একসময় ছোট পেশার মানুষ হিসেবে ড্রাইভার বুয়াদের সাথে খেতে দিতো

প্রচ্ছদ ফিচার লাইফ স্টাইল

Sharing is caring!

সিনিউজ অনলাইন এর বিশেষ প্রতিনিধি ফটোগ্রাফির একাল সেকাল নিয়ে কথা বলেছেন ওয়েডিং পেজেস বাংলাদেশ এর সিইও শিহাব মোহাম্মদ এর সাথে।

শুরুঃ ছবি তোলার শুরুটা বেশ আগের, ২০০৩ এর দিকে। বাবার ষ্টেশনারী দোকান ছিল মতিঝিল এ, আমি এইচ এস সি করার পর ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় থকেই দোকানে বসা শুরু করি, তখন দেখলাম বিভিন্ন অফিসিয়াল কাজের জন্যে পাসপোর্ট ছবির বেশ কদর। তাই ষ্টেশনারী দোকানের পাশাপাশি স্টুডিও শুরু করলাম। বাবা এফ ডি সি এর ফটোগ্রাফর হওয়াতে এস এল আর ক্যােমেরা চালানোটা শেখাটা সহজ হয়, তাছাড়া ছোটবেলায় পরিবারের ছবি তুলতে খুব ভাল লাগত। পরবর্তীতে বিভিন্ন অফিসিয়াল ইভেন্টর ছবি তোলা শুরু করলাম। সবাই বলত তোমার তো ছবি তোলার হাত ভাল, প্রোফেশনাল ফটোগ্রাফি করলে ভাল করবে। অফিসিয়াল কাজের সুবাদে অনেকেই তাদের বিয়ের ছবি তুলতে ডাকা শুরু করল আর সেখান থেকেই আমি ওয়েডিং ফটোগ্রাফার। তবে পরবর্তীতে ফটোগ্রাফির বিভিন্ন দেশি-বিদেশি একাডেমিক কোর্স করেছি, নয়ত এতদূর আসা সম্ভব হতোনা।

Wedding Pages Bangladesh এর শুরু থেকে আজঃ ২০১১/১২ দিকে Face Book এ একটি সনামধন্য ওয়েডিং ফটোগ্রাফি প্রতিষ্ঠানের পেইজে চোখ আটকে যায়। মূলত সেখান থেকেই এরকম একটি প্রতিষ্ঠান স্বপ্ন দেখা। ২০১৩ এ ছোট একটা স্টুডিও ও ফেইসবুক পেইজের মাধ্যমে যাত্রা শুরু। প্রথমদিকে সহজছিল নাহ কিন্তু আমার একাগ্রতারও অভাব ছিল নাহ, একসময় আর পেছন ফিরে তাকাতে হয় নি। এখন পর্যন্ত আমারা প্রায় ২.৫ হাজারের বেশি বিয়ে কাভার করেছি এবং প্রায় সবাই আমাদের কাজে বেশ খূশি। আমি একা থেকে শুরু করে আজ টিমের সদস্য সংখ্যা ৩০ জনের বেশি। এই পথ চলায় বেশ অনেকেই সাথে ছিল তবে এই মূহুর্তে কয়েকজনের নাম না বল্লেই নয়, তারা হলো নাদিম মাহমুদ, কাজী নজরুল, মোর্শেদুর রহমান, বুলবুল আহমেদ, ইমদাদুল হক, এ্যানী এলিজাবেথ আর আমার টিম এবং পরিবারের সবাই সহ আরও অনেকে।

ওয়েডিং ফটোগ্রাফির বর্তমান অবস্থা ঃ এক সময় নিজেকে ওয়েডিং ফটোগ্রাফার হিসেবে পরিচয় দিলে মানুষ আবার প্রশ্ন করত আর কি করেন অথবা বিয়ের প্রোগ্রামে সমাজের কথিত ছোট পেশার মানুষের (ড্রাইভার/বুয়া) সাথে খেতে বসতে দিত কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে এখন মানুষ ফটোগ্রাফার এর সময় অনুযায়ী বিয়ের ডেট ঠিক করছে। আমি ঢাকার বাইরে ইভেন্ট কাভার করতে গেলে ক্লায়েন্ট ফ্লাইটের টিকেট অনেক আগেই রেডি রাখছে। তবে হ্যা এটাও সত্যি যে, এখন এটা একটা ট্রেন্ড হয়ে গেছে যে, একটা দামি ক্যামেরা কিনলেই ফটোগ্রাফার হয়ে যাওয়া যায়। এইরকম কিছু মনুষের জন্য গ্রহকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে এখন এদের সুশিক্ষিত করতে বেশ কিছু এসোসিয়েশন হয়েছে/হচ্ছে, যেমন গত ২২ শে জুলাই থেকে শুরু হয়েছে BDPUC নামক একটি এসোসিয়েশন, যেখানে রয়েছেন বাংলাদেশের অনেক স্বনামধন্য ফটোগ্রাফার, যারা ফটোগ্রাফাদের স্বার্থে ও তাদের সঠিক পথে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়তে সহায়তা করবে। উল্লেখ এখানে আমি একজন সদস্য পাশাপাশি ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে আছি। এছাড়াও WPPB নামের একটি এসোসিয়েশন ও বেশ সুনামের সাথে কাজ করছে। ওখানে ও আমি আজীবন সদস্য হিসেবে প্রথম থেকেই আছি।

পেশা হিসাবে ফটোগ্রাফি ঃ অবশ্যই পেশা হিসাবে ফটোগ্রাফি খুবই আকর্ষণীয় এবং লোভনীয়। তবে এই পেশায় আসার আগে অবশ্যই ফটোগ্রাফির উপর একাডেমিক পড়াশোনা পাশাপাশি হাতে-কলমে শেখার বিকল্প নাই। আর ওয়েডিং ফটোগ্রাফী ব্যবসায় আসতে হলে অবশ্যই এগুলোর পাশাপাশি অন্যান্ন ওয়েডিং ফটোগ্রাফিক প্রতিষ্ঠান থেকে ফ্রীলান্সার হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা থাকাটা জরুরি। আমার প্রতিষ্ঠান সবসময় ফ্রিলান্সারদের কাজের সুযোগ দিয়ে থাকে।

এই পেশায় সমস্যা ঃ প্রথমেই এই পেশার সমস্যা শুরু হয় নিজের পরিবার থেকেই, পরিবার প্রায় কখনোই মানতে চায় না যে ওয়েডিং ফটোগ্রাফার হয়ে জীবিকা নির্ভর করা যায়। তাছাড়া সবথেকে বড় সমস্যা সঠিক শিক্ষার অভাব। না বুঝে শুধু হুজুগে এই পেশায় আসা উচিৎ না। আর একটি সমস্যা হচ্ছে ভোক্তাগন নিজেরাই(কিছু), তারা যাচই না করে শুধু সোস্যাল মিডিয়ায় ৫/৬ টা ছবি দেখেই তাদের জীবনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট যার তার হাতে তুলে দেয়, যার শেষটা ভাল হয় নাহ।

যারা এই পেশায় আসতে চাচ্ছেন ঃ কয়েকটি ব্যপার মাথায় রাখতে হবে ওয়েডিং ফটোগ্রাফিকে পেশা হিসাবে বেছে নেবার আগে-
০১_ যেকোনো ফটোগ্রাফিক ইন্সটিটিউট থেকে কমপক্ষে বেসিক কোর্স। পরে ইউটিউবের সাহায্য নেওয়া।
০২_ ফ্রিল্যান্সার/ট্রেইনি হিসেবে অন্য ওয়েডিং ফটোগ্রাফি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা।
০৩_ মোটামুটি ভাল ক্যেমেরা ও ইকুইপমেন্ট
০৪_ ধৈর্য অবশ্যই জরুরি নয়ত কলিত মূর্ছা যাওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়।
*মনে রাখতে হবে বিয়ে সাধারণত মানুষ একবারই করে আর ছবি তোলার দায়িত্বটা যখন আপনাকে দিবে আপনিও সম্পূর্ণ একাগ্রতায় করা উচিত বলে আমি মনে করি।

সবশেষে ঃ আমি নিজেকে কখনোই একজন ব্যবসায়ি মনে করি নাহ। হ্যাঁ, নিজেকে অবশ্যই জনপ্রিয় ফটোগ্রাফার হিসেবে অনন্য উচ্চতায় দেখতে চাই, পাশাপাশি অনেকগুলো মানুষের ভালবাসা চাই, চাই নিজের প্রতিষ্ঠিত Wedding Pages Bangladesh এর প্রায় ২.৫ হাজার গ্রাহক সংখ্যাটা আরও অনেক বাড়াতে, সাথেসাথে দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে যেতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *