সঞ্জয় ধর হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করলো পুলিশ

অপরাধ চট্টগ্রাম মহানগর

Sharing is caring!

২১ জুন রাত ১১ টার কিছু সময় পরে নিজ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান মনিশ্রী জুয়েলার্সে বসে কিছু একটা হিসেব নিকেশ করছিলেন সঞ্জয় ধর(৪৫)। সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে দোকানের সার্টার অর্ধেক নামিয়ে হিসেব করছিলেন তিনি। এমন সময় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ডাক্তার বিশ্বজিৎ ও স্থানীয় টমটম চালক শফিউল ইমাম বাদশাকে (৩৭) নিয়ে দোকানে প্রবেশ করে তপন মল্লিক(৫২)। দোকানে ঢুকেই প্রথমে বাদশা সঞ্জয়ের মুখ চেপে ধরে ও তপন মল্লিক সঞ্জয়ের হাত পা চেপে ধরে। এর মধ্যে ডাক্তার বিশ্বজিৎ সঞ্জয়ের শরীরে চেতনা নাশক ইনজেকশন পুশ করে তাকে অবচেতন করে বাইরে চলে যায়। সঞ্জয় অবচেতন হয়ে যাওয়ার পর বাদশা তার কাছে থাকা ছুরি দিয়ে সঞ্জয়কে জবাই করে দেয়। মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য সঞ্জয়ের পেটের দুই পাশে ছুরি দিয়ে আরো দুটি ঘাই মারে বাদশা। সঞ্জয় হত্যা কান্ডের এমনই নৃশংস চিত্র উঠে এসেছে সিএমপির ইপিজেড থানা পুলিশের তদন্তে।

শনিবার (২০ জুলাই) দুপুর ১২ টার দিকে ইপিজেড থানা প্রাঙ্গনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য বর্ণনা করেন সিএমপির উপ পুলিশ কমিশনার (বন্দর) হামিদুল আলম।

তিনি বলেন, একসময় তপন মল্লিকের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতো সঞ্জয় ধর। পরে তপনের প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে নিজেই ব্যবসা শুরু করেন সঞ্জয়। একারনে দুজনের মধ্যে একটা ভাল রকমের ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ছিল।
অন্য দিকে স্থানীয় টমটম চালক বাদশা সুদে টাকা নিয়েছিলেন সঞ্জয়ের কাছ থেকে। কিন্তু সুদ দিতে দিতে ধারের কয়েকগুন টাকা দিয়েও ঋণের বোঝা মুক্ত হতে পারছিল না সেম ফলে সঞ্জয়ের প্রতি তারও ক্ষোভ ছিল। এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে সঞ্জয়কে পৃথিবী থেকে সড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করে তপন মল্লিক। সঞ্জয় হত্যা কান্ডে তপনই মূল কুশীলব, দাবি পুলিশের।

এই ঘটনায় জড়িত তিন জনকেই গ্রেফতার করেছে ইপিজেড থানা পুলিশ। প্রাথমিকভাবে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দীও দিয়েছে তারা। সেসব জবানবন্দীতেই এসব তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন ডিসি হামিদুল আলম।

উল্লেখ্য গত ২৩ জুন সকাল ১১ টার দিকে সিএমপির ইপিজেড থানাধীন বন্দরটিলা এলাকার আয়েশার মা গলির মনিশ্রী জুয়েলার্স থেকে প্রতিষ্ঠানটির মালিক সঞ্জয় ধরের গলিত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে সময়ে এই হত্যা কান্ডের কোন ক্লু পাওয়া না গেলেও পরে ব্যবসায়িক লেনদেনের সূত্র ধরে এক মাসের মধ্যে এই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করলো ইপিজেড থানা পুলিশ৷

ইপিজেড থানা প্রাঙ্গনে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (বন্দর) আরেফিন জুয়েন, সহকারী পুলিশ কমিশনার (বন্দর) মোঃ কামরুল হাসান, ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর মোঃ নুরুল হুদা ও পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ ওসমান গনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *