সাতকানিয়ায় যাত্রীবেশে ছিনতাইয়ের ঘটনায় আটক দুই

দক্ষিণ চট্টগ্রাম প্রচ্ছদ বৃহত্তর চট্টগ্রাম

Sharing is caring!

সাতকানিয়ায় সিএনজি ট্যাক্সিতে যাত্রীবেশে উঠে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুই ছিনতাইকারীকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুই ছিনতাইকারীর কাছ থেকে মোট ১ লাখ ৭১ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

গত (৩০ জুলাই) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নস্থ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কেফায়েত উল্লাহ-কবির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

গত সোমবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে ছিনতাইয়ের শিকার আবদুল মোনাফ বাদি হয়ে সাতকানিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

সাতকানিয়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই (মঙ্গলবার) রাতে কেরানীহাট থেকে সিএনজি চালিত ট্যাক্সিযোগে লোহাগাড়ার পদুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম পদুয়া মালি পাড়ার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে শহীদুল ইসলাম শাহেদ লোহাগাড়ার পদুয়া বাজারে যাচ্ছিলেন। এসময় ট্যাক্সিটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়াস্থ ছদাহা কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে পৌঁছার পর একই ট্যাক্সিতে থাকা যাত্রীবেশী ছিনতাইকারীরা ট্যাক্সিটি পুনরায় পেছনের দিকে ঘুরিয়ে নেয়। তখন শহীদুল ইসলাম শাহেদ চিৎকার করলে ছিনতাইকারীরা তাকে গলায় ছুরি ঠেকিয়ে ও মারধর করে জিম্মি করে সাথে থাকা ৫ লাখ ৬৮ হাজার নগদ টাকা ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোন সেটটি ছিনিয়ে নেয়। পরে মারধর করে তাকে মহাসড়কের মালেক মেম্বারের ব্রিকফিল্ড এলাকায় ট্যাক্সি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।

গত সোমবার রাতে খবর পেয়ে থানার ওসি মো. সফিউল কবীর ও এসআ্ই নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের জনার কেঁওচিয়া ৭নং ওয়ার্ডের আবদুল মোনাফ চেয়ারম্যানের বাড়ি এলাকার শামসুল আলমের ছেলে আবুল কালামকে (২৮) কেরানীহাট নিউ মার্কেট থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা কালাম স্বীকার করে। এসময় তার কাছ থেকে ছিনতাইকৃত ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ঘটনায় একই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের শামসু মাস্টারের বাড়ির মৃত আবুল হোসেনের ছেলে মো. রাসেল (২৪) জড়িত থাকার তথ্য জানায়। এরই ভিত্তিতে পুলিশ গতকাল ভোর ৫ টার দিকে পুরানগড়ের শ্বশুর বাড়ি থেকে রাসেলকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তার কাছ থেকে ২৭ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

সাতকানিয়া থানার ওসি মো. সফিউল কবীর জানান, গ্রেপ্তারকৃত আবুল কালাম ও মো. রাসেল চিহ্নিত ছিনতাইকারী। গ্রেপ্তারের পর তারা দুই জনই ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত টাকার মধ্যে ১ লাখ ৭১ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার আসামি মো. রাসেল ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিবলু কুমার মজুমদারের আদালতে ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের নামসহ বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছে। গ্রেপ্তার দুইজনকে আদালত কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *