অচিরেই রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হবে, আশ্বাস হানিফের

রাজনীতি

Sharing is caring!

দ্বিতীয় দফায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ ব্যর্থ হলেও শিগগিরই রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। এ জন্য উসকানিমূলক কথাবার্তা না বলারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

হানিফ বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল মানবিক কারণে। এখানে ফাঁদে পড়ার কিছু নেই। আপনাদের প্রতি অনুরোধ, এ বিষয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া বন্ধ করুন। তাহলে আমাদের কাজ করতে সুবিধা হবে। এই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান অচিরেই আপনারা দেখতে পাবেন। ইনশাল্লাহ সমাধান হয়ে যাবে।

শুক্রবার (৩০ আগস্ট) দুপু‌রে বায়তুল মুকাররম মসজিদ অডিটরিয়ামে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক আলোচনা সভায় হানিফ এ কথা বলেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বিএনপি রাজনীতি শুরু করেছে দাবি করে আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বিএনপি রাজনীতি শুরু করেছে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল মানবিক কারণে। এখানে ফাঁদে পড়ার কিছু নেই। এই অসহায় মানুষদের আশ্রয় দিয়ে মানবতা দেখিয়েছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।’

তিনি বলেন, বিএনপির সামনে কোনো রাজনীতির ইস্যু নেই। আজ বিএনপি নামক রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক দল বলা যায় না, এটা একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। স্বাধীনতাবিরোধী, অশুভ শক্তি, দুর্নীতিবাজ শক্তির একটা প্ল্যাটফর্ম বিএনপি। এই প্ল্যাটফর্মে থেকে তাদের লক্ষ্য একটাই— সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করা।

‘এরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যর্থ। তাদের রাজনীতি নেই বলেই অসংলগ্ন কথাবার্তা বলে নিজেদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্ট করছেন। সরকারের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক সমালোচনা করে কোনো লাভ নেই,’— বলেন হানিফ।

রোহিঙ্গা সমস্যাকে বিশ্ববাসীর সমস্যা উল্লেখ করে এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সারাবিশ্বকে এগিয়ে আসতে হবে। আমি অনুরোধ জানাব, যেসব উন্নত রাষ্ট্র আছে, শক্তিধরা রাষ্ট্র আছে, যারা আপনারা সবসময় মানবতার কথা বলেন, আপনাদের আরও সোচ্চার ভূমিকা দেখতে চাই।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়ে হানিফ বলেন, মিয়ানমারের ওপর চাপ তৈরি করুণ। এই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায়। আপনারা আরও দায়িত্বশীল মনোভাব তৈরি করুন। এই রোহিঙ্গাদের নিয়ে এনজিওদের শুধু ব্যবসার মনোভাব ত্যাগ করে তাদেরকে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে চাপ তৈরির চেষ্টা করু— এটাই আমরা চাই।

শোক দিবসের আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু, ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের চেয়ারম্যন মেজবাউর রহমান চৌধুরীসহ অন্যরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *