আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারে যে কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় জলজটের

চট্টগ্রাম মহানগর সিডিএ

Sharing is caring!

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার খবর নতুন কিছু নয়। তবে জলাবদ্ধতার এই সমস্যা এবার দেখা গেছে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারেও। সামান্য বৃষ্টিতেও পানি জমে যাচ্ছে এই ফ্লাইওভারে। এতে একদিকে যেমন জনদুর্ভোগ বাড়ছে পাশাপাশি জীবন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে চালকদের।

নগরীর জলাবদ্ধতা নিয়ে দীর্ঘদিনের তিক্ত অভিজ্ঞতার সাথে নতুন করে ফ্লাইওভারে জলজট সৃষ্টি হওয়ায় যারপরনাই বিরক্ত নগরবাসী। একটা পক্ষ দাবি করছে ফ্লাইওভার নির্মানের পরিকল্পনায় ভুল থাকার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে৷ তবে ফ্লাইওভার নির্মানের প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা সিডিএ বলছে ভিন্ন কথা৷

আবুল হাশেম নামে একজন সিনিউজকে বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই ফ্লাইওভারে পানি জমে যাচ্ছে। অনেক সময় জমে যাওয়া এই পানি উপড় থেকে ঝরণার মত নিচে পড়ছে। এতে পথ চলায় যাত্রীদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়৷ অন্য দিকে পানি জমে থাকায় ফ্লাইওভারে যানচলাচলও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করা হয় সিডিএর নির্বাহী প্রকোশলী ও প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমানের সাথে। সিনিউজকে তিনি বলেন, ফ্লাইওভারের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোন সুযোগ নেই। পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আছে। ফ্লাইওভারে জলজটের কারণ হিসেবে তিনি রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যা ও মানুষের অসচেতনতাকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ফ্লাইওভারের পানি নিষ্কাশনের জন্য দেয়া পাইপগুলোর মুখ বিভিন্ন পলেথিন জাতীয় প্যাকেট ও বালু দিয়ে বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলেই পানি জমে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে অনেক বালুবাহী ট্রাক আসা যাওয়া করে৷ যেগুলোর সব গুলোই খোলা ট্রাক। ফলে সেসব ট্রাক থেলে বালু পড়ে ফ্লাইওভারে জমা হয়। বৃষ্টির সাথে সেসব গিয়ে জমাট বাধে পানি নিষ্কাশনের জন্য দেয়া পাইপগুলোর মুখে। ফলে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা হয়।

রবিবার (৭জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে পানি নিষ্কাশনের জন্য ফ্লাইওভারে লাগানো পাইপগুলোর মুখে জমে আছে চিপসের প্যাকেট, বালু ও মাটি। এই বালু, মাটি, পলেথিন আর বিভিন্ন ময়লা আবর্জনা জমে পানি নিষ্কাশনের জন্য লাগানো পাইপগুলোর মুখ বন্ধ হয়ে আছে।

এই সমস্যার সমাধান প্রসঙ্গে মাহফুজুর রহমান বলেন, আমরা ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছি। ফ্লাইওভারের রক্ষণাবেক্ষণ কাজে লোকবল সংকট থাকায় কিছুদিন এই সমস্যা হয়েছে। নিয়মিতভাবে ফ্লাইওভার পরিষ্কার করা গেলে এই সমস্যা থাকবে না।

ফ্লাইওভারের পরিকল্পনাগত ভুল থাকা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেখুন অভিযোগ অনেক কিছুই থাকবে। এই ফ্লাইওভারের কাজ শুরু থেকেই অনেকে এটাকে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প হিসেবে অভিযোগ করেছিল। কিন্তু পরে কি দেখা গেল? এই ফ্লাইওভার চালু হওয়ার পর মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি,লালখান বাজারের যানজট একেবারেই চলে গেছে। তখন বলা হয়েছিল এই ফ্লাইওভার কেউ ব্যবহার করবে না। এখন এই ফ্লাইওভার কতটা ব্যবহার হয় তা সবাই দেখছে।

উল্লেখ্য আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার প্রকল্প ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদন দেয়। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয় ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত।

৫ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৫৪ ফুট প্রস্থের ফ্লাইওভারটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৬৯৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ফ্লাইওভারের মূল অবকাঠামো তৈরির ব্যয় ৪৫০ কোটি ও র‌্যাম্প-লুপ তৈরির ব্যয় ২৪৬ কোটি টাকা । ২০১৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ শুরু হয়।

এ ফ্লাইওভার মুরাদপুর এন মোহাম্মদ কনভেনশন সেন্টারের সামনে থেকে জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদের পশ্চিম গেটের সামনে গিয়ে শেষ হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *