খাগড়াছড়ির অপরুপ সৃষ্টির সৌন্দর্য ‘রিছাং ঝর্ণা’

পর্যটন ফিচার

Sharing is caring!

আইয়ুব:দেখতে মনে হবে পাহাড়ের বুক চিড়ে সাগরের জলধারা খেলা করতে করতে গড়িয়ে পড়ছে সমতলের দিকে। এ যেন সৃষ্টিকর্তার এক অপরুপ সৃষ্টির সৌন্দর্য। ঝর্ণাটি সৃষ্টি হয় ১৯৯৩-৯৪ সালে। সৃষ্টিলগ্ন থেকে এইভাবেই পাহাড়ের ঘা ঘেষে গড়িয়ে পড়ছে পানি। যদিও বর্ষা মৌসুমে এর তিব্র-তা বৃদ্ধি পায় অনান্য মাসের চাইতে। পাহাড়িদের কাছে এটি নিত্যনতুন কিছু না হলেও ভ্রমণ পিয়াসু মানুষের জন্য এটি সৃষ্টিকর্তা কতৃক অনন্য উপহারের চেয়ে কোনদিক দিয়ে কম নয়।

পাহাড়ি ঝর্নার রূপবতী রূপ দেখতে হলে আপনাকে পাড়ি দিতে হবে বাংলাদেশের ভূ-পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে। উঁচু- নিচু সব পাহাড়ের বেষ্টনীতে ঘেরা রাস্তা বেয়ে আপনাকে পৌঁছাতে হবে মাটিরাঙ্গা উপজেলার সাপমারা গ্রামে। খাগড়াছড়ি থেকে যার দূরত্ব ১১কি.মি। সেখান থেকে উওর-পশ্চিমে উপরের দিকে সরু রাস্তা বেয়ে যেতে হবে ঝর্ণার পাশের উঁচু পাহাড়টিতে। যার দূরত্ব রাস্তা থেকে প্রায় ১ কি.মি। যেটার উপর থেকে নিচের দিকে থাকালে আপনার মনে হবে আপনি দাঁড়িয়ে আছেন ‘আরব-আমিরাত’ এর “ব্রুজ খলিফা” টাওয়ারের চূড়ায়। যাহার উচ্চতা সর্বোচ্চ ১০০-১২০ ফুট। সেখান থেকে আপনাকে নামতে হবে ২৩৫ টি ছোট ছোট সিঁড়ি দিয়ে প্রায় ১০০ ফুট নিচের দিকে। যেখানটাতে আপনি যাওয়ার পথে দেখতে পাবেন ছোট ‘খড়’ বা ‘টিনের ছাউনি’ দ্বারা বেষ্টিত উপজাতিদের দোকান-পাট এবং বিশ্রাম নেওয়ার জন্য বিশ্রামাগার। পাশাপাশি তৃষ্ণা মেটানোর জন্য পাবেন ডাব আর লেবুর শরবত। যার সাথে দেখতে পাবেন লাঠির মত বাঁশের কাট (যার মূল্য রাখা হবে পিস প্রতি ১০ টাকা) যেটা আপনাকে ফেরার পথে অনেকটা সাহায্য করবে।

কারন নিচের দিকে যদিওবা সিঁড়ি দিয়ে অনেকটা সহজে নেমে যাওয়া যায় কিন্তু আসার পথে ২৩৫ টি সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে হয়। যার কারনে লাঠি আপনার শরিরের ভারসাম্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। তারপর কিছুটা সমতলে হেটে গেলেই দেখতে পাবেন অপূর্ব সেই ঝর্নার ধারা। যার উচ্চতা সমতল থেকে প্রায় ১০০ ফুট। যার পানিতে শরীর ভেজালে পাওয়া যাবে স্বর্গীয় অনুভূতির স্বাদ।পানির গতিপথ ঢালু হওয়ায় সৃষ্টি হয়েছ “প্রাকৃতিক ওয়াটার স্লাইডিং” যেটা ভ্রমণ পিয়াসী মানুষের জন্য প্রধান আকর্ষণ। শুধু ঝর্না নয়, চারিদিকে সবুজের সমারোহ আর পুরো যাত্রা পথটাই বেশ রোমাঞ্চকর।

লেখক:মো.আইয়ুব খান
ছাত্র:-সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *