স্ত্রীকে নিয়ে বাজে কথা বলায় বন্ধুকে খুন, যুবক গ্রেফতার

অপরাধ চট্টগ্রাম মহানগর

Sharing is caring!

বন্ধুর স্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর কথাবার্তা বলায় বন্ধুর হাতে খুন হন ফাহিম৷ ২৩ আগস্ট ফাহিমের মৃতদেহ উদ্ধারের ৫ দিনের মাথায় ফাহিম হত্যার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানাতে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছে পুলিশ৷

বুধবার (২৮ আগস্ট) নগরের মোমিন রোডের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এসএম মেহেদী হাসান জানান, শাখাওয়াত হোসেন ফাহিম (২১) ও মো. আরিফ (২২) দুজনে বন্ধু ছিলেন। একসঙ্গে বাসায় বসে আড্ডা দিতেন তারা, একই সঙ্গে সেবন করতেন ইয়াবা। ইয়াবার আসরে প্রায়ই বন্ধুর স্ত্রীকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করতেন ফাহিম। বলতেন বন্ধুর স্ত্রীকে একান্তে পাওয়ার অভিলাষের কথাও। সেই ক্ষোভ থেকেই ফাহিমকে ডেকে নিয়ে খুন করে আরিফ।

গত ২৩ আগস্ট সকালে ডিসি রোডের আবু কলোনীর পাশে আবুল কাশেমের বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে শাখাওয়াত হোসেন ফাহিমের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এসএম মেহেদী হাসান বলেন, স্ত্রীকে নিয়ে বাজে কথা বলায় ক্ষোভ থেকে মূলত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে আরিফ। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে আরিফ। আরিফ দাবি করেছে- সে একাই এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।

তিনি জানান, দুই বন্ধু শাখাওয়াত হোসেন ফাহিম ও মো. আরিফ প্রায় সময় আড্ডা দিত। ডিসি রোডের আবু কলোনীর পাশে আবুল কাশেমের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় টিনশেডঘেরা পানির টাংকি ও ভাড়াটিয়া বিপ্লব দে’র রুমেও আড্ডা দিত তারা। আড্ডাতে ইয়াবা সেবন করতো এবং প্রায় সময় আরিফের স্ত্রীকে নিয়ে বাজে কথা বলতো ফাহিম। এ নিয়ে আরিফের মনে ক্ষোভ জন্মে।

সিএমপির ডিসি এসএম মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনার দুইদিন আগেও আরিফের স্ত্রীকে নিয়ে বাজে কথা বলে ফাহিম। আরিফের কাছে ফাহিম বলেন- তার স্ত্রীর সঙ্গ পেতে চান। ওইদিনই আরিফ ফাহিমকে হত্যার পরিকল্পনা করে। যার সূত্র ধরে ২০ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে আরিফ বাসা থেকে একটি কাঁথা ও একটি ছুরি নিয়ে আবুল কাশেমের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় টিনশেডঘেরা পানির টাংকির ওখানে যায়। সাড়ে ৮টার দিকে গলির মুখে দাঁড়িয়ে শাহাব উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির মোবাইল থেকে ফাহিমকে ফোন করে ওখানে আসতে বলে। ফাহিম আসলে তাকে নিয়ে পানির টাংকির ওখানে গিয়ে আড্ডা দেওয়ার জন্য বসে। একপর্যায়ে ফাহিমের গলায় ছুরি চালায় আরিফ। মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য ফাহিমের বুকে, পেটে ও পিঠেও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে সে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার সেখান থেকে চলে যায় আরিফ। ঘটনার তিন দিন পর ২৩ আগস্ট ফাহিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

হত্যার পরপরই স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় খুনির পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ। খোঁজ নিয়ে জানা যায় হত্যাকাণ্ডের পরপরই আরিফ গা ঢাকা দিয়েছে। ভোলার জেলার রতনপুর এলাকায় তার খালার বাড়িতে গিয়ে আত্মগোপন করে। মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে ভোলার জেলার রতনপুর এলাকায় তার খালার বাড়ি থেকে আরিফকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে ভোলার জেলার রতনপুর এলাকায় তার খালার বাড়ি থেকে আরিফকে গ্রেফতার করা হয়। আরিফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী- হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি তার বাসা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ৷

উল্লেখ্য ২০ আগস্ট থেকে নিখোঁজ ছিল ফাহিম। ২২ আগস্ট তার পরিবার চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। ২৩ আগস্ট ডিসি রোডের আবু কলোনীর পাশে আবুল কাশেমের বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে শাখাওয়াত হোসেন ফাহিমের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *