চট্টগ্রামে গাড়ি ছিনতাই চক্রের এক তরুণী আটক

অপরাধ চট্টগ্রাম মহানগর

Sharing is caring!

কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি এলাকায় ভাড়া নিয়ে এসেছিলেন ড্রাইভার মীর কাসেম। আবার ফিরে যাবে কক্সবাজার। কিন্তু খালি গাড়ি না নিয়ে যাত্রীসহ যাবে এমন আশায় কল দেয়া হয় অন্য এক ড্রাইভারকে। তবে এর মধ্যেই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একটি নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে কক্সবাজার যাবে বলে জানায় ড্রাইভার কাসেমকে। কাসেমও ফোন পেয়ে খুশি। তবে যারা ফোন দিয়েছে তারা যে একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীর দল, তা জানা ছিল না তার। খবর দৈনিক পূর্বকোণ।

গতকাল শুক্রবার(৩০ আগস্ট) দুপুরে এমনি এক ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে গাড়ি ছিনতাইকারী চক্রের এক তরুণীকে আটক করেছে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ।

তবে অন্যরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করতে সক্ষম হয়নি বলে জানান পুলিশ। আটক ওই নারীর নাম শারমীন আক্তার (২০)। সে মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুর এলাকার আব্দুল হাকিমের মেয়ে।

পুলিশ জানায়, এই দিন দুপুর ১২ টার দিকে নগরীর জিইসি মোড় থেকে কক্সবাজার যাওয়ার জন্য ওই নোহা গাড়ি ভাড়া নেয় কয়েকজন যুবক। এরমধ্যে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বহদ্দারহাট এলাকায় পৌঁছানোর পর এক নারীকেও তুলে নেয় ওই গাড়িতে। গাড়িটি বহদ্দারহাট এক কিলোমিটার এলাকায় পৌঁছালে আরও একজন যাওয়ার বাকি আছে বলে গাড়িটি আবার ফিরিয়ে নেয় ওই যাত্রীরা। গাড়ির ড্রাইভারকে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারে করে লালখান বাজার যাওয়ার জন্যও জানায় যাত্রীরা। এরমধ্যেই জিইসি র‌্যা¤েপর পাশে গাড়ি পৌঁছালে গাড়ির ড্রাইভারকে মারধর করে টাকা পয়সা-মোবাইলসহ ছিনিয়ে নিয়ে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়। পরে ড্রাইভার জিইসি মোড়ের পুলিশ বক্সে এসে বিষয়টি জানায়। এসময় পুলিশ পাকড়াও করে ওই তরুণীকে আটক ও গাড়িটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

কর্তব্যরত সার্জেন্ট আনোয়ার হোসেন রাজু বলেন, ‘ওই গাড়ির পেছনে ছুটে যাওয়ার সময় তিনজন গাড়ি থেকে নেমে একটি সিএনজি ট্যাক্সি নিয়ে পালিয়ে যেতে চাইছিল। এসময় সিএনজি ট্যাক্সির ড্রাইভারকে গাড়ি থামানোর নির্দেশ দেয়ার পরও সে দ্রুত পালিয়ে যেতে চায়। একপর্যায়ে মুরাদপুর এলাকায় পৌঁছালে চলন্ত গাড়ি থেকে দুইজন যুবক পালিয়ে গেলেও ওই তরুণী গাড়িতেই রয়ে যায়। পরে সিএনজি ট্যাক্সিসহ ওই তরুণী ও সিএনজির ট্যাক্সির ড্রাইভারকে আটক করে পাঁচলাইশ থানায় প্রেরণ করা হয়’।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম ভূঁইয়া বলেন, ‘ওই তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ওই তরুণী জানিয়েছেন, তাকে বড় রিপোর্টার বানাবে বলে ই-প্লাস নামে একটি অনলাইন টিভির সাংবাদিক শাহেদ নামে পরিচয় দিয়ে সখ্যতা করে। কিন্তু ঘটনার দিন শাহেদ শারমিনসহ অন্যরা কক্সবাজার যাবে বলে বের হয়। এরমধ্যেই এ ঘটনা ঘটে। ওই তরুণী এখনো পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *