সেই বার পাঁচ দিনের জন্য সমুদ্রে শয্যা পেতেছিলেন চট্টলবীর

ভাইরাল মতামত

Sharing is caring!

টানা ৫ দিন কাঠের নৌকায় করে সাগরপথে আসা যাওয়া, এর মধ্যে সাগরের বুকে ভাসমান কাঠের নৌকায় চলে নাওয়া খাওয়া ঘুম। এ যেন সাগরে শয্যা পাতা। আর টানা পাঁচ দিনের জন্য সাগরে শয্যা পাতা মানুষটি হলেন চট্টগ্রামের কিংবদন্তি রাজনীতিবিদ, প্রয়াত মেয়র চট্টলবীর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রয়াত মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। যেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে সাগরে ভাসমান কাঠের নৌকার ছাদে কয়েকজন সহকর্মী নিয়ে বসে আছেন এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। এভাবে কোথায় যাচ্ছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী, কি কাজে যাচ্ছিলেন তিনি এই প্রশ্নটি ঘুরেফিরেই বার বার আসছিল উৎসুক মানুষদের কাছ থেকে। সেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সিনিউজ অনলাইনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল ছবিতে মহিউদ্দিন চৌধুরীর সাথে থাকা তৎকালীন ছাত্রনেতা জামশেদুল আলম চৌধুরীর সাথে। সিনিউজকে তিনি জানিয়েছেন চমকপ্রদ সব তথ্য। সেই আলাপচারিতায় উঠে এসেছে এসব কথা।

জামশেদুল আলম জানান ১৯৯২ সালের ছবি এটি, বন্দরে পণ্য লোড আনলোডের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের সংগঠন ‘কার্গো শ্রমিক ইউনিয়নের’ সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়ার সময়ের ছবি এটি। সেবারে কার্গো শ্রমিক ইউনিয়নের সম্মেলন ছিল ভোলার বোরহানুদ্দীন উপজেলায়।

ভোলার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামের সদরঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকায় করে যাত্রা শুরু করেছিলেন তারা। সাথে ছিলেন ফটো সাংবাদিক দেবব্রত প্রসাদ দেবু। ছবিটি তাঁরই তোলা। চট্টগ্রাম থেকে ভোলা যেতে সেবার দুই দিন এক রাত সময় লেগেছিল তাদের। এর মধ্যে নৌকার মধ্যেই হয় নাওয়া খাওয়া। মাঝখানে রাতের বেলা চাঁদপুরের দিকে নোঙ্গর করে সেখানেই বোটের মধ্যে ঘুমিয়ে রাত কাটান মহিউদ্দিন চৌধুরী সহ সবাই। পরদিন সন্ধ্যায় ভোলায় পৌঁছেন তারা।

মহিউদ্দিন চৌধুরী আসবেন এই খবরে স্থানীয় নারী পুরুষ এমনকি শিশুরাও দল বেধে অপেক্ষা করছিল বেড়ীবাঁধের উপর৷ নৌকা থেকে নেমে স্থানীয়দের ভালবাসায় সিক্ত হন মহিউদ্দিন চৌধুরী৷ এর কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া ৯১ এর প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয় ক্ষতি তখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি ভোলার মানুষজন।

তার বর্ণনা দিয়ে জামসেদুল আলম চৌধুরী বলেন, হাজার হাজার মানুষ বেড়ীবাঁধের উপর দাঁড়িয়ে আছে। যাদের থাকার জায়গা নেই, খাবার নেই এমনকি গায়ে কাপড়ও নেই। কিছুদিন আগে হয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতি তারা তখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। মহিউদ্দিন চৌধুরী তাদের সমস্যার কথা শুনলেন। তাদের বাড়িঘর ঘুরে দেখলেন। সেই রাতেই নৌকায় ঘুমালাম আমরা। পরদিন সম্মেলন শেষ করে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম আমরা। ফেরার আগে স্থানীয়দের মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রাম আসতে বললেন। তিনি তাদের গৃহনির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাস দিলেন। শুরু হলো আমাদের ফিরতি যাত্রা৷ ফেরার পথে আমাদের লাগলো দুই দিন দুই রাত। প্রথম রাত যথারীতি চাঁদপুরের কাছে নোঙ্গর করে এবং পরের দিন হাতিয়ার কাছে নোঙ্গর করে রাতে ঘুমালাম। সব মিলিয়ে ৫ দিন ৪ রাতের ঘটনা। পরেরদিন চট্টগ্রাম নেমেই মহিউদ্দিন চৌধুরী সরাসরি চলে গেলেন খাতুনগঞ্জ। যে নৌকায় আমরা এসেছি সেই নৌকায় করেই তিনি খাতুনগঞ্জ থেকে চাল, ডাল, তেল, আলু সহ খাবার পাঠিয়ে দিলেন ভোলায়। পরেও কয়েকধাপে ভোলার মানুষের জন্য সাহায্য পাঠিয়েছিলেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *