কেএসআরএমে চাকুরী নিয়ে বাংলাদেশে থেকে যেতে চান রবীন্দ্রনাথ

জাতীয়

Sharing is caring!

কেএসআরএমের কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ও ভালবাসায় মুগ্ধ হয়ে পাঁচ দিন বঙ্গোপসাগরে ভাসার পর উদ্ধার হওয়া সেই ভারতীয় জেলে রবীন্দ্রনাথ দাস বাংলাদেশে থেকে যেতে চান। কেএসআরএম এর কর্মকর্তাদের কাছে বাংলাদেশিদের আন্তরিকতা, মানবিকতা ও ভালবাসায় মুগ্ধ হয়ে এই ইচ্ছার কথা জানিয়েছে রবীন্দ্রনাথ।

শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকেল ৪ টায় চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমির ঘাটে উদ্ধার হওয়ার ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ দাস জানান ৫ জুলাই সীমান্তবর্তী এলাকা কেদুয়া থেকে কাঠের নৌকা নিয়ে মাছ শিকারে বের হন তারা। তিনি সহ মোট ১৫ জন জেলে ছিলেন ঐ নৌকায়। পরের দিন অর্থৎ শনিবার উত্তাল স্রোতের ধাক্কায় তাদের নৌকা উল্টে যায়। এরপর তারা ১৫ জন একটা বাঁশকে ধরে ২/৩ দিন এক সাথেই ছিলেন। পরে একজন একজন করে বিচ্ছিন্ন হয়ে তলিয়ে যেতে আরম্ভ করে। সর্বশেষ ব্যক্তি হিসেবে তিনি ও তার ভাতিজা স্বপন দাশ(২২) জীবিত ছিলেন। ভাতিজাকে বাঁচাতে তার গায়ে থাকা লাইফ জ্যাকেটটি খুলে দিয়েও ভাতিজাকে রক্ষা করতে পারেননি বলে জানান রবীন্দ্রনাথ। এমভি জাওয়াদ তাকে উদ্ধার করার ঘন্টা তিনেক আগে বড় একটি ঢেউয়ের সাথে সেও ভেসে যায়।

রবীন্দ্রনাথকে উদ্ধার করা খুব সহজ ছিল না জানিয়ে জাওয়াদের ক্যাপ্টেন এস এম নাছির উদ্দিন বলেন, আমরা ১০ জুলাই তাকে উদ্ধার করি। সকাল ১১ টায় তাকে আমরা দেখেছিলাম। তাকে যখন আমরা উদ্ধার করি তখন ঘড়িতে ঠিক ১২ টা ৪৫ মিনিট। আমাদের জাহাজ পেছনে ঘুরাতে হয়েছে। এখানে টেকনিক্যাল অনেক টার্ম ছিল। মানবিকতার জায়গা থেকে আমরা আমাদের সবটুকু সমার্থ দিয়ে চেষ্টা করেছি তাকে উদ্ধার করতে। তা করতে পেরে আমরা আনন্দিত। এই কাজে কোম্পানির সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে যথেষ্ট সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা পেয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথকে দেখতে পেয়ে সাথে সাথেই আমি হাই কমান্ডকে জানিয়েছি। উনারা আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন যেকোন মূল্যে তাকে উদ্ধার করার। তাছাড়া আমাদের ক্রুরা প্রত্যেকেই খুব অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে।

বাংলাদেশের মানুষের আন্তরিকতা ও ভালবাসায় নিজের মুগ্ধতার কথা জানিয়ে রবীন্দ্রনাথ বলেন, এদেশের মানুষ আমার জন্য যা করেছে তা আমি কখনোই ভুলবো না।বাংলাদেশের কোস্টগার্ডরা যদি একটু খুঁজে দেখে তাহলে বাকিদের খোঁজ মিলতে পারে৷

এদিকে উদ্ধারকৃত ভারতীয় জেলে রবীন্দ্রনাথকে ভারতে ফেরত পাঠানোর অংশ হিসেবে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করবে কেএসআরএম কর্তৃপক্ষ। বিকেল ৬ টার দিকে কোস্ট গার্ড কার্যালয়ে মেডিকেল চেকাপ শেষে সিএমপির পতেঙ্গা থানায় তাকে হস্তান্তর করা হবে।

কেএসআরএম এর সিও মেহেরুল করিমের তত্ত্বাবধানে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন নৌ বাণিজ্য অধিদপ্তরের প্রিন্সিপাল অফিসার ইঞ্জিনিয়ার সাজিদ হোসেন মাস্টার পুলক কুমার ভাস্কর, মেরিন সুপার ওসমান গনি, ডিপিএ-সিএসএ ফয়েজ আহমদ জুকব, ডাক্তার মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্রান্ড ম্যানেজার মনিরুজ্জামান রিয়াদ, মিজানুল ইসলাম প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *