কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কের আধুনিকায়ন শুরু হচ্ছে তিনমাস পর

কক্সবাজার প্রচ্ছদ বৃহত্তর চট্টগ্রাম

Sharing is caring!

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টায় অবশেষে পর্যটন নগরীর বাসিন্দাদের দূর্ভোগের চিরস্থায়ী সমাধান হতে চলেছে। মাত্র তিন মাস পরে কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কের আধুনিকায়নের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে কউক।

কউক সূত্রে জানা যায়, হলিডের মোড় থেকে খুরুশকুল রাস্তার মাথা পর্যন্ত ওই সড়ক হবে ৫০ ফুট চওড়া। খুরুশকুল রাস্তা থেকে হাশেমিয়া মাদ্রাসা পর্যন্ত ৪৫ ফুট চওড়া সড়ক হবে এবং হাশেমিয়া থেকে লারপাড়া পর্যন্ত ১০০ফুট চওড়া হবে সড়কটি। ৫ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে দু’পাশে থাকবে ফুটপাত। এছাড়া সড়কের মধ্যভাগে ডিভাইডার থাকবে। এই ডিভাইডারের মাঝে হবে সবুজায়ন। প্রধান সড়কের ব্যস্ততম তিনটি স্থানে রাস্তা পারাপারের জন্য থাকবে ফুটওভার ব্রীজ। দু’টি ফুটওভার হবে ৫০ ফুট দীর্ঘ। অন্যটি ফুটওভার ব্রীজটির দৈর্ঘ্য হবে ১০০ ফুটের।

শহরের জলাবদ্ধতার সমস্যার কথা মাথায় রেখে সড়কের ড্রেনেজ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে। সড়কটি তিন ফুট উঁচু করা হবে। সড়কের নীচে থাকবে আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে সড়কের ওপর জলাবদ্ধতার সমস্যা আর থাকবে না।

এছাড়া সড়ক বাতি স্থাপন (বিদ্যুতায়ন)করা হবে। ব্রীজ, কালভাট সংস্কার এবং নির্মাণ করা হবে। পুরো সড়কটির নজরদারীতে সিসি ক্যামেরা থাকবে। ওয়াইফাই সংযোগও থাকবে। তবে, শহরের প্রধান সংস্কারসহ প্রশস্তকরণ প্রকল্পের শুরুতে সাইকেল চালানোর জন্য আলাদা সাইকেলওয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিলো। পরবর্তীতে সড়কের জন্য জায়গার সংস্থান করতে না পারায় এটি বাদ রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,২৫৮ কোটি ৮১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে হলিডে মোড়-বাজারঘাটা-লারপাড়া (বাস স্ট্যান্ড) প্রধান সড়ক সংস্কারসহ প্রশস্তকরণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শেষ হলে শহরের চেহারা পাল্টে যাবে। পুরো প্রকল্পটি শেষ হবে ২০২১ সালের জুন মাসে।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা লে: কর্ণেল মো: আনোয়ার উল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ২/৩ তিন বছর অক্লান্ত পরিশ্রম, হাজারো জটিলতা পেরিয়ে গত ১৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক প্রকল্পটি অনুমোদন লাভ করে। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি আরো বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে যানজট নিরসনের পাশাপাশি শহরের সৌন্দর্য অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে ।তাই যথাযথভাবে যথাসময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য তিনি সকলের সার্বিক সহযোগিতা এবং দোয়া কামনা করেন।

উল্লেখ্য যে,কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এর আগে হিমছড়ি থেকে কলাতলী,হলিডের মোড় হয়ে প্রধান সড়কে সড়কবাতি স্থাপন করেছে।যা পুরো শহরকে রাতে আলোকিত করে রাখে।এছাড়া শহরের বিমানবন্দর রোড,লাভনী পয়েন্ট ও শরণার্থী অফিস সংলগ্নে সৌন্দর্য্যবর্ধনের কাজ করে প্রশংসিত হয়েছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, শহরের ঐতিহ্যবাহি তিন দীঘির আধুনিকায়নের কাজ চলমান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *