ভাসতে ভাসতে ঘুরে আসুন ভিমরুলের ভাসমান পেয়ারা বাজার

পর্যটন ফিচার

Sharing is caring!

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ঘেরা বাংলাদেশের সর্ব বৃহত্তম ভিমরুলির ভাসমান পেয়ারা বাজার।ঘুরে বেড়াতে কার ভালো লাগে না।মনের প্রশান্তির খুঁজে ভ্রমণের কোন বিকল্প নেই।শত ব্যস্ততার মাঝে মন কে সতেজ করতে ভ্রমণপিপাসু মানুষ খুঁজে নতুন নতুন জায়গা।চাইলে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন বাংলাদেশের সর্ব বৃহত্তম ভাসমান পেয়ারা বাজার।

ভাসমান পেয়ারা বাজারের পরিচিতি:

বাংলাদেশের সর্ব বৃহত্তম পেয়ারা বাগানটি বরিশালের তিন জেলা ঝালকাঠি,বরিশাল,পিরোজপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত।এখানে ২৬টি গ্রামের প্রায় ৩১ হাজার একর জমির ওপর গড়ে তুলা হয় এই পেয়ারা বাগানটি।ঝালকাঠি জেলা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ভিমরুলিতে রয়েছে ভাসমান পেয়ারা বাজার।বছরের জুলাই,আগস্ট মাসে পেয়ারা মৌসুম হলেও মাঝে মাঝে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলে পেয়ারা বাজারটি।সব চেয়ে উপযোগী সময় হচ্ছে আগস্ট মাস।সকাল ১১টার আগ পর্যন্ত পেয়ারা বাজারটি খুব জমতে থাকে।তাই সকাল ১১টার আগে যাওয়া ভাল।এছাড়া ব্যাকওয়াটারে ঘুরে খালের সাথে লাগোয়া ঘরবাড়ি,স্কুল,ব্রিজ এবং রাস্তার সম্মোহনী রুপ উপভোগ করতে পারবেন।খালের মধ্য দিয়ে চলার সময় চাইলে হাত দিয়ে ভিমরুলের পেয়ারা ধরতে পারবেন।যদি তখন বৃষ্টি হয় তখন আরো সৌন্দর্য্যে মোহনীয় হয়ে উঠবে।চাইলে কুড়িয়ানা বাজারের ঋতুপর্ণা দোকানের গরম গরম রসগোল্লার স্বাদ নিতে পারেন।আর বাজারে বৌদির ঐতিহ্য হোটেল এ দুপুরের খাবার খেতে ভুলবেন না।ভাসমান পেয়ারা বাজার থেকে বরিশাল আসার পথে গুঠিয়া মসজিদ এবং দুর্গাসাগর দিঘী ঘুরে আসতে পারেন।

যাওয়ার নিয়ম:

এ অঞ্চলটিতে অনেকভাবে যাওয়া যায়। আপনি চাইলে নৌ, স্থল বা আকাশপথে যেতে পারেন। সবচেয়ে ভালো হলো নদীপথ, অর্থাৎ লঞ্চে যাওয়া।

১. নৌপথ :সদরঘাট থেকে প্রতিদিন রাত ৮টায় বরিশালের উদ্দেশে ছেড়ে যায় অনেকগুলো বিলাসবহুল লঞ্চ। কোনো একটা পূর্ণিমার রাতে উঠে পড়লে বোনাস হিসেবে পাবেন মনোরম জ্যোৎস্না বিলাস। এর জন্য আপনাকে ভাড়া গুনতে হবে ভিআইপি কেবিনের জন্য ৫০০০ থেকে ৭০০০ টাকা, সেমি ভিআইপি কেবিন ৪০০০ থেকে ৪৫০০ টাকা, ফ্যামিলি কেবিন ২৫০০ থেকে ৩৫০০ টাকা, ডাবল কেবিন ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা এবং ডেকে জনপ্রতি ২৫৫ টাকা।

আপনাকে সকাল ৭টায় বরিশাল নামিয়ে দেবে। সেখান থেকে নাশতা করে লেগুনা ঠিক করে ফেলুন স্বরূপকাঠি যাওয়ার জন্য। এক লেগুনায় ১৪ জন যাওয়া যায়। রিজার্ভ ভাড়া পড়বে ৪০০-৫০০ টাকা। ছোট গ্রুপ সিএনজি টাইপ টেম্পো ভাড়া করে নিন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দিয়ে। এরপর ১টা ৩০ মিনিট জার্নির পর পৌঁছে যাবেন স্বরূপকাঠি। সেখান থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া করে নিন সারা দিনের জন্য। ভাড়া পড়বে ২০০০ থেকে ৩০০০ টাকা। আকারভেদে প্রতিটি নৌকায় ১৫ থেকে ২০ জন মানুষ ধরে। কিছু ছোট নৌকাও পাওয়া যায় তবে খুব কম।

কোন লঞ্চে যাবেন :

ঢাকা-বরিশাল রুটে রেয়েছে অসংখ্য বিলাসবহুল লঞ্চ।এমভি সুরভী-৯, এমভি পারাবত-১১, এমভি সুন্দরবন-১০, এমভি কীর্তনখোলা-১০, এমভি কীর্তনখোলা-২।

২. স্থলপথ :ঢাকার গাবতলী থেকে সাকুরা পরিবহনের এসি বাসও যায় বরিশাল। ভাড়া ৮০০ টাকা। এ ছাড়া ‘হানিফ’, ‘ঈগল’, ‘সুরভী’ ও ‘সাকুরা’ পরিবহনের নন-এসি বাসও যায়, ভাড়া ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা। এ ছাড়া ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে বরিশাল যাওয়ার জন্য রয়েছে ‘সুগন্ধা’ পরিবহনের বাস।

কোথায় কোথায় যাবেন:

একটা ছাউনি লাগিয়ে নিতে বলবেন ট্রলারওয়ালাকে। তারপর বলবেন, প্রথমেই সরাসরি ভিমরুলি নিয়ে যেতে। কারণ ভিমরুলি হলো এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় ভাসমান পেয়ারা বাজার। ঘণ্টা দেড়েক সময় লাগবে তাতে। ভিমরুলি গিয়ে ঘণ্টাখানেক ঘুরে দেখুন ওখানকার বেচাকেনা। ১টা বাজলেই সরে পড়ুন এখান থেকে। এরপর বোটওয়ালাকে বলুন আটঘর স্কুলের কাছে নৌকার বাজারে নিয়ে যেতে। এরপর চলে যান কুড়িয়ানা বাজারে। সেখানে দুপুরের খাবার খেয়ে বোটে উঠুন। এবার বোটওয়ালাকে বলুন বানারীপাড়া/ নেছারাবাদ নামিয়ে দিতে। দুই জায়গাতেই বাস বা অটো পাবেন বরিশালের। বাসে বা অটোতে করে গুঠিয়া নেমে যান। ঘুরে দেখুন গুঠিয়া মসজিদ। ওখানে গুঠিয়ার সন্দেশ খেতে ভুলবেন না। এরপর অটোতে দুর্গাসাগর দীঘি।

খাবার কোথায় খাবেন:

কুড়িয়ানা বাজারে সকাল সন্ধ্যা হোটেল নামে একটি দোকান আছে (স্থানীয়ভাবে বৌদির হোটেল নামে পরিচিত)। এর রান্না খুবই ভালো। পাঁচ থেকে সাতজন গেলে আগে বলার দরকার নেই। বড় গ্রুপ গেলে অর্ডার দিয়ে যাবেন। বৌদির রেস্টুরেন্টে বসে তাজা মাছ দিয়ে দুপুরে খেয়ে নিন।

রাত্রি যাপন কোথায় করবেন:

যদিও এই ট্যুরে থাকার প্রয়োজন হয় না। সারা দিন ঘুরে আপনি রাতে লঞ্চ ধরে ফিরে আসতে পারেন। তারপর থাকতে চাইলে জেলা শহরের সাধারণ মানের হোটেলই একমাত্র ভরসা। ভালো কোনো হোটেলে থাকতে চাইলে যেতে হবে বরিশাল সদরে।

সতর্কতা :

যেহেতু পুরো ভ্রমণটা নদীকেন্দ্রিক, সেহেতু কিছু সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। অবশ্যই রেইনকোট, লাইফ জ্যাকেট নিয়ে আসবেন। মোবাইল টাকা-পয়সা রাখার জন্য ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগ বা পলিথিন নিয়ে আসলে ভালো হয়। জায়গাটা একটু প্রত্যন্ত, তাই জরুরি কিছু ওষুধ নিতে ভুলবেন না। দয়া করে যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করবেন না।

সিনিউজ/আনোয়ার হোসেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *