রাস্তা কেড়ে নিয়েছে ছেলের প্রাণ,ছেলে হারা বাবা ৪ বছর ধরে ঠিক করছেন রাস্তার গর্ত

আন্তর্জাতিক

Sharing is caring!

বাবা রাস্তা থেকেই কুড়িয়ে নিচ্ছেন ইটের টুকরো। বালি-সিমেন্ট মাখা এক হাতে, অন্যহাতে সেই মশলা মাখার কড়াই। রাস্তায় রাস্তায় বুজিয়ে দিচ্ছেন খানাখন্দ। ঢেকে দিচ্ছেন রাস্তায় থাকা বড় বড় গর্ত, যাতে কেউ পড়ে না যান। ভারতের মুম্বাইয়ের আন্ধেরির (পূর্ব) বিজয়নগরের আশপাশে এক মধ্যবয়সীর রাস্তা সংস্কারের এই দৃশ্য এখন অনেকেরই পরিচিত।

নিজের পয়সায় রাস্তা সারানো? এসব কেউ করে নাকি? প্রশ্ন করলে কেঁদে ফেলেন ৪৬ বছর বয়সী দাদারাও বিলহোর। ২০১৫ সালের রাস্তার খানাখন্দই কেড়ে নিয়েছিল তার ১৬ বছরের ছেলে প্রকাশকে। তারপর থেকে রাস্তা সারিয়ে চলেছেন এই সবজিবিক্রেতা। বলেন, আর কোনও বাবা-মা যেন সন্তানহারা না হন। সেজন্যই রাস্তায় গর্ত দেখলেই বুজিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। আমার ছেলেও নিশ্চয় তা-ই চাইত।

ওই বছর ২৮ জুলাই ভানদুপের এক পলিটেকনিক কলেজে ভর্তি হওয়ার পর এক কাজিনের সঙ্গে মোটরবাইকে বাড়ি ফিরছিল প্রকাশ। জোগেশ্বরী-ভিখরোলি সংযোগ সড়কে চলছিল পৌরসংস্থার কাজ। রাস্তা খোঁড়া হলেও বিভিন্ন জায়গায় তা ভরাট করা হয়নি। প্রবল বৃষ্টির পর সেই সব গর্তই ছিল পানিতে ভরা। পৌরসংস্থার পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দিয়ে লাগানো হয়নি কোনও বোর্ডও। তেমনই একটি গর্তে পড়ে উল্টে যায় প্রকাশদের মোটরবাইক। প্রকাশ এবং তার কাজিন কয়েক ফুট দূরে ছিটকে পড়ে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই মৃত্যু হয় প্রকাশের। কাজিন রাম গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান।

ছেলের মৃত্যুর সুবিচার পেতে আইনি লড়াইও চালাচ্ছেন বিজয়নগরের এই বাসিন্দা। তিনি জানান, পুরসভার বরাত পাওয়া যে বেসরকারি সংস্থা রাস্তা খুঁড়েছিল, সেটির বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪এ (অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যু) এবং ৩৩৮ (প্রাণঘাতি আঘাত করা) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাস্তা মেরামতির কাজে যুক্ত বম্বে পৌরসংস্থার এক কর্মকর্তাকে এবং এক ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে তাদের জামিন দেওয়া হয়।

প্রথম এলাকার লোকেরা ছিলেন নিছকই কৌতূহলী। এখন দাদারাও যেখানেই রাস্তা সারাতে যান, এগিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। সাধ্যমতো সাহায্য করেন তাকে। দাদারাও রাস্তা সারান আর কাঁদেন। আমার মেয়ে রয়েছে। বাড়িতে আমি কান্নাকাটি করলে ও আরও ভেঙে পড়বে। তাই…! তার ক্ষত শুধু ভরিয়ে যেতে থাকে রাস্তার গর্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *