‘সিটি কর্পোরেশন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করলে প্রকল্পের সুফল আরও বেশি দৃশ্যমান হতো’

চট্টগ্রাম মহানগর সিডিএ

Sharing is caring!

জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্পের সুফল মিলছে বলে মন্তব্য করেছেন মেগা প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল শাহ আলী। তিনি বলেন অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার জলাবদ্ধতা অনেক কম সময় স্থায়ী হয়েছে। পানি জমেছে এটা ঠিক তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে পানি সড়েও গেছে। সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা গেলে এই অবস্থার আরো উন্নতি দেখা যেত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে গৃহীত প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে সিনিউজ অনলাইনকে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন আমরা মাত্র গত বছর কাজ শুরু করেছি। পুরো একটা বছরও আমরা কাজ করিনি এখনো। প্রকল্পের প্রাথমিক কিছু কাজ হয়েছে এখন পর্যন্ত। এক বছরেই সবটা সমাধান হবে এটা আশা করা ঠিক হবে না।

নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ৩৬ টি খাল চিহ্নিত করে কাজ করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন আমারা ১৩ টি খালে খনন প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম। খালগুলোর পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে একটা ডিজাইনের কাজ চলছে। পানির সঠিক প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য খাল গুলো কত ফিট গভীর ও প্রশস্ত হবে তা এই ডিজাইনে উল্লেখ থাকবে। এছাড়া এখানে আরো অনেকগুলো কাজ আছে যেমন খালের উপর অবৈধ দখলদারদের অপসারণ, কোথাও কোথাও ভূমি অধিগ্রহনেরও দরকার হচ্ছে । আমরা সেসব কাজ করছি।

তবে গত এক বছরে খনন করা বেশ কিছু খাল ইতোমধ্যে আবারও ভরাট হয়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা গত এক বছরে ১৩ টি খালে খনন কাজ করেছি। সেসব খাল আবার ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এর কারণ দুটো । প্রথমটি হচ্ছে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলার অভাব, দ্বিতীয়টি হচ্ছে বৃষ্টির সময় পাহাড়ি এলাকা থেকে ধুয়ে আসা মাটি জমা হয়ে খাল ভরাট হচ্ছে।

তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের ৩৪ জন কাউন্সিলরের সাথে আমরা চার দফায় বৈঠক করেছি। উনাদের অনুরোধ করেছি খালে যাতে বর্জ্য না পড়ে তা যেন উনারা নিশ্চিত করেন। কিন্তু এই অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি। এমনও হয়েছে যে আমাদের লোকজন কাজ করছে তাদের মাথার উপরে এসে আবর্জনা পড়ছে। লোকজনকে যখন জিজ্ঞেস করি এমন কেন হচ্ছে? তারা উত্তর দেয় আমরা কি করবো? আমাদের ময়লা ফেলার জায়গা নেই। এই বিষয়টি নিয়ন্ত্রন করা গেলে প্রকল্পের সুফল আরো অনেক বেশি দৃশ্যমান হতো, যোগ করেন তিনি।

তবে এর পরেও জলাবদ্ধতা প্রকল্পের সুফল পাওয়া যাচ্ছে মন্তব্য করে লে.কর্ণেল শাহ আলী বলেন, আমি গতকাল সারাদিন বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছি। স্থানীয়দের সাথে কথা বলেছি। তাদের কাছে জানতে চেয়েছি প্রকল্পের সুফল তারা পাচ্ছেন কিনা। তারা আমাকে বলেছেন আগে যেখানে ৬/৭ ঘন্টা পানি জমে থাকতো সেখানে এখন ১ ঘন্টাতে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে।

প্রকল্পের ডিজাইন অনুযায়ী কাজ শেষ করার নির্ধারিত যে সময় তার মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে এবং প্রকল্পের কাজ শেষ হলে জলাবদ্ধতার সমস্যা স্থায়ী ভাবে সমাধান হবে বলেও এসময় উল্লেখ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার এই প্রকল্প ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট মাসে অনুমোদন করে একনেক। এই প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খাল থেকে ৫ লাখ ২৮ হাজার ঘনমিটার মাটি খনন করার কথা। চউকের নেওয়া প্রকল্প বাস্তবায়নে পরে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *