লালবোট উল্টে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল এই ঘাটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *