পুলিশ বাহিনী বাকি ছিল, তাদেরও ব্যাংক দিলাম: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয়

Sharing is caring!

সশস্ত্র বাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও আনসার-ভিডিপির পর এবার পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের জন্যও সরকার ব্যাংক করে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার পুলিশকেও তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ব্যাংক দিয়েছি, বিজিবির জন্য ব্যাংক দিয়েছি, আনসার ভিডিপি’র জন্য ব্যাংক করে দিয়েছি। পুলিশ বাহিনী বাকি ছিল, তাদেরও ব্যাংক করে দিলাম। কিন্তু অর্থনৈতিক উন্নতি করতে হলে দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। এই শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব পুলিশের। আমি আশা করি, যে আন্তরিকতার সঙ্গে আপনারা দায়িত্ব পালন করছেন, সেভাবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন যেন আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পুলিশ ট্রাস্টের কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের কার্যক্রম উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত কমিউনিটি ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলে মোট ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫৯টি। যাত্রা শুরুর দিন থেকেই রাজধানীর পুলিশ প্লাজা কনকর্ডে করপোরেট শাখাসহ মতিঝিল, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, হবিগঞ্জ ও চট্টগ্রামে এ ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হলো।

ব্যাংকটির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করার পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সবসময় চেষ্টা করি আমাদের পুলিশ বাহিনীর জন্য কাজ করার। যতটুকু সম্ভব তাদের পরিবার-পরিজন যেন সুস্থ থাকতে পারে, সেজন্য আমরা কাজ করি। সে কারণে আমরা ট্রাস্ট গঠন করে দিয়েছিলাম। অনেকেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। তাদের পরিবারকে আগে যে অর্থ দেওয়া হতো, তার পরিমাণ ছিল খুবই সীমিত। আমরা সেই অর্থের পরিমাণও বাড়িয়েছি। আবার শুধু ট্রাস্ট গঠন নয়, ট্রাস্টের উপার্জনের জন্য কী কী করণীয়, সে বিষয়েও বেশকিছু সুবিধা করে দিয়েছিলাম।

পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনের জন্য পুলিশকে আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে আমরা অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট করে দিলাম। সাইবার ক্রাইম দমনে সাইবার পুলিশ সেন্টারও করা হয়েছে। তারা যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে। এরকম প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই দায়িত্ব পালনের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দরকার। এ কারণেই আমরা স্টাফ কলেজ করে দিয়েছি, যেন সেখানে পুলিশ আরও জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে আমাদের পুলিশ বিশেষ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। শান্তিরক্ষা মিশনে কিন্তু পুলিশদের অন্যান্য দেশের পুলিশদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হয়। সেখানে যাদের পাঠানো হয়, তাদের সেই প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা না থাকলে আমাদের কাজগুলো ঠিকমতো হয় না, ভাবমূর্তিও নষ্ট হয়। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে মহিলা পুলিশ দল খুব ভালো কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান বাড়াতে হবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, মাদক একেকটা পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়, সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। এমনকি মাদকের জন্য ছেলে মাকে মেরে ফেলে, ভাই ভাইকে মেরে ফেলে। ছেলে বাবাকে মেরে ফেলে। এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে, তাই মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান আরও বেশি করে চালাতে হবে।

অনুষ্ঠানে গণভবন প্রান্তে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন ও পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

গণভবনে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান। রাজারবাগ প্রান্তের অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ময়নুর রহমান চৌধুরী। এছাড়াও সুবিধাভোগী হিসাবে অনুভূতি জানান পুলিশ কনস্টেবল খায়রুন নাহার চৌধুরী ও সহকারী পুলিশ সুপার সুবল কান্তি চৌধুরী।

পরে গণভবন প্রান্ত থেকে গুলশান করপোরেট কার্যালয়ে সংযুক্ত হয়ে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউল হক চৌধুরীর সঞ্চালনায় গুলশান করপোরেট শাখার ব্যবস্থাপক হাসিনা ফেরদৌস মতবিনিময় করেন। এছাড়াও গ্রাহক পর্যায় থেকে একজন কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা স্মারক হস্তান্তর করেন কমিউনিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

এর আগে, ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় পুলিশ ট্রাস্টের ‘কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড’র কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই বছরের ১ নভেম্বর সেটিকে তফসিলি ব্যাংক হিসেবে তালিকাভুক্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *