মাত্র পাঁচ সেকেন্ডে নিজের মেয়েকে খুন করলেন বাবা

উত্তর চট্টগ্রাম বৃহত্তর চট্টগ্রাম

Sharing is caring!

নিজের পালিত কন্যা রেহা ওরফে সোমা দাসকে খুন করতে মাত্র ৫ সেকেন্ড সময় লেগেছিল বলে জানিয়েছেন গ্রেপ্তার সৎ বাবা নূরনবী। এছাড়া রিমান্ডে তিনি অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল তার তিনদিনের রিমান্ড শেষ হয়। আজ তাকে আদালতে হাজির করা হবে।

গত ৬ জুলাই চান্দগাঁও থানার খেজুরতলা লালপুল রেলবিট এলাকা থেকে রেহা ওরফে সোমা দাস নামে এক কিশোরীর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ব্যাপারে নিহত কিশোরীর মা (ধর্মান্তরিত) নাছিমা বেগম বাদি হয়ে রেলওয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার ১৫ দিন পর ঘাতক নূরনবীকে রাউজান থেকে আটক করে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানা পুলিশ। ২২ জুলাই তাকে আদালতে হাজির করে পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করা হলে আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ওসি মো. মোস্তাফিজ ভূইয়া বলেন, তথ্য প্রমাণ এবং আসামির বয়ানে এটাই প্রতীয়মান হচ্ছে, খুন তিনি একা করেছেন এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনা থেকে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। সাতকানিয়ায় তার বাড়ির আশপাশেও আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি, তার চারিত্রিক ক্রুটি রয়েছে। যে মেয়েটিকে খুন করেছেন, তাকে তিনি বিয়ে করারও চেষ্টা করেছিলেন।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আসামি নূরনবী জানান, তার সৎ মেয়ে সোমা ওরফে রেহাকে খুন করতে তার সময় লেগেছিল ৪/৫ সেকেন্ড। খুনের কারণ হিসেবে- যৌন আকাঙ্খা চরিতার্ত করতে না পারা, দাম্পত্য কলহ, দারিদ্র্যতা, আত্মীয় স্বজনের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ ইত্যাদি উঠে এসেছে।
তিনি জানান, রাগের মাথায় তিনি এ কাজ করেছেন। তবে পুলিশ বলছে, যদি তা-ই হয়, তবে সাতকানিয়া থেকে তিনি কোমরে ছুরি নিয়ে শহরে এসে রেহা যাওয়ার পথে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন কেন?

পুলিশ জানায়, নূরনবী মেয়েকে হত্যা করে মোটেও অনুতপ্ত নয়। তবে তিনি বলছেন, মেয়েকে না মেরে নিজের স্ত্রী নাছিমাকে হত্যা করা উচিত ছিল। তবে তার ঔরসজাত সন্তানটি খুব ছোট। তাকে মেরে ফেললে শিশুটিকে দেখার জন্য কেউ থাকবে না। এ কারণে তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন।

পুলিশ জানায়, নিহত রেহার সাথে একটি ছেলের সম্পর্ক ছিল। এটা জানার পর থেকেই নূরনবী মেয়েকে একপ্রকার বেঁধে রাখতে চাইতেন। কিছুদিন আগেও খালার বাসায় বেড়াতে এলে মেয়েকে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য খালার ওপর চাপ দিতে থাকেন তিনি। একপর্যায়ে হুমকি দেন, মেয়েকে না পাঠালে স্ত্রী নাছিমাকে ঘর থেকে বের করে দেবেন।

জিজ্ঞাসাবাদে নূরনবী জানান, ঘটনার দিন বৃষ্টি ছিল। রেহার খালার খেজুর তলার বাসাটি আগে থেকেই চিনতেন তিনি। পিছু নিয়ে চান্দগাঁও লালপুর রেললাইন এলাকায় এসে রেহাকে দেখতে পান। বৃষ্টি থাকায় রেললাইন এলাকায় তেমন লোকজন ছিল না। রেললাইনে পথ আটকে রেহার মাথা ও ঘাড়ে পর পর দুটি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান তিনি। নূরনবী জানান, রেহা তাকে অনবরত গালাগাল দিচ্ছিল বলে তার গালে ছুরিকাঘাত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মাথা নিচু করে ফেলায় সেটি মাথায় লাগে। এতে সে আরো কিছুটা ঝুঁকে পড়লে দ্বিতীয় আঘাতটি জোরে করে। ফলে সেটি গলার প্রায় ছয় ইঞ্চি ঢুকে যায়। এতে রেহার মৃত্যু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *