প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশে জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব নিয়েছিলাম- আব্দুচ ছালাম

চট্টগ্রাম মহানগর প্রচ্ছদ সিডিএ

Sharing is caring!

পর্ব-১

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশেই সিডিএ জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজে হাত দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সিডিএর সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুচ ছালাম। চট্টগ্রামের ইতিহাসের সব চেয়ে বড় প্রকল্প জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প নিয়ে এক আলাপচারিতার সিনিউজ অনলাইনকে এই কথা বলেন আব্দুচ ছালাম।

তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা চট্টগ্রামের একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। এই সমস্যা দিনদিন বাড়তে বাড়তে এমন এক পর্যায়ে এসে দাড়াল সমস্ত উন্নয়ন প্রকল্প ও চলমান মেগা প্রকল্প সমূহের সুফল নিয়ে চট্টগ্রাম বাসীর মনে প্রশ্ন দেখা দিল এক কথায় সমস্থ উন্নয়ন কার্যক্রম প্রশ্নের সম্মুখীন হতে লাগল তখন মমতাময়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসলেন। তিনি সরাসরি নির্দেশনা দিলেন সিডিএ কে এই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য। উনার এই নির্দেশ অনুযায়ী আমি দ্রুত সময়ের মধ্যে পরপর ২ টি প্রকল্প তৈরি করি।

প্রকল্প দুটি সম্পর্কে ছালাম বলেন, জোয়ারের পানি যাতে শহরে ঢুকতে না পারে তার জন্য কর্ণফুলী নদীর তীরে চাক্তাই থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত ১২ টি সুইচগেট ও ২৫ ফিট উচ্চতা সম্পন্ন বাঁধ কাম রাস্তা নির্মাণের একটি প্রকল্প আমরা করি। দ্বিতীয়টি হল চট্টগ্রামে স্থিত ৫৭ টি খালের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৩৬ খালের যাবতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার।

পরে একনেক দুটি প্রকল্পের প্রস্তাবই অনুমোদন করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত আগ্রহে সিডিএ’র গৃহীত ২ টি প্রকল্পই পর্যায়ক্রমে একনেকে অনুমোদিত হয়।

কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রথমটির কাজ ইতিমধ্যে সিডিএ শুরু করেছে। দ্বিতীয়টির কাজ সুষ্ঠুভাবে যথাসময়ে সম্পন্ন করার লক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি নিয়ে আমাদের গর্ব বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উক্ত প্রকল্পটি একনেকে শর্তসাপেক্ষে অনুমোদিত হওয়ার পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক গঠিত যাচাই বাছাই কমিটি কর্তৃক ৬ মাস ব্যাপী যাচাই বাছাই করার পর ২০১৮ সালের ০৬ মার্চ চুড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে। চুড়ান্ত অনুমোদনের পর গত ৯ এপ্রিল ২০১৮ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই প্রকল্পের সমুদয় কাজের দায়িত্ব বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উপর ন্যাস্ত করা হয়।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এত বড় প্রকল্প একনেকে চুড়ান্ত অনুমোদনের মাত্র ৩৩ দিনের মধ্যে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করা এক নজিরবিহীন ঘটনা বলেও এসময় উল্লেখ করেন আব্দুচ ছালাম।

তিনি বলেন, এটা সম্ভব হয়েছে একমাত্র জননেত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতার কারণে। উনার নির্দেশনা মেনেই আমি কাজ করেছি।

অত্যন্ত পরিকল্পিত ভাবে প্রকল্পের কাজ এগুচ্ছে মন্তব্য করে ছালাম বলেন অতি অল্প সময়ের মধ্যে এই প্রকল্পের সুনাম চট্টগ্রামবাসী পাবে।তিনি বলেন, এই সমস্যার পিছনে যে সমস্ত কারন সমূহ চিহ্নিত করা হয়েছে তার মধ্যে প্রধান কারন হল মানুষের সচেতনতার অভাব অর্থাৎ জলাবদ্ধতা সমস্যার ৭০% হল মানব সৃষ্ট যেমন অবৈধভাবে খাল বা নালা দখল করা, খাল ও নালার উপর ভবন নির্মাণ করা সহ সমস্ত ময়লা আবর্জনা নালা এবং খালে ফেলা ইত্যাদি। মানুষ যদি সচেতন না হয় বা তাদের অভ্যাসের পরিবর্তন না হয় তাহলে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেও এই সমস্ত প্রকল্পের সুদূরপ্রসারী সুফল পাওয়া যাবেনা। তাই এই ব্যাপারে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা অপরিহার্য।

সকলের আন্তরিক সহযোগিতা নিয়ে সকল প্রতিষ্ঠানের সমস্থ প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হলে আগামী ৩/৪ বৎসরের মধ্যে চট্টগ্রাম পরিপূর্ণ ভাবে জলাবদ্ধতা মুক্ত হবে ইনশাআল্লাহ। তবে তার সুদূরপ্রসারী সুফল পাওয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *