রানুকে নিয়ে মুখ খুললেন:লতা

বিনোদন

Sharing is caring!

লতাকণ্ঠী হিসেবেই সোশ্যাল মিডিয়ার ‘সুরসাম্রাজ্ঞী’ হয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রানাঘাটের রানু মণ্ডল। কেউ তাকে সাদরে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন, কেউ আবার রানুকে ‘লতাকণ্ঠী’ বলায় জোর চটেছিলেন। তাদের মতে, লতা মঙ্গেশকরের মতো একজন ব্যক্তিত্বকে এতে খাটো করা হয়। বাস্তবের ‘সুরসম্রাজ্ঞী’ কিন্তু এসব নিয়ে কিছুই মনে করছেন না। বরং রানু মণ্ডলকে পিঠ চাপড়ে সাহস দিয়েছেন তিনি। তবে তার প্রচুর প্রশংসা করেছেন, এমনও নয়।

রানাঘাট স্টেশনে বসে একদিন ‘এক প্যায়ার কা নাগমা হ্যায়’ গাইছিলেন রানু মণ্ডল। রোজই গান। কিন্তু সেদিন রানুর গলা আকর্ষণ করেছিল ইঞ্জিনিয়ার অতীন্দ্রকে। ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন তিনি। মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যান রানু। তার কণ্ঠ মোহিত করে সঙ্গীত পিপাসুদের। সেই শুরু। তারপর রানাঘাটের রানু মণ্ডল ডাক পেয়েছেন বহু জায়গা থেকে।

‘সুপারস্টার সিঙ্গার’ কর্তৃপক্ষের ডাকে মুম্বাই যান তিনি। মঞ্চে তার গান মুগ্ধ করে সুরকার হিমেশ রেশমিয়াকে। সেই থেকে হিমেশের প্লেব্যাক সিঙ্গার হয়ে উঠেছেন রানাঘাটের রানু। একটার পর একটা গান রেকর্ড করে যাচ্ছেন। প্রথমে ‘তেরি মেরি কাহানি’, তারপর ‘আদত’, আর এখন ‘আশিকি মে তেরি’। সোশ্যাল মিডিয়ার ‘সুরসম্রাজ্ঞী’ ক্রমশ খ্যাতির সিঁড়ি উঠতে শুরু করে দিয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে নিন্দুকরা অনেকেই বলছেন, লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে রানুর নাম জড়ানো একেবারেই উচিত নয়। লতা এশিয়ার নাইটঙ্গেল। সেই পর্যায়ে এত সহজে পৌঁছনো যায় না। তার জন্য চাই প্রচুর সাধনা দরকার। এসব নিয়েই একটি সংবাদমাধ্যম লতা মঙ্গেশকরের কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিলেন। পরিপ্রেক্ষিতে লতা নিজের উচ্ছ্বাস ব্যক্ত করেছেন। তবে কথা বলার সময় বেশ সমঝদার উত্তর দিযেছেন লতা। বলেছেন, ‘যদি আমার নাম আর কাজের জন্য কারোর ভালো হয়, তাহলে আমি নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করি।’

তিনি জানান, কারোর অনুকরণ কখনও সাফল্যের চাবিকাঠি হতে পারে না। কিশোর কুমার, মহম্মদ রফি, মুকেশ বা আশা ভোঁসলে বা তার গান গাওয়া কিছুদিনের জন্য কাউকে লাইমলাইটে রাখতে পারে। কিন্তু এটা চিরকালীন নয়। অনেকেই তো তার গান ভালো গায়। তার মধ্যে কতজন শেষ পর্যন্ত টিকে যেতে পারে? ‘আমি শুধু সুনিধি চৌহান ও শ্রেয়া ঘোষালকে চিনি’, বলেন লতা। এই প্রসঙ্গে আশা ভোঁসলেকেও টেনে আনেন তিনি। বলেন, ‘যদি আজ আশা নিজের স্টাইলে গান না গাইত, তবে সে চিরকাল আমার ছত্রছায়ায় থেকে যেত। স্বতন্ত্রতা মানুষের ট্যালেন্টকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে, সে তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *