এপিক-ফিনলের অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দিলো সিডিএ

চট্টগ্রাম মহানগর প্রচ্ছদ সিডিএ

Sharing is caring!

চট্টগ্রাম নগরের কাতালগঞ্জে হিজড়া খালের ওপর অবৈধভাবে স্থাপনা গড়ে তুলেছিল আবাসন প্রতিষ্ঠান এপিক প্রপার্টিজ ও ফিনলে প্রপার্টিজ। ফলে খালে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছিল।

গত বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) হিজড়া খালে উচ্ছেদে গিয়ে ফিনলে-এপিকের স্থাপনাসহ ৫৫টি অবৈধ স্থাপনা বন্ধ করে দিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।

জলাবদ্ধতা নিরসনে ‘মেগা প্রকল্প’ বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল আলম চৌধুরী এ অভিযান পরিচালনা করেন।

সিডিএ এর নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক আহমেদ মাঈনুদ্দিন জানান, খালের ওপর এপিক প্রপার্টিজ একটি বাউন্ডারি ওয়াল ও ভবনের কার্নিশ গড়ে তুলেছিল। অভিযানে বাউন্ডারি ওয়ালটি ভাঙা হয়েছে। তবে কার্নিশ কর্তৃপক্ষ ভেঙ্গেছে।

তিনি আরও জানান, ফিনলে প্রপার্টিজের একটি বাউন্ডারি ওয়াল খালের জায়গায় গড়া হয়েছিল। সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অভিযানে হিজড়া খালের ওপর গড়ে উঠা ৫৫টি স্থাপনা ভাঙা হয়েছে।

ফিনলে প্রপার্টিজ লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) মো. আবদুল্লাহ নাসের জানান, সিডিএ এর অনুমোদন নিয়ে ভবনটি গড়া হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য একটি বাউন্ডারি ওয়াল দেওয়া হয়েছিল। সেটি ভাঙা হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ কোনো স্থাপনা খালেও ওপর ছিল না।

অন্যদিকে, এপিক প্রপার্টিজের হেড অব অ্যাডমিন কাজী আরিফ জানান, কোনো স্থাপনা উচ্ছেদের খবর জানা নেই।

২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে গৃহীত মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে সিডিএ এর সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এরপর সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর খালের উভয় পাশে রিটেইনিং ওয়াল, রাস্তা নির্মাণ ও নিচু ব্রিজগুলো ভেঙে উঁচু করার কাজ শুরু করে। পাশাপাশি খাল থেকে ময়লা পরিষ্কার কার্যক্রমও শুরু হয়।

ডিপিপি অনুযায়ী গৃহীত এ মেগা প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৫ হাজার ৬১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তিন বছর মেয়াদি এ প্রকল্পে প্রাথমিক পর্যায়ে ২০১৮ সালে ৩৬ খালের মাটি অপসারণসহ ৩০০ কিলোমিটার নতুন ড্রেন নির্মাণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

প্রকল্পের আওতায় নতুন করে ১০০ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ, ২০২০ সালের মধ্যে নগরে ৩৬টি খাল খনন, খালের পাশে ১৭৬ কিলোমিটার প্রতিরোধক দেয়াল, ৮৫ কিলোমিটার সড়ক, ৪২টি সিল্ট ট্র্যাপ নানা অবকাঠামো নির্মাণ করার কথা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *