নতুন পদ্ধতিতে চট্টগ্রামে গণপরিবহনে সক্রিয় প্রতারক চক্র, অতিষ্ঠ নগরবাসী

চট্টগ্রাম মহানগর

Sharing is caring!

ইমরান হোসেন:- বানিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে প্রায় সব পেশাজীবি মানুষের বাস। দৈনন্দিন যাপিত জীবনের রসদ যোগানের জন্য ছুটে চলে এ নগরীর প্রতিটি দায়িত্বশীল মানুষ। পেশাগত ভিন্নতায় সকাল হতেই ছুটে চলে যে যার কর্মস্থলে। এঁদের মধ্যে বেশিরভাগই মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্ত যারা লোকাল বাসের যাতায়াত করতে অভ্যস্ত। মধ্যবিত্তের কিবা নিন্মবিত্তের গন্ডিতে থাকা মানুষগুলো অসীম স্বপ্ন নিয়ে লোকাল বাসের হ্যান্ডেলে ঝুলে-দাঁড়িয়ে কিবা বসেই যায়।

যোগাযোগ ব্যবস্থার অবনতির ফলে রাস্তায় প্রায়শই জ্যাম লেগেই থাকে। আর এই সুযোগে পকেটমার এর উৎপাত যেন খুব স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। এখন ছিনতাইয়ে নতুন মাত্রা হিসেবে যোগ হয়েছে বমি’র ফাঁদ। গাড়ীতে ভিড়ের মধ্যে একটা চক্র সংঘবদ্ধভাবে অভিনব এ কায়দায় যাত্রীদের থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে মোবাইল, টাকা-পয়সা থেকে শুরু করে হাতের নাগালের সর্বস্ব।
এ নিয়ে ভুক্তভোগীরা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বেশ কয়েকবার সোস্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু পোস্ট শেয়ার করেছিলো।
কিন্তু এসবেও থামছেনা প্রতারক চক্র বরং আগের চেয়েও বেড়েছে। প্রশাসনের সুষ্ঠু নজরদারির অভাবে কথিত এসব প্রতারক চক্রের আধিপত্য ক্রমশ বেড়েই চলেছে বলেও মন্তব্য করেছেন বেশ ক’জন যাত্রী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে নগরীর বহদ্দারহাট, চকবাজার, কোতোয়ালি, জিইসি, আগ্রাবাদ এসব স্থানে বেশ কয়েকবার এ প্রতারক চক্রের সদস্যদের হাতে নিঃস্ব হতে হয়েছে অনেকেরই। বিশেষ করে ১ নং, ২ নং ও ১০ নং রুটের সিটি বাসগুলোতে এসব প্রতারক চক্র বেশ সক্রিয়। বেশ কয়েকবার হাতেনাতে ধরা পড়লেও বাস চালকের থেকে সাহায্য সহযোগীতা চাইলেও বাস চালকেরা নীরব এসবে।

পাশের দুয়েকজন যাত্রী এগিয়ে আসতে চাইলেও যাত্রী বেশে ভালো মানুষের মুখোশে ওঁত পেতে থাকা এ চক্রের সদস্যরা উল্টো দোষ খোঁজে। কাজেই প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া এঁদের প্রতিহত করা অনেকটাই অসম্ভব বলে মনে করেন এসব রুটের যাত্রীরা।

নতুন এই চক্রের কাজের ধরন সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ৪-৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ গ্রুপ যাত্রীদের টার্গেট করে যাত্রী-বেশে বাসে উঠে যায়। ভিড়ের মধ্যে টার্গেট করা যাত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে সুযোগ খুঁজতে থাকে। সুযোগ বুঝে টার্গেট করা যাত্রীর গায়ে বমি করে যাত্রীকে বিব্রত অবস্থায় ফেলে। প্রথমজন বমি করেই আড়াল হয়ে যায়, সম্ভব হলে বাস থেকে নেমে যায়। এরপর এ চক্রের একজন টিস্যু এগিয়ে দেয়। ভুক্তভোগী যাত্রী যখন দাঁড়িয়ে বমি মুছতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে সেই সুযোগে এ চক্রের বাকি সদস্যরা ধাক্কাধাক্কির শুরু করে দেয় এবং একটা সময় ভুক্তভোগী যাত্রীর মোবাইল, মানিব্যাগ ও সাথে থাকা সর্বস্ব হাতিয়েই নেমে যায়। আর এত্ত দ্রুততম সময়ে এ প্রতারক চক্র এসব করে ফেলে যে, যে কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই তারা লাপাত্তা হয়ে যায়। এমনকি ভুক্তভোগী যাত্রীও অনেক সময় টেরই পান’না যে কি ঘটেছিল”।

প্রত্যক্ষদর্শী নগরীর ১০ নং সিটি বাসের যাত্রী মোঃ কামাল(২৯) এর ভাষ্যমতে, “চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সুবাদে নিয়মিত বহদ্দারহাট থেকে যাওয়া আসা করতে হয়। ভিড়ের মধ্যে থেকে শুধুমাত্র পকেটমারের বিষয়টি সবারই জানা। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে এক শ্রেণীর প্রতারক চক্রের উৎপাতে অতিষ্ঠ প্রায়। অভিনব কায়দায় যাত্রীদের গায়ে বমি করে সুযোগবুঝে সব হাতিয়ে নেয়।গত কয়েকদিন আগেও এ প্রতারক চক্রের হাতে নিঃস্ব হয়ে কান্নাকাটি করে বুক ভাসিয়েছেন এক বৃদ্ধ।”

এই বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপির ডবলমুরিং জোনের সহকারী কমিশনার আশিকুর রহমান সিনিউজকে বলেন, ইতোমধ্যে এই বিষয়ে কিছু আলাপ শুনেছি। তবে আমার জোনে এরকম ঘটনা ঘটেছে বলে কোন অভিযোগ পাইনি৷ আমরা সব সময় ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে যেভাবে ব্যবস্থা নিই সেভাবেই এই বিষয়টা দেখা হবে।

প্রায় একই মন্তব্য কোতোয়ালি জোনের সহকারী কমিশনার নোবেল চাকমার। সিনিউজকে তিনি বলেন, এই ধরণের কোন অভিযোগ আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। তবে এই নতুন পদ্ধতির কথা শুনেছি৷ কোন অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিব।

সিনিউজ অনলাইন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *