‘প্রকল্পের কাজ শেষ হলে স্থায়ীভাবে সমাধান হবে জলাবদ্ধতার সমস্যা’

চট্টগ্রাম মহানগর সিডিএ

Sharing is caring!

জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ’র গৃহীত নানা প্রকল্প বাস্তবায়নে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করে নগরবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম।

এক বিবৃতিতে আবদুচ ছালাম বলেন,জলাবদ্ধতা সমস্যা একটি দীর্ঘদিনের জটিল সমস্যা যা বহু বৎসর যাবৎ চট্টগ্রামবাসীকে কষ্ট দিচ্ছে। কিন্তু অতীতে দেখা গিয়েছে অত্যন্ত সীমিত আকারে কিছু নিত্য নৈমিত্তিক কাজের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছিল যুগের পর যুগ। অথচ এই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রথমে উচিত ছিল জলাবদ্ধতার কারণ সমূহ চিহ্নিত করা এবং প্রকল্প গ্রহণ করে সরকারের অনুমোদন নিয়ে তার সঠিক বাস্তবায়ন করা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই কাজটি করার জন্য অতীতে কেউ সাহস করে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। পরে জলাবদ্ধতা সমস্যা যখন ভয়াবহ রুপ ধারণ করে চট্টগ্রামের অভিশাপ হিসেবে দেখা দিলো, তখন জননেত্রী শেখ হাসিনা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসলেন এবং সিডিএ কে নির্দেশ দিলেন এই সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য।

সেই অনুযায়ী সিডিএ জলাবদ্ধতার কারণ সমূহ চিহ্নিত করে নানা প্রকল্প গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
জলাবদ্ধতার কারণসমূহ চিহ্নিত করতে গিয়ে দেখা যায় যে, কর্ণফুলী নদীর ড্রেজিং নিয়মিত না করার কারণে নদী ভরাট হয়ে যায়। এতে করে যখন অতি বৃষ্টিপাত হয় কিংবা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাগর ও নদীর পানির উচ্চতা বাড়ে, তখন
জোয়ারের পানি শহরে ঢুকে যায়।

এছাড়াও খাল পারাপারের জন্য নির্মিত ব্রিজ ও কালভার্ট সমূহ নিচু হওয়া, ব্রিজের নিচে স্থাপিত বিভিন্ন পাইপ লাইনের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া, খালের পাড়ে যাতায়াতের জন্য কোন রাস্তা না থাকায় নিয়মিত খাল পরিস্কারে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়া, পাহাড়ের বালিতে খাল, নালা সমূহ ভরাট হয়ে যাওয়া, খাল ও নালার জায়গা অবৈধভাবে দখল করে নেয়া, খাল ও নালার মধ্যে পলিথিনসহ বিভিন্ন রকমের ময়লা আবর্জনা ফেলা এবং নগরায়নের কারণে জলাধারগুলো বিলীন হয়ে যাওয়া নগরে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ।

প্রথম প্রকল্প হিসাবে চাক্তাই খালের মুখ থেকে কালুরঘাট ব্রিজ পর্যন্ত ১২টি খালের মুখে স্লুইসগেটসহ রাস্তা কাম বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পসহ উপরোক্ত মোট পাঁটি বিষয়কে সামনে রেখে সিডিএ কাজ করছে। প্রথম প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে জোয়ারের পানি শহরে ঢুকতে পারবে না এবং অতি বৃষ্টিতে জমে থাকা পানি দ্রুত পাম্প আউট করা যাবে বলে অাশাবাদী চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম।

তিনি বলেন, তিন বছর মেয়াদের এই প্রকল্পের আওতায় খাল খনন, খাল পরিস্কার, খালের দুই পাশে দেয়াল নির্মাণ, নিচু ব্রিজ উঁচু করন, নিচের পাইপ লাইন সমূহ প্রতিস্থাপনকরন, খালের এক পাশে রাস্তা নির্মাণ, জলাধার নির্মাণ ও খালের ভিতর সিলট্রেপ সহ বহুমুখী কাজের জন্য ‘খাল খনন ও খাল সংস্কার’ নামে সিডিএ দ্বিতীয় প্রকল্প গ্রহণ করে। যা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এই দুইটি প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৮০০০ হাজার কোটি টাকা। চট্টগ্রামের ইতিহাসে একটি সমস্যা সমাধানে ৮০০০ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়ার মত দুঃসাহসিক উদ্যোগ কোন সরকার, কোন প্রতিষ্ঠান বা কোন ব্যক্তি অতীতে কোনদিন গ্রহন করেনি

এখন প্রকল্পগুলোর কাজ পুরোপুরি সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত এর সফলতা বা ব্যর্থতা নিয়ে মন্তব্য না করার অনুরোধ রেখে
আবদুচ ছালাম বলেন, প্রকল্প দুইটির কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এর সুফল মিলবে না। বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্ভোগ বৃদ্ধি পাওয়াটা স্বাভাবিক। অার সফলতা এবং ব্যর্থতার মাপকাঠি সময়ই বলে দেবে।

অন্যদিকে কালুরঘাট থেকে মদুনাঘাট ও পতেঙ্গা থেকে সদরঘাট পর্যন্ত ২৩টি স্লুইসগেটসহ হালদা এবং কর্ণফুলী নদীর পাড়ে ফ্লাডওয়াল নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। যা ইতিমধ্যে একনেক কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে এবং অতি শীঘ্রই উক্ত প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

এছাড়াও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ছয় বছর আগে শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য নতুন খাল খননের যে প্রকল্প গ্রহণ করেছিলেন তা পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত হয়ে ইতিমধ্যে চূড়ান্তভাবে একনেকের অনুমোদন পেয়েছে। অচিরেই এই কাজ শুরু হবে উল্লেখ করে সিডিএর সাবেক চেয়ারম্যান বলেন, ভরাট হয়ে যাওয়া কর্ণফুলী নদীর ড্রেজিং কাজও বন্দর কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ নৌ বাহিনীকে দিয়ে পরিচালনা করছে। উপরোল্লিখিত এই সমস্ত প্রকল্পগুলোর কাজ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত জলাবদ্ধতা সমস্যার পূর্ণাঙ্গ সমাধান আশা করা ঠিক হবে না।

নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সকলের আন্তরিক সহযোগিতার উপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, অবৈধভাবে দখলকৃত খাল ও নালার জায়গা ছেড়ে না দিয়ে জলাবদ্ধতামুক্ত নগরী আশা করা কঠিন। এবং নালা কিংবা খালে পলিথিনসহ যাবতীয় ময়লা আবর্জনা ফেলার অভ্যাস পরিবর্তন করার সময় এসে গেছে। জনগন সচেতন হয়ে এই দুইটি পদক্ষেপ যদি যথাযথভাবে নিতে না পারে, তাহলে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের সুদূরপ্রসারী সুফল পাওয়া যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *