খেয়াল রাখুন সন্তান যেন কিশোর গ্যাংয়ে না জড়ায়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয়

Sharing is caring!

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, কিশোরদের রাতের বেলাও ঘরের বাইরে দেখা যাচ্ছে। রাতের বেলায় তাদের পড়ার টেবিলে থাকার কথা। তারা বাইরে থাকবে কেন? আমরা দেখছি তারা অনেক রাত পর্যন্ত বাইরে থাকছে।

অভিভাবকদের বলব, আপনারা সন্তানদের খেয়াল রাখুন। তারা যেন কিশোর গ্যাং গ্রুপের সাথে যুক্ত হয়ে না পড়ে। কোনো অপরাধ কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত না হয়। তবে যদি কোনো কিশোর অপরাধ করেই থাকে, তাহলে কিশোর আইনে তাদের বিচার হবে। কোনো মাফ হবে না।’

শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে মিরপুর পুলিশ স্টাফ কলেজে ‘বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার্স কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে মাদক সন্ত্রাস, শিশু নির্যাতন, ইভটিজিং, বাল্যবিয়ে ও ইন্টারনেট সেলফোনের অপব্যবহার প্রতিরোধে করণীয় শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি কিশোর বয়সী ছেলেরা ‘কিশোর গ্যাং’ নামে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সমাজের সকলেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। যদিও কিশোর গ্যাং গ্রুপ বন্ধ করতে পুলিশ কাজ করছে। তবে অভিভাবকদের সবার আগে সচেতন হতে হবে এবং এগিয়ে আসতে হবে। সন্তানদের শাসন করতে হবে। তারা যেন সন্ধ্যার পর পড়ার টেবিল ছেড়ে বাইরে ঘুরতে বের না হয়।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি অনেককেই দেখি সারাদিন তারা ফেসবুকে থাকে। ফেসবুকে আসক্তি হয়ে গেছে। কোনো দিকে তাকাতাকি নেই। শুধুই ফেসবুক চালাচ্ছে তো চালাচ্ছেই। তারা সারাদিনই ফেসবুকে থাকে। গতকাল এক ছাত্রনেতা এসে আমাকে বলছিল, গুলশান মসজিদের ইমাম তার বয়ানে বলেছেন, এটা সোশ্যাল মিডিয়া না, সোশ্যাল কোকেন। এই সোশ্যাল কোকেন থেকে আমাদের রক্ষা পেতে হবে। মসজিদের ইমাম যথার্থ বলেছেন। মাদকের বিরুদ্ধেও আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে।’

ইভটিজি বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইভটিজিং নিয়ে কাজ করছে এই সরকার। আমরা ইভটিজিং অনেকটাই কমাতে পেরেছি, তবে আরও কমাতে হবে। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, অভিভাবকরা ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। স্কুল-কলেজের গভর্নিং বডির এ বিষয় আরও কাজ করা উচিৎ।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘শিশুদের মানুষ হওয়ার জন্য ‘আমরা নিজেরাই কিছু বলছি না। আমরা শুধু বলছি, জিপিএ-৫ পাও। কাজেই শিশুরাও তাই ধারণা করে, যে জিপিএ-৫ পেলে জীবনে সব অর্জন হয়ে যাবে।’

অনুষ্ঠানে নতুন ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সন্তানরা আজকাল অভিভাবক, রাজনীতিবিদ ও শিক্ষকদের কাজের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল খুঁজে পান না। অভিভাবকরা এখন রাত জেগে ইন্টারনেটে পরীক্ষার ফাঁস হওয়া প্রশ্ন খোঁজেন। সেই প্রশ্ন দিয়ে পরদিন তার সন্তান পরীক্ষা দেবেন। সেই পরীক্ষায় সন্তান জিপিএ-৫ পাবে। শিক্ষার্থীরা যখন দেখে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি টাকা খেয়ে একজন অদক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছে। তাহলে তারা কী নৈতিকতা শিখবে। সন্তান দেখছে, তার বাবার বেতনের সঙ্গে সম্পদের পার্থক্য। তার বাবা যে বেতন পায়, তাতে এত সম্পদ হওয়ার কথা না। কিন্তু তার বেতনের তুলনায় সম্পদ বেশি। তাহলে এই সন্তান তার বাবার কাছ থেকে কী শিখবে? এসব কারণেই অভিভাবক অনৈতিক হলে সন্তানের কাছে নৈতিকতা আশা করতে পারি না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *