চট্টগ্রামে বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ তিন রোহিঙ্গা যুবক আটক

অপরাধ চট্টগ্রাম মহানগর প্রচ্ছদ

Sharing is caring!

চট্টগ্রামের আকবরশাহ থানা এলাকা থেকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে তুরস্কের ভিসা সংগ্রহের জন্য ঢাকায় যাবার পথে পাসপোর্টসহ তিন রোহিঙ্গা তরুণ আটক করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে নিজেদের রোহিঙ্গা পরিচয় আড়াল করে বানানো তিনটি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরীর আকবর শাহ থানার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মীর সিএনজি স্টেশনের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়েছে।

আটককৃত তিনজন হলো-মো. ইউসুফ (২৩) ও তার ভাই মো. মুসা (২০) এবং আরেক তরুণ মোহাম্মদ আজিজ (২১)।

আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন,ইউসুফ ও মুসা মিয়ানমারের মংডু প্রদেশের অংচি গ্রামের আলী আহমদ ও লায়লা বেগমের ছেলে। আজিজ একই প্রদেশের চালিপাড়া গ্রামের জমির হোসেন ও রাশিদা বেগমের ছেলে বলে জানা গেছে।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারে সহিংসতা শুরুর পর তারা পরিবারসহ পালিয়ে কক্সবাজার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ইউসুফ ও মুসার পরিবার থাকে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার থাইংখালী এলাকায় ১৪ নম্বর ক্যাম্পের ব্লক-বি-২ এ। আর আজিজের পরিবার থাকে একই ক্যাম্পের ব্লক-এফ-৬ এ।

ওসি মোস্তাফিজুর বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর তারা নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার একটি ঠিকানা ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে। নোয়াখালী জেলা পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করে তারা।’

‘তাদের উদ্দেশ্য ছিল প্রথমে তুরস্কে যাওয়া। সেখান থেকে ইউরোপ। তুরস্কের ভিসার জন্য যাচ্ছিল তারা। তাদের কাছে পাসপোর্ট দেখে আমাদের একটি টিমের সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ঠিকানাও সঠিক বলতে পারেনি। একপর্যায়ে তারা নিজেদের রোহিঙ্গা পরিচয় স্বীকার করে।’

ওসি আরও বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে তিনজন জানিয়েছে- দালালের মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে তারা পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছে। সেই দালালের পরিচয় আমরা সংগ্রহ করছি। তিনজনের পাসপোর্ট ও তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট আইনে মামলা হয়েছে।’

এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার পাশে বার্মা কলোনি থেকে ৪ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে পুলিশ। এদের মধ্যে একজন পুরুষ ও তিনজন নারী। একজনের কাছে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *