“আমরা চট্টগ্রামের ৯৮-০০ ব্যাচের বন্ধুরা” ফেসবুক গ্রুপের উদ্যোগে সাতকানিয়ায় বন্যাদূর্গত মাঝে ত্রাণ বিতরণ

দক্ষিণ চট্টগ্রাম বৃহত্তর চট্টগ্রাম

Sharing is caring!

“মানুষ মানুষের জন্যে, জীবন জীবনের জন্যে” -এই শ্লোগানে উজ্জীবিত হয়ে ফেসবুক ভিত্তিক “আমরা চট্টগ্রামের ৯৮-০০ ব্যাচের বন্ধুরা” গ্রুপের এডমিন প্যানেলের পক্ষ হতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া-চন্দনাইশের একাংশে বন্যা দূর্গতদের পাশে দাঁড়ানো। এমনটাই জানান গ্রুপ এডমিন সাজিদা আরাবি জয়া এবং গ্রুপ মডারেটর জেনিফার করিম।

তিনি জানান, পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী নিয়ে গতকাল ১৬ জুলাই “আমরা চট্টগ্রামের ৯৮-০০ ব্যাচের বন্ধুরা” গ্রুপের একটি চৌকস ভলান্টিয়ার দল দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যা দূর্গত অঞ্চল সাতকানিয়া উপজেলার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। উক্ত ভলান্টিয়ার দলের নের্তৃত্বে ছিলেন “আমরা চট্টগ্রাম ৯৮-০০ ব্যাচের বন্ধুরা” গ্রুপের এডমিন মোঃ খোরশেদ আলী এবং তাকে সহায়তা করেন গ্রুপের বন্ধু ফয়সাল মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন সুমন ও নুরুল আলম। তাদের দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনায় সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের উত্তর বাজালিয়া সাইক্লোন সেন্টার, বটতল, পূর্ব বাজালিয়া গ্রাম এবং পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের মনেয়াবাদ, উত্তর মনেয়াবাদ গ্রামে ২০০ দুস্থ বন্যার্ত পরিবারের মাঝে প্রতিটি পরিবারকে ৪ কেজি চাল, ২ কেজি আলু, ১ কেজি পেঁয়াজ, আধা কেজি ডাল, আধা কেজি লবণ, এবং আধা লিটার সয়াবিন তেল ত্রাণসামগ্রী হিসেবে বিতরণ করা হয়।”

এডমিন মোঃ খোরশেদ আলী জানান, ত্রাণবিতরণ কালে নারী-শিশু সহ বয়ঃবৃদ্ধ গ্রামবাসীর স্বতফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বাজালিয়া ইউনিয়নের উত্তর বাজালিয়া সাইক্লোন সেন্টারে বন্যা দূর্গতদের সাথে আলাপ কালে উপস্থিত গ্রামবাসী আবদুল শুক্কুর (৫০) জানান, “বর্তমানে বন্যার পানির উচ্চতা কিছুটা কমে গেলেও বন্যা দূর্গত গ্রাম গুলোতে শুকনো খাবার, স্যালাইন, অসুধ সহ পর্যাপ্ত খাবার পানীয়ের অভাব লক্ষ্য করা গেছে। গ্রামের নারী-শিশু সহ অসুস্থ বয়ঃবৃদ্ধগণ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি “আমরা চট্টগ্রামের ৯৮-০০ ব্যাচের বন্ধুরা” গ্রুপের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে বন্যার্ত দের সহায়তায় পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান। এবং “আমরা চট্টগ্রামের ৯৮-০০ ব্যাচের বন্ধুরা” গ্রুপের সকল কে মানবতার সেবায় পাশে দাঁড়ানোয় দোয়া ও সাধুবাদ জানান। অপরদিকে পুরানগড় ইউনিয়নের মনেয়াবাদ গ্রামের বয়ঃবৃদ্ধ মহিলা সুফিয়া বেগম (৬৫) ত্রাণ সামগ্রী গ্রহণ কালে এডমিন মোঃখোরশেদ আলী কে জড়িয়ে কাঁদেন। এমতাবস্থায় উপস্থিত ত্রাণগ্রহীতা সহ সকলের মাঝে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, “আমার ছেলে-মেয়ে নাই। বাবা তোমরাই আমার সন্তান। তোমাদের কাছ থেকে যে সাহায্য পেলাম তার জন্যে মহান আল্লাহর কাছে তোমাদের জন্যে প্রাণ ভরে দোয়া করি। তোমাদের মতো সন্তানরা থাকলে মা দের সাহায্যের জন্যে কারো দ্বারস্থ হতে হবেনা।”

গ্রুপের অপর এডমিন মিঠু গুপ্ত ত্রাণ সংগ্রহ কার্যক্রমে অর্থসহায়তাকারী সকল বন্ধুদের “আমরা চট্টগ্রামের ৯৮-০০ ব্যাচের বন্ধুরা” গ্রুপের পক্ষ হতে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।

গ্রুপের উদ্যোক্তা এডমিন মাঈনুল হাসান সারওয়ার সুজন বলেন, “আমরাই পারি বদলে দিতে বেশ, নতুন সূর্য হয়ে আলোকিত করবো স্বদেশ।” জীবনের পূর্ণতা পেতে হলে মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াতে হবে। ত্রাণসংগ্রহ ও সরবরাহ কার্যক্রমে জড়িত সকল গ্রুপ এডমিন ও বন্ধুদের সাধুবাদ জানাই এমন মহৎ উদ্যোগে একাত্মতা প্রকাশ করার জন্যে। এবং ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *