ছাত্রলীগে শনিবারের অপেক্ষা!

প্রচ্ছদ রাজনীতি

Sharing is caring!

ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়ে চলমান বিতর্কের অবসান হতে পারে আগামীকাল। আগামী শনিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় শোভন-রাব্বানীর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। এই খবর প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই ছাত্রলীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরণের উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। বিভিন্ন কারণে সংগঠনের বড় একটি অংশই চাচ্ছে বর্তমান শীর্ষ দুই নেতার বিদায়। আর সেই বিষয়ে শনিবার কি সিদ্ধান্ত আসছে তার দিকেই এখন নজর তৃণমূল ছাত্রলীগের।

এই বিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় বেশ কয়েকজন নেতৃবৃন্দ ও সাবেক এক শীর্ষ নেতার সাথে কথা হয় সিনিউজ অনলাইনের। তবে যেহেতু দলীয় প্রধান নিজে এই বিষয়টি দেখছেন সেহেতু এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাননা বলে জানিয়েছেন তারা। বর্তমান শীর্ষ দুই নেতার বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই সরব থাকা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিনিউজকে বলেন, আমরা শুরু থেকেই এই দুই জনের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্ছার ছিলাম। এখন নেত্রী এসব অনিয়মের ব্যাপারে কথা বলেছেন। আমাদের আর কিছুই বলার নেই। ছাত্রলীগের জন্য নেত্রী যা ভাল মনে করবেন তাই চূড়ান্ত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হল শাখা ছাত্রলীগের এক নেতা জানান, বিষয়টা যেহেতু নেত্রী নিজেই দেখছেন সেহেতু এই বিষয়ে কেউই স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছে না। তবে যতটুকু শুনেছি দুই জনকেই সরিয়ে দেয়া হতে পারে। আবার নাও হতে পারে।

সেক্ষেত্রে দুজনকে সরিয়ে দেয়া হলে আপাতকালীন সমাধান হিসেবে আল নাহিয়ান খান জয়কে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও লেখক ভট্টাচার্যকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হতে পারে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল এজেন্ডা ছিলো রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচন এবং কয়েকটি উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করা। কিন্তু সেখানে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ঘিরে। একপর্যায়ে ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে বিরক্তি প্রকাশ করে কমিটি ভেঙে দিতে বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই দুই নেতার বিরুদ্ধে বিতর্কিতদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা দেয়া, দুপুরের আগে ঘুম থেকে না ওঠা, অনৈতিক আর্থিক লেনদেন ইত্যাদি অভিযোগ এসেছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

এদিকে গণভবন থেকে এমন খবরের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করার চেষ্টা করেন শোভন-রাব্বানী। তবে সেই চেষ্টা সফল হয়নি। পরবর্তীতে নিজেদের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠকে বসেন শোভন-রাব্বানী। পদ টিকেয়ে রাখতে যোগাযোগের চেষ্টা করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সাথে। তবে কোনো উপায় কাজে দেয়নি। সবশেষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাস ভবন গণভবনে প্রবেশের পাসও বাতিল করা হয়।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেন, তার (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) কাছে ক্ষুদ্ধ হওয়ার মতো কোনো তথ্য যেহেতু এসেছে এবং তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, তাই এই জায়গাটায় কারো কোনো ধরণের ভিন্ন চিন্তা করার উপায় নেই।

শোভন-রাব্বানী প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, কমিটি পরিবর্তন প্রয়োজন কিনা কিংবা কাউন্সিল কবে দেবে, এই সিদ্ধান্তগুলো সর্বোচ্চ জায়গা থেকে আসবে। যারা দেখভালের দায়িত্বে আছেন আমরা বৈঠক করছি, সাধারণ সম্পাদকের সাথে বৈঠক করছি, আমরা আমাদের নেত্রীর সাথে সাক্ষাত করছি, দেখা করছি, কথা বলছি। আমরা অচিরেই আপনাদেরকে একটা সংবাদ দিতে পারবো।

এরমধ্যেই আগামী শনিবার গণভবনে আসন্ন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। আর এই খবর প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। গত কয়েকদিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট যে শনিবার কি সিদ্ধান্ত আসবে তা নিয়েই এখন প্রবল আগ্রহ কাজ করছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *