দীর্ঘ ৪৮ বছর পর পাক-বাহিনীর গণহত্যা স্থানের সন্ধান মিললো সাভারে

জাতীয়

Sharing is caring!

সাভারের ইছরকান্দি গ্রাম। পাক বাহিনী যে গ্রামে ১৯৭১ সালে বর্বর এক হত্যাযজ্ঞ চালায়। নিরীহ এবং অসহায় মানুষের উপর চালানো সেই হত্যাযজ্ঞে প্রায় একশ জন প্রাণ হারান। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর ভয়াবহ সেই হত্যাযজ্ঞের নির্মমতা তুলে এনেছেন।খবর চ্যানেল টোয়েন্টিফোর।

ইতিমধ্যে হত্যাযজ্ঞের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. এনামুর রহমান এবং বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসির মামুন। তারা গণকবরের স্থানটিকে বধ্যভূমি করার উদ্যোগ নেয়ার কথা যেমন জানিয়েছেন, তেমনি মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হকও যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন।

ইছরকান্দি গ্রাম মূলত সাভার থানার ইয়ারপুর ইউনিয়নে। যেটি তুরাগ নদীর তীড়ে অবস্থিত। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ইছরকান্দি গ্রামের একমাত্র অবলম্বন খেয়াপাড়াপাড়। ফলে ১৯৭১ সালের ২০ জুন (বাংলায় ৫ জৈষ্ঠ্য ১৩৭৮ সাল) পাক বাহিনী এই গ্রামে হত্যাযজ্ঞ চালায়। ইছরকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে বিভিন্ন গ্রাম থেকে আত্মগোপনে থাকা বা আশ্রয় নেয়া প্রায় অর্ধশত লোককে লাইন করে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। মাগন মিয়াকে এই গ্রামে সবার আগে হত্যা করা হয়।

নিহত মাগন মিয়ার ভাই মালেক জানান, সকাল বেলা পাকবাহিনীর ৪০/৫০ সদস্য নদী পার হয়ে তাদের বাড়িতে হানা দেয়। এরপর তার ভাইকে হত্যা করে। তিনি জানান, লাশগুলো হত্যার পর কিছু নদীতে ফেলে দেয়া হয় এবং পাঁচটি গণকবরে প্রায় ৪০ জনকে চাপা দেয়া হয়।

বলাই সিধবা নামে একজনের পরিবারের ৯ জনকে সেদিন পাক বাহিনী হত্যা করে। যারা হচ্ছেন- দ্রুপদি সিধবা,সচিন্দ্র চন্দ্র সিধবা, যোগিন্দ্র চন্দ্র সিধবা, প্রফুল্ল চন্দ্র সিধবা, মায়াদাসি সিধবা, ভাই মন্টু চন্দ্র সিধবা এবং লক্ষণ চন্দ্র সিধবার নাম জানা গেলেও বাকি দুজনের নাম জানা যায়নি।
পাচু শিকদারের মা কমলা ও বোন যমুনা পাকবাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞের শিকার হন। এর বাইরে তার আরেক বোনকে গুলি করা হয়।
পাক বাহিনীর হাতে প্রাণ হারানো মন্টু বিশ্বাস পরিবারের স্বজনদের মধ্যে নিতাই শিধা, দয়াল শিধা, হরিনাথ শিধা ও মনিন্দ্র শিধা এবং ছেলে সুধীর সিধা ও সুধাংশু সিধার নাম জানা গেছে। এর বাইরে আরেকজন মারা গেলেও তার নাম জানা যায়নি।

তথ্য মতে, সাতজনের মধ্যে মন্টু বিশ্বাসের স্বজন সীতানাথ মাস্টারের দুই ছেলেকে হত্যা করা হয় এবং একমাত্র মেয়ে পুষ্পরানীকে পাকবাহিনী তুলে নিয়ে যায়। দুই মাস পর ছাড়া পেলে পুষ্পরানী পরিবারের সাথে দেশ ছাড়েন। পাক বাহিনীর হয়ে এই হত্যাযজ্ঞে বাংলাদেশি পাঁচজন দোসর সহযোগিতা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *