রেনু কে পিটিয়ে হত্যায় অভিযুক্ত হৃদয় সন্দেহে আল আমিনকে পুলিশে সোপর্দ

জাতীয় প্রচ্ছদ

Sharing is caring!

ঢাকার উত্তর বাড্ডায় ছেলেধরা গুজব ছড়িয়ে তাসলিমা বেগম রেনুকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ‘হৃদয়’ সন্দেহে এক তরুণকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন এক ব্যক্তি। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর গুলিস্তানের গোলাপ শাহ মাজারের সামনে থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
পরে পুলিশ জানিয়েছে, আটক তরুণ হৃদয় নন। তাঁর নাম আল আমিন। তাঁর গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায়।

গতকাল বিকেলে মো. মাহাবুব আলম নামের এক ব্যক্তি তাঁর ফেসবুকে সাতটি ছবি দিয়ে লিখেন, ‘বাড্ডায় রেনু হত্যার আসামি রিদয়কে ধরিয়ে দিলাম। গোলাপ শাহর মাজারের সামনে দিশারী পরিবহনের গাড়িতে আমার সামনের সিটে বসে। সাথে সাথে পুলিশকে ডেকে ধরিয়ে দিলাম এখন।’

এর পরই ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে খবর ছড়িয়ে পড়ে তাসলিমা হত্যার আসামি হৃদয় গ্রেপ্তার হয়েছে। গ্রেপ্তার নিয়ে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম সংবাদও প্রকাশ করে।

এ ব্যাপারে বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ‘তাসলিমা হত্যা মামলার আসামি হৃদয়ের মতো দেখতে হওয়ায় এক তরুণকে রাজধানীর গুলিস্তানের গোলাপ শাহর মাজারের সামনে থেকে আটক করে এক ব্যক্তি। পরে ওই ব্যক্তি সেখানে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের কাছে তাঁকে হস্তান্তর করে।’

বাড্ডা থানার ওসি বলেন, এরপর ট্রাফিক পুলিশ তাঁকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করে। শাহবাগ থানা পুলিশ তাঁকে বাড্ডা থানায় হস্তান্তর করেছে। আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখেছি, এই ছেলে সেই হৃদয় না। তাঁর নাম আল আমিন। তাঁর গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায়।

এত দ্রুত নিশ্চিত হওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে যেভাবে কথা বলা যায়, সেভাবে আমরা হাজীগঞ্জ থানার ওসি এবং আল আমিনের ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। কথা বলার পর মনে হয়েছে, এই ছেলে সেই হৃদয় না এবং ছবি দেখেও আমরা নিশ্চিত হয়েছি। তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।’
গত ২০ জুলাই সকালে ঢাকার উত্তর-পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাসলিমা বেগম রেনুকে (৪০) ‘ছেলেধরা’ গুজব ছড়িয়ে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। দুই ছেলেমেয়েকে ভর্তির জন্য সেখানে খোঁজ নিতে গিয়ে গুজবের কবলে পড়ে গণপিটুনিতে তাঁর মৃত্যু হয়। পরের দিন রোববার লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর সোনাপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানের বাবার কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর বোনের ছেলে সৈয়দ নাসির উদ্দিন টিটু অজ্ঞাত ৪০০ থেকে ৫০০ জনের বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা করেছেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *