‘ফেসঅ্যাপ’ এর মাধ্যমে হরণ করা হচ্ছে ব্যক্তিগত তথ্য

তথ্য প্রযুক্তি ফিচার

Sharing is caring!

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সব ব্যবহারকারী যেন হঠাৎ করেই বুড়িয়ে গেছেন! বৃদ্ধ বয়সে নিজেকে কেমন দেখাবে, তা জানার আগ্রহে কোনো কিছু না ভেবেই ‘ফেসঅ্যাপ’ ব্যবহার করেছেন কোটি কোটি ব্যবহারকারী। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই অ্যাপ গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা হরণ করছে।

এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ১০ কোটিরও বেশি মানুষ গুগল প্লে স্টোর থেকে ফেসঅ্যাপ ডাউনলোড করেছেন, এমনটা ইন্টারনেট ঘেঁটে দেখা গেছে।

এছাড়া ১২১টি দেশজুড়ে অ্যাপল অ্যাপ স্টোরেও শীর্ষস্থানে আছে এ অ্যাপটি। সব মিলিয়ে ১৫ কোটিরও বেশি মানুষ ব্যবহার করছেন বা করেছেন এই অ্যাপটি।

মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেমোক্রেটিক দলের সদস্যদেরকে ইতোমধ্যে অ্যাপসটি আনইন্সটল করার জন্য পরামর্শ দিয়েছে দলের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি। তাদের মতে, রাশিয়ার পিটার্সবার্গে অবস্থিত ওয়্যারলেস ল্যাব নির্মিত অ্যাপটি তথ্য পাচার করছে। কারণ, ইন্সটলের শর্তানুযায়ী অ্যাপটি ব্যবহারকারীর ডিভাইস থেকে আইপি অ্যাড্রেস, ব্রাউজারের কুকিস, লগ ফাইল, অবস্থানসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে থাকে।

ফেসঅ্যাপের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, এটি গ্রাহকের ডিভাইসের পুরো গ্যালারিতে অ্যাক্সেসের অনুমতি চায়। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন, এসব ছবি নিজস্ব সার্ভারে সংরক্ষণ করে রাখছে ওয়্যারলেস ল্যাব। এছাড়া অ্যাপটি ইন্সটলের সময় আজীবনের জন্য গ্রাহকের ছবির পূর্ণ মালিকানা চলে যায় এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের হাতে। এসব ছবি তারা ইচ্ছেমতো ব্যবহার করতে পারবে। এজন্য গ্রাহক পরবর্তী সময়ে কোনো ধরনের দাবি জানাতে পারবেন না।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, তথ্যপ্রবাহের এই যুগে টাকা-পয়সা কিংবা অলংকারের চেয়েও দামি হয়ে উঠেছে ব্যক্তিগত তথ্য। কারও সম্পর্কে ছোটখাটো বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে তার গতিবিধি, মন-মানসিকতা, অতীত-বর্তমান সবই সহজে জেনে ফেলা সম্ভব। তাছাড়া বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে এসব তথ্য অনেক মূল্যবান। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই ‘পার্সোনালাইজড’ বিজ্ঞাপন তৈরি করে, যা দিয়ে ওই ব্যক্তিকে সহজেই প্রভাবিত করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *