পণ্যবাহী গাড়ির পাস ইস্যুকে ঘিরে বন্দর এলাকা জুড়ে তীব্র যানজট

অন্যান্য সংবাদ চট্টগ্রাম মহানগর

Sharing is caring!

চট্টগ্রাম বন্দরে নিরাপত্তাজনিত কারণে পণ্যবাহী গাড়ির সহকারীর ‘পাস’ ইস্যুতে জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
নগরের ফকিরহাট থেকে শুরু করে নিমতলা, পিসি রোড, টোল রোড, আগ্রাবাদ, বারিকবিল্ডিং, বড়পুল, কাস্টম মোড়, সল্টগোলা, ইপিজেডসহ বিমানবন্দর সড়কে কার্যত অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বন্দর কেন্দ্রিক পণ্যবাহী গাড়ির প্রয়োজনীয় টার্মিনাল থাকায় সিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার পণ্যবাহী গাড়ি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।
বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগ সূত্র জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মানের বন্দর হিসেবে নিরাপত্তার স্বার্থে আমদানি-রফতানির পণ্য, কনটেইনার পরিবহনে নিয়োজিত গাড়ির চালক ও সহকারীর ‘পাস’ ইস্যুতে কিছু ডকুমেন্ট বাধ্যতামূলক করা হয়। এর মধ্যে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও জাতীয় পরিচয়পত্র এবং সহকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ।

বন্দরের একজন কর্মকর্তা সিনিউজকে জানান, ইন্টারন্যাশনাল শিপ অ্যান্ড পোর্ট ফ্যাসিলিটি সিকিউরিটি কোড (আইএসপিএস) বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বন্দরে অটোমেশন, ডাটাবেজ তৈরিসহ অনেক কাজ চলছে। এরই অংশ হিসেবে পণ্যবাহী গাড়ির ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলছে। এক্ষেত্রে চালকদের লাইসেন্স ও জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলেও সহকারীদের অনেকে জাতীয় পরিচয়পত্রও দেখাতে পারছে না। সহকারীকে বন্দরে প্রবেশের পাস দিলে অনেক চালক তাদের হাতে গাড়ির স্টিয়ারিং ছেড়ে দেন। এর ফলে বন্দরের অভ্যন্তরে দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক সময় প্রাণহানিও হচ্ছে।সহকারীদের অনেকের বয়স মাত্র ১৩-১৫ বছর।

প্রাইম মুভার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকরী সভাপতি মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, বন্দরে পণ্য পরিবহনে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে গাড়ি আসে। বন্দরে প্রতিদিন প্রাইম মুভার, কাভার্ডভ্যান, ট্রাক, পিকআপসহ বিভিন্ন ধরনের ৪ হাজারের বেশি গাড়ি যাওয়া-আসা করে। এখন গাড়ির সহকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র, অনলাইন জন্মনিবন্ধন ছাড়া পাস ইস্যু না করায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বড় গাড়িগুলো সহকারী ছাড়া শুধু চালকের পক্ষে হুক পয়েন্টে বা টার্মিনালে গিয়ে পণ্য লোড-আনলোড, কাগজপত্র বুঝে নেওয়া সম্ভব নয়।
এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।
যানজটের কবলে পড়া বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, আগ্রাবাদে তীব্র যানজট দেখে বড় পোল দিয়ে আসি। সেখানেও যানজট। তারপর সংস্কারের জন্য বন্ধ রাখা একপাশ দিয়ে উল্টোপথে বন্দর স্টেডিয়ামের পাশের পথ দিয়ে চলে আসি। আমার অনেক সহকর্মী আগ্রাবাদ থেকে হেঁটে কাস্টম মোড় এসেছেন।
বন্দরের মুখপাত্র ও সচিব ওমর ফারুক সিনিউজকে বলেন, বন্দরের গেটে আমদানি-রফতানিকারকের গাড়ি আসলে পাস নিয়ে ঢুকে যাবে। এখন কোনো গাড়ির পাস ইস্যুতে যদি আইএসপিএস গাইডলাইন অনুযায়ী ডকুমেন্ট পাওয়া না যায় সেটি ফেরাতে কিছুটা সময় লাগছে। এরপর পেছনের গাড়ি সামনে আসতে পারছে। বন্দরের বাইরের সড়কে যানচলাচল দেখভালের দায়িত্ব সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *