স্কুল ছাত্র সানির প্রকৃত হত্যাকারীদের বিচার চায় ছাত্রলীগ

অপরাধ চট্টগ্রাম মহানগর

Sharing is caring!

চট্টগ্রামে স্কুল ছাত্র জাকির হোসেন সানি হত্যাকান্ড ঘিরে প্রথমে এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের দুই নেতার অনুসারিরা এক পক্ষ অন্য পক্ষকে দোষ দিতে উঠে পড়ে লাগলেও দুই দিন না ঘুরতে সেই অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। দুই দিন আগে এটিকে রাজনৈতিক হত্যাকান্ড বলে দাবি করলেও এখন তাদের দাবি ভিন্ন। এর মধ্যে আলোচনার টেবিলেও বসেছেন এমইএস কলেজের দুই নেতা ওয়াসিম উদ্দিন ও আরশাদুল আলম বাচ্চু। দুই নেতার মধ্যে কি আলোচনা হয়েছে সেসব আলোচনা এই হত্যার বিচার পাওয়ায় কোন প্রভাব ফেলবে কিনা তা নিয়েই এখন নানা প্রশ্নের জন্ম নিয়েছে এই দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে। তবে এই হত্যার প্রকৃত দোষিদের বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে এখনো সরব একটি অংশ।

গত সোমবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে নগরের খুলশী থানাধীন জাকির হোসেন সড়কে ওমরগণি এমইএস কলেজের সামনে অবস্থিত ইক্যুইটি অদিতি ভবনের সামনে হত্যার শিকার হন দশম শ্রেণীর ছাত্র জাকির হোসেন সানি (১৯)। সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দ্বে খুন হওয়া সানিকে ওয়াসিম উদ্দিনের অনুসারি দাবি করে এই খুনের জন্য আরশাদুল আলম বাচ্চুর অনুসারীদের দায়ী করছিল একটি পক্ষ। অন্য দিকে খুনের দায় অস্বীকার করে পাল্টা বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছিল আরশাদুল আলম বাচ্চুর অনুসারীরা।

পরের দিন এই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ঘটনা মোড় নেয় ভিন্ন দিকে। ৭ জনের নাম উল্লেখ করে দায়ের করা মামলার প্রধান দুই আসামিই ওয়াসিম উদ্দিনের অনুসারি। বাকি ৫ জন বাচ্চুর অনুসারী। এই মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছেন চারজন। সৌরভ ঘোষ (২০), সৈয়দ সাফাত কায়সার (১৯), ফয়সাল ও সাব্বির।

এর মধ্যে ফয়সাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেম মোহাম্মদ নোমানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে ফয়সাল জানিয়েছে ফয়সাল জানিয়েছেন- আয়াতুল হক প্রকাশ আয়াতের হাতে ছুরি ছিল এবং আয়াতই প্রথমে জাকির হোসেন সানিকে ছুরিকাঘাত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নগরীর খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রনব চৌধুরী বলেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফয়সাল আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরের দিন বুধবার ফয়সাল আলম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ফয়সাল জানিয়েছেন- আয়াতুল হক প্রকাশ আয়াতের হাতে ছুরি ছিল এবং আয়াতই প্রথমে জাকির হোসেন সানিকে ছুরিকাঘাত করে।

আজ (২৯ আগস্ট) সাব্বির নামে আরেকজন আসামীকে আদালতে সোপার্দ করেছে খুলশী থানা পুলিশ। তবে আদালতে সাব্বিরের কোন জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়নি বলে সিনিউজ অনলাইনকে জানান ওসি প্রণব চৌধুরী।

এই পরিস্থিতে হঠাৎ করে মুখোমুখি অবস্থানে থাকা দুটি পক্ষের প্রধানরা আলোচনায় বসার পর এই বিষয় নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়ে গিয়েছে দুই পক্ষের নেতা কর্মীরা। এই বিষয়ে জানতে চাইলে এমইএস কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ওয়াসিম উদ্দিন বলেন, দেখুন আমার আর বাচ্চুর মধ্যে কোন গ্রুপিং নেই। কোন বিভেদ বা দ্বন্দ্ব নেই। মাঝে মাঝে ছোটদের মধ্যে কিছু ঘটনা ঘটে। তবে তার একটা ঘটনাও রাজনৈতিক না। ফ্যান্টাসি আর ব্যক্তিগত বিষয় নিয়েই তারা দ্বন্দ্বে জড়ায়। পরে সেগুলোকে তারা রাজনৈতিক রূপ দেয়। এই বিষয় নিয়েই আমরা বসেছি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এইসব অপকর্ম যারা করে তাদেরকে এমইএস কলেজের রাজনৈতিক পরিবারে রাখবো না। এসময় এই হত্যার প্রকৃত দোষীদের শাস্তিও দাবি করেন তিনি।

এই বিষয়ে কথা বলতে এমইএস কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস আরশাদুল আলম বাচ্চুকে মুঠোফোনে কল করা হলেও কল রিসিভ করেন নি তিনি।

অন্যদিকে সানি হত্যার পর টানা দুই দিন কলেজ এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য আব্দুর রহিম শামীম। হত্যাকারীদের গ্রেফতারে ২৪ ঘন্টা আল্টিমেটামও বেধে দিয়েছিলেন তিনি। সিনিউজ অনলাইনকে তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এর সাথে জড়িত প্রত্যেককেই চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই। তবে এটাও খেয়াল রাখতে হবে যে এই ঘটনা নিয়ে যাতে কেউ রাজনৈতিক ফয়দা নেয়ার সুযোগ না পায়। নির্দোষ কেউ যাতে হয়রানি না হয়।

এসময় প্রধান দুই আসামীর বিষয়েও কথা বলেন শামীম। তিনি বলেন ঐ দুজন সানির বন্ধু। তাদের সাথে দেখা করতেই বের হয়েছিল সানি। স্বাভাবিকভাবেই সানির সাথে তাদের ফোনে কথা হয়েছে। সেই কলের সূত্র ধরে তাদের আসামী করা হয়েছে। অথচ এখানে তাদের কোন দোষ নেই। এই বিষয়টা আমরা সানির পরিবারের সদস্যদের সাথে কথাও বলেছি। উনারা আমাদের জানিয়েছেন বিষয়টা উনারা দেখবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *