চট্টগ্রামে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

অন্যান্য সংবাদ চট্টগ্রাম মহানগর

Sharing is caring!

চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদের আহ্বানে ও ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চল‌ছে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট।

আজ রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। ৯ দফা দাবিতে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় উক্ত ধর্মঘটের ডাক দেয় চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদ। কর্মসূচি সফল করার জন্য ধর্মঘটের সমর্থনে বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলায় পৃথক সভা-সমাবেশও করেছেন পরিবহন মালিক নেতারা। এ ধর্মঘটে সমর্থন জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী পরিবহন সার্ভিসের ৯ সংগঠনের নেতারা। গতকাল শনিবার এক মতবিনিময় সভায় এ সমর্থন জানানো হয়। জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সহ-সভাপতি ও সিটিবাস মিনিবাস হিউম্যান হলার ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক মিয়া এতে সভাপতিত্ব করেন। সভায় সিটিবাস মিনিবাস হিউম্যান হলার ওনার্স এসোসিয়েশন, সিটি সার্ভিস ওনার্স এসোসিয়েশন, লুসাই পরিবহন, কালুরঘাট মালিক সমিতি, মহানগর মালিক সমিতি, প্রিমিয়ার ট্রান্সপোর্ট, লিটন মটরস্‌, যাত্রীসেবা সার্ভিস ও হিউম্যান হলার মালিক সমিতি ধর্মঘটে সমর্থন জানিয়েছে।সিটি বাসের সহ-সভাপতি আহসান উল্লাহ হাচান, সিটি ওনার্সের সভাপতি তরুন দাশগুপ্ত ভানু, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম চৌধুরী, জাফর আহম্মদ, লুসাই পরিবহনের সহিদুল ইসলাম , কালুঘাট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অহিদুন নুর কাদেরী, মহানগর মালিক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. রেজাউল, প্রিমিয়ার ট্রান্সপোর্টের পরিচালক সহিদ নাঈম সুমন, লিটন মোটরস সার্ভিসের সভাপতি ওসমান গণি, যাত্রী সেবা সার্ভিসের জাহাঙ্গীর আলম, হিউম্যান হলার মালিক সমিতির গোল মোহাম্মদ, শ্রমিক নেতা আবুল কাসেম, নুরুল ইসলাম, মো. ইলিয়াছ, মো. মানিক. মো. নওশাদ প্রমুখ সভায় অংশ নেন।

ভোক্তা অধিকার আইনের বিভিন্ন ধারা প্রয়োগ করে বিআরটিএর অভিযানে অধিকহারে জরিমানা আদায়, কাগজপত্র হালনাগাদ করার ক্ষেত্রে বিআরটিএর কার্যক্রমে ভোগান্তি, সড়ক-মহাসড়কে পুলিশের চাঁদাবাজি প্রতিবাদে এবং গণ ও পণ্য পরিবহনের কাগজপত্র হালনাগাদ করার জন্য জরিমানা মওকুফ, হাইওয়ে-থানা পুলিশ দ্বারা গাড়ি জব্দ ও রিকুইজিশন বন্ধ করা, মেট্রো এলাকায় গাড়ির ইকোনোমিক লাইফের নামে ফিটনেস ও পারমিট নবায়ন বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, নানা অজুহাতে গাড়ি ডাম্পিং বন্ধ ও ড্রাইভার দিয়ে চালিত গাড়ির রেকার ভাড়া আদায় বন্ধ, সড়ক-মহাসড়কে অননুমোদিত যান চলাচল বন্ধ, অবৈধ স্থাপনা অপসারণ, চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কে স্থাপিত ওজন স্কেল সেনাবাহিনী দ্বারা পরিচালনা, চেকিংয়ের নামে হয়রানির বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে গত ৪ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে উক্ত আল্টিমেটাম দেয় চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদ।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক গোলাম রসুল বাবুল শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় বলেন, ‘পরিবহন সেক্টরের নানা হয়রানি দূর করতে ৯ দফা দাবিতে আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম। কিন্তু প্রশাসন এখনো সেইসব দাবিপূরণে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো থেকে আমাদের সাথে যোগাযোগ করলেও তারা কোন আলোচনাই শুরু করেননি। যে কারণে আমরা রোববার সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বৃহত্তর চট্টগ্রামে গণ ও পণ্য পরিবহনগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *