ধর্ষণের অপমানে কিশোরীর আত্মহনন, ধর্ষকের যাবজ্জীবন

অপরাধ চট্টগ্রাম মহানগর

Sharing is caring!

চট্টগ্রামে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে একজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। একই রায়ে আদালত ওই তরুণীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে আসামিকে আরো ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় মামলার পাঁচ আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক (জেলা জজ) মোতাহির আলী এই রায় দেন।

দণ্ডিত নজরুল ইসলাম চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার মধ্যম ওয়াহেদপুর ফেদাগ্রামের বাসিন্দা।

মামলায় যে পাঁচজন খালাস পেয়েছেন তারা হলেন, একই গ্রামের মো.শাহাদাৎ, রুবেল চন্দ্র দাশ, মো.নজরুল, মো.মহিউদ্দিন ও মো. হারুন।

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ছিলেন এম এ নাসের। তিনি বলেন, দণ্ডিত নজরুলের নিজ গ্রামে একটি মুরগির খামার ছিল। ওই খামারের পাশে রবিউল হোসেন নামে একজনের বাড়িতে গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করত ১৭ বছর বয়সী রোজিনা আক্তার রামিশা।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর আসামিরা রোজিনাকে ফার্মের ভেতরে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। অপমান সইতে না পেরে রাতে রোজিনা রবিউলের বাসার ড্রইংরুমে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরদিন মৃতদেহ উদ্ধারের পর মিরসরাই থানার উপ-পরিদর্শক শাহের আলী বাদি হয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন।

কিন্তু তদন্তে ধর্ষণ ও আত্মহত্যার প্ররোচনার বিষয়টি উঠে এলে ঘটনার প্রায় সাতমাস পর ২২ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি রূপান্তর করা হয়।

অভিযোগপত্র দাখিলের পর ২০১৪ সালের ২১ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষে ছয়জন সাক্ষী আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

আইনজীবী এম এ নাসে বলেন, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় যাবজ্জীবন সাজা ও জরিমানা করেছেন আদালত। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় একই আইনের ৯ (ক) ধারায় ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হয়নি।

তিনি বলেন, দণ্ডিত নজরুল রায় ঘোষণার সময় আদালতে ছিল। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *