বিদায় শান্তনু বিশ্বাস

বিনোদন

Sharing is caring!

চিরতরে ঘুমিয়ে গেছে সংগীতশিল্পী ও নাট্যজন শান্তনু বিশ্বাসের কন্ঠ।মৃত্যুর তিন দিন আগে সামাজিক যোগাযোমাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ভারের দেখা স্বপ্ন যত,সব যদি আজ সত্যি হতো,আকাশ কি আর ঢাকতো মেঘে এমন,সকালবেলায় রাত্রিবেলা ঘুম রেখেছো কোথায়,ঘুম রেখেছো লুকিয়ে বুঝি তোমার চোখের পাতায়।

গত শুক্রবার ( ১২ জুলাই ) বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।তিনি গত মঙ্গলবার অসুস্থবোধ করলে তাকে চট্টগ্রামের একটি প্রাইভেট ক্লিনিক এ ভর্তি করা হয়।পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নিয়ে যাওয়া হয়।ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান।মৃত্যুর সময় তিনি স্ত্রী,দুই মেয়ে রেখে যান।মৃত্যুর আগে তিনি ইস্পাহানি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

শান্তনু বিশ্বাস ১৯৫৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন।তিনি ছাত্রজীবনে প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ছাত্রজীবনেই থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর তিনি নাটক লেখা, অভিনয় ও নির্দেশনার সঙ্গে যুক্ত হন। অঙ্গন থিয়েটার ও গণায়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এরপর নিজেই কালপুরুষ নামে একটি নাট্যদল গড়ে তোলেন।

মুক্তিযুদ্ধের ওপর লেখেন নাটক ‘ইনফরমার’। দেশের মঞ্চ ছাড়িয়ে সেই নাটক পরিবেশিত হয় বিদেশেও। তার লেখা নাটক ‘কালো গোলাপের দেশ, নবজন্ম, দপ্তরী রাজ দপ্তরে, নবজন্ম, ভবঘুরে ও নির্ভার’ প্রশংসিত হয়েছে। জুলিয়াস সিজারের শেষ সাত দিন, মানুষ ও নিয়তি, মৃণালের চিঠি- মঞ্চে এসব নাটকের নির্দেশনা দিয়ে তিনি প্রশংসাও কুড়িয়েছেন।

নাটকের পাশাপাশি সঙ্গীতশিল্পী হিসেবেও শান্তনু বিশ্বাসের খ্যাতি ছিল। চারটি একক ও দুটি যৌথ অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছে তার। দেশের মঞ্চে নিজস্ব গায়কীতে সঙ্গীত পরিবেশন করে যেমন জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন, তেমনি দেশের বাইরেও গেছেন আমন্ত্রিত হয়ে।

শান্তনু বিশ্বাসের দুই মেয়ের এক মেয়ে থাকেন ফিলিপাইনে, আরেকজন নেদারল্যান্ডে।

আজ সকাল ১১টায় সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শহীদ মিনার চত্বরে তার মরদেহ রাখা হয়।পরে বিকাল ৪টায় শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে রাখা হয়।শিল্পকলায় শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শান্তনু বিশ্বাসের মরদেহ হিমঘরে রাখা হয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এনাটমি বিভাগকে মরণোত্তর দেহ দান করেছেন। তার এক মেয়ে দেশে ফিরেছেন। আরেক মেয়ে ফেরার পর মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *