গ্রামীণফোন ও রবির লাইসেন্স বাতিলের নোটিশ আগামী সপ্তাহে

জাতীয়

Sharing is caring!

প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পাওনা আদায়ের তৃতীয় ধাপ হিসেবে মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবিকে লাইসেন্স বাতিলের নোটিশ দিতে যাচ্ছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসি। আগামী সপ্তাহেই এ চিঠি দেওয়া হতে পারে। ‘কেন লাইসেন্স বাতিল করা হবে না’ সে বিষয়ে কারণ দর্শাতে হবে এই দুই অপারেটরকে। বিটিআরসির থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিটিআরসির জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া উইং) জাকির হোসেন খান বলেন, দুই অপারেটরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে আমাদের কার্যক্রম চলছে। আশা করছি সবার উপযুক্ত একটি সময়ে আমরা চিঠি দিতে পারবো।

জানা গেছে, বিদেশে অবস্থানরত বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহুরুল হকের আগামী সপ্তাহে দেশে ফেরার কথা রয়েছে। আর তখনই এ নোটিশ দেওয়া হতে পারে। এ বিষয়ে মুঠোফোনে বিটিআরসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

গ্রামীণফোনের কাছে সরকারের পাওনা রয়েছে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং রবি’র কাছে পাওনা ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা। যা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বিটিআরসির নিজস্ব পাওনা।

এর আগে, বকেয়া পরিশোধ না করায় গ্রামীণফোন (জিপি) ও রবি আজিয়াটার (রবি) ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা কমিয়ে দেয় বিটিআরসি। গ্রামীণফোনের ৩০ শতাংশ ব্যান্ডউইথ আর রবির ১৫ শতাংশ ব্যান্ডউইথ কমানোর জন্য আইআইজি প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি পাঠায় সংস্থাটি। গত ৪ জুলাই এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়। এটি ছিল বকেয়া আদায়ের প্রথম ধাপ। এ নির্দেশনা কার্যকরের পর থেকে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তিতে পড়েন। ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়ার অভিযোগ আসে বিভিন্ন মহল থেকে। গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকেও গ্রাহক ভোগান্তি ও ইন্টারনেট সেবায় বিঘ্ন ঘটতে পারে বলেও জানানো হয়।

এরইমধ্যে, গত ১৬ জুলাই সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। মন্ত্রী, বিটিআরসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে অপারেটর দু’টির ব্যান্ডউইথ কমিয়ে রাখার ঘোষণা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়। ওই বৈঠকের এক দিন পর ১৭ জুলাই বিটিআরসি সংবাদ সম্মেলন করে ব্যান্ডউইথ থেকে ব্লক তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। তবে বকেয়া আদায় না হওয়া পর্যন্ত অপারেটর দু’টিকে কোনও এনওসি দেওয়া হবে না বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এনওসি অর্থাৎ নতুন কোনো গ্রাহক সেবা প্রদান বন্ধের ঘোষণা ছিল দ্বিতীয় ধাপ। বকেয়া আদায়ের তৃতীয় ধাপ অর্থাৎ লাইসেন্স বাতিল সংক্রান্ত নোটিশ জারির সিদ্ধান্ত হয় গত ২৪ জুলাইয়ের বিটিআরসির কমিশন পর্যায়ের এক বৈঠকে। পরে সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে কারণ দর্শানোর এই চিঠি দিতে যাচ্ছে বিটিআরসি।

লাইসেন্স বাতিলের নোটিশ দেওয়া হলে অপারেটর দুটির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বহির্বিশ্ব ও দেশের পূঁজিবাজারেও এর বিরুপ প্রভাব পড়তে পারে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে দুই অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা তাদের বক্তব্য জানাতে রাজি হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *