কক্সবাজার জেলায় ডেঙ্গু রোগে ২৪ জন আক্রান্ত , ১ জনের মৃত্যু

কক্সবাজার বৃহত্তর চট্টগ্রাম

Sharing is caring!

কক্সবাজারে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়তে শুরু করেছে।

গত বৃহস্পতিবার (১ আগষ্ট ) দুপুর পর্যন্ত মোট ২৪ জন ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত করা হয়েছে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে। তার মধ্যে ২১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি আছেন জেলা সদর হাসপাতালে। ভর্তি রোগীর মধ্যে ১৫ জন পুরুষ, ৬ জন মহিলা বলে জানিয়েছেন জেলা সদর হাসপাতালের মেডিসিন কনসালটেন্ট ডেঙ্গু– হেল্প ডেস্কের প্রধান ডা:আবু শামসু উদ্দিন।

তিনি আরও বলেন,কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ডেঙ্গুর টিম গঠন করা ছাড়াও মহিলা এবং পুরুষ রোগীর জন্য আলাদা কর্ণার স্থাপন করা হয়েছে। ভর্তিকৃত রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সনাক্ত করা ও ভর্তিদের মধ্যে স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হয়েছে ৬ জন।তারা হলেন,কক্সবাজার সদরের ২জন,রামুর ২ জন,উখিয়ায় ১জন ও টেকনাফে ১ জন।বাকিরা ঢাকায় আক্রান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, টেকনাফে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে আব্দুল মালেক(৩৩) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।তিনি টেকনাফ উপরের বাজারের কাপড়ের ব্যবসায়ী ছিলেন।

নিহত ব্যক্তি চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার আবুল কাশেম সওদাগরের ছেলে বলে জানা গেছে।গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

জানা যায়, সপ্তাহখানেক আগে টেকনাফে জ্বরে আক্রান্ত হলে মালেক নিজ বাড়ি সাতকানিয়ায় চলে যায়। সেখানে মামণি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ডা. রবিউল হাসানের তত্বাবধানে চিকিৎসা নেন। এসময় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে প্রেরন করে ডাক্তার। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডেঙ্গু ধরা পড়লে শেভরন হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। অবস্থার আরো অবনতি হলে গত মঙ্গলবার ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যান। ওইদিন সকালে তিনি মারা যান ।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মহিউদ্দিন বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে হলে এডিস মশা নিধন অভিযান অতি-জরুরি।তবে কক্সবাজারে পাওয়া ডেঙ্গু রোগীরা ঢাকা বা বাইরের জেলা থেকে রোগ বহন করে নিয়ে এসেছেন।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কক্সবাজারে আসা এসি ও নন-এসি বাস, পর্যটকদের সঙ্গে আনা বিলাসবহুল গাড়িগুলো কক্সবাজারে প্রবেশের সময়ই এবং ল্যান্ড করা বিমানবন্দরগুলোর পাশাপাশি পার্কিং এলাকা মশামুক্ত করা গেলে এডিস মশার ভয় কিছুটা কমবে।

কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে এডিস মশার বিস্তার ও রোধ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে মাইকিং করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় মশার উপদ্রব বেশি সেখানে স্প্রে অব্যাহত রয়েছে। ভীতি কাটিয়ে সেবা বাড়াতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, জেলা প্রশাসন একীভূত হয়ে কাজ করছে।

উল্লেখ্য যে, ঢাকা থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কক্সবাজার শহরের বাসিন্দা ও জাবির ছাত্রী উখিংনু নুশাং রাখাইন কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ হয়ে চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়ার পথে গত ২৭ জুলাই মারা যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *