রাঙ্গুনিয়ার শিলকে বাঁধ ভেঙ্গে তিন গ্রাম প্লাবিত

উত্তর চট্টগ্রাম বৃহত্তর চট্টগ্রাম

Sharing is caring!

ইমরান হোসেন:- চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত শিলক ইউনিয়ন। টানা তিনদিনের ভারী বর্ষণে এ ইউনিয়নের মরমের মুখ এলাকার বাঁধ ভেঙ্গে পানিতে প্লাবিত হয়েছে তিনটি গ্রাম।
পানিতে ডুবে গেছে রাস্তা
জানা গেছে অতিবর্ষণে মরমের মুখ বাঁধ ভেঙ্গে রাজাপাড়া,
হাজারীখীল ও মেহেদীর তালুক এই তিনটি গ্রামের বসত বাড়িতে পানি উঠেছে। তলিয়ে গেছে বেশিরভাগ রাস্তা-ঘাট। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় তিন শতাধিক পরিবার।

শনিবার (৬ জুলাই) সকাল থেকেই মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। যা খানিকক্ষণ থেমে-থেমে এখনও পর্যন্ত চলছে। অতিবর্ষণে এ ইউনিয়নের শিলক খাল সংলগ্ন মরমের মুখ এলাকার মাটির বাঁধ ভেঙ্গে পানিতে তলিয়ে গেছে এ তিনটি গ্রাম। ফলে নানামুখী ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এই গ্রামগুলোর মানুষজনকে। এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয়রা রাঙ্গুনিয়ার সাংসদ বর্তমান সরকারের তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদের একান্ত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
বসতবাড়িতেও উঠেছে পানি

স্থানীয়রা জানান, “অতিবর্ষণে বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় সোমবার দুপুর থেকেই পানি বাড়তে শুরু করে৷ এক পর্যায়ে গ্রামের সকলেকেই পানিবন্দী হতে হয়েছে। বসতবাড়িতে প্রায় ২ থেকে ৩ ফুট পর্যন্ত পানি হয়েছে। তবে রাতে বৃষ্টি না হলে পানি নেমেও যেতে পারে”।

স্থানীয় শিলক ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মহসিন জানান, “প্রতি বছরই ভারী বর্ষণে এ ইউনিয়নের আশাপাশের পাহাড়ি অঞ্চলের পানি ও পদুয়া ইউনিয়নের পানি মিলিয়েই মরমের মুখের বাঁধ ভেঙ্গে পানিতে তলিয়ে পানিবন্দী হতে হয়। এবারও এর পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। পানিতে তলিয়ে পানিবন্দী প্রায় তিন শতাধিক পরিবার। বিগত বছরগুলোতে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পরেও স্থায়ী কোন সমাধান হলো না”

শিলক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সিনিউজকে জানান, ” অতিবর্ষণে তার ইউনিয়নে শিলক খাল সংলগ্ন মরমের মুখ এর বাঁধ ভেঙ্গে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে ইতিমধ্যেই। তবে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
গতবছরও বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল।

তিনি বলেন, “আশেপাশের পাহাড়ি ধারার পানি ও পাশ্ববর্তী পদুয়া ইউনিয়নের পানিসহ মিলিয়ে সমস্ত পানি নিষ্কাশনের একমাত্র খাল এ ইউনিয়নের শিলক খাল। যার ফলে অতিবর্ষণে এ শিলক খাল সংলগ্ন মরমের মুখ এলাকার বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয়। গতবছর প্লাবিত হওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ থেকে এ বাঁধ সংস্কার করা হলেও তা স্থায়ী হয়নি।
আনি তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ’কে অবগত করেছি। তিনি স্থায়ী সমাধানে এ বাঁধ পুননির্মাণ করে ব্লক স্থাপনের বরাদ্দ দিয়েছেন”।

তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে তথ্যমন্ত্রী দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, দেশে এলেই খুব দ্রুততম সময়ে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *