যুব এশিয়া কাপ ফাইনালে তীরে গিয়ে তরী ডুবল বাংলাদেশের

খেলাধুলা

Sharing is caring!

একই নদী, একই জলপথ আর একই ঢেউ; কিন্তু তীরে গিয়ে তরী ডুবে গেল আরও একবার। লেখা হলো হাহাকারের পুরনো গল্পটাই।

নদীর জায়গায় এশিয়া কাপ, জলপথের জায়গায় ফাইনাল আর ঢেউয়ের জায়গায় ভারত এখানে চরিত্র। অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের শিরোপা নির্ধারণীতে ভারতীয়দের বিপক্ষে বাংলাদেশের যুবাদের পরিণতি হলো তেমনটাই, যেমনটা ছিল ২০১৬ আর ২০১৮-এর এশিয়া কাপে মাশরাফি-সাকিবদের যাত্রার সমাপ্তি। ঢাকা আর দুবাইয়ের পর এবারের যাত্রা কলম্বোয়। ভারতকে ১০৬ রানে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর আশা জাগানো বাংলাদেশ থেমে গেল ১০১ রানে। ৫ রানের ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দল হাতে তুলল যুব এশিয়া কাপের শিরোপা, আগের সাত আসরের মধ্যে যা তারা আরও ছয়বার তুলেছিল।

কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে গতকাল দারুণ এক অর্জনের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯। টুর্নামেন্টের ত্রিশ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম ফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। আকবর আলীর নেতৃত্বাধীন দলটি ফাইনালে পা রাখে গ্রুপ পর্বের দাপুটে জয়ের প্রদর্শনী দেখিয়ে। নারী ক্রিকেটে এশিয়া কাপ জয়ের কীর্তি থাকলেও অনূর্ধ্ব-১৯ বা জাতীয় দল পর্যায়ে বাংলাদেশ কখনও এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে পারেনি। এবার যুব পর্যায়ের ক্রিকেটে সেটি সম্ভব হতে যাচ্ছে বলে আশাবাদ ছিল শুরু থেকেই। ফাইনালে ভারতকে মাত্র ১০৬ রানে আটকে দেওয়ার পর তো মনে হচ্ছিল ট্রফি কেবল হাতে ওঠানোর অপেক্ষায়। কিন্তু ব্যাটিংয়ে নেমে সব গড়বড় করে ফেললেন ব্যাটসম্যানরা। মাত্র ১৬ রানের মধ্যেই ফিরে গেলেন প্রথম চার ব্যাটসম্যান। যার মধ্যে আছেন গ্রুপ পর্বে শ্রীলংকার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা মাহমুদুল হাসান জয় আর বর্তমান স্কোয়াডের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল তৌহিদ হৃদয়।

এর পরও অবশ্য ঘুরে দাঁড়ানোর আশা ছিল। ভারতও মাত্র ৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়েছিল, তার ওপর বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্যটা ওভারপ্রতি মাত্র দুই রানের মতো। শাহাদাত হোসেনকে নিয়ে অধিনায়ক আকবরের পঞ্চম উইকেট জুটি তুলল ২৪ রান; এরপর জোড়া আঘাতে পরপর শাহাদাত ও বল হাতে ৩ উইকেট নেওয়া শামিম হোসেনের বিদায়। ৫১ রানে ষষ্ঠ উইকেট পতনের পর আকবরের সঙ্গে জুটি গড়ে উঠল মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর। এ জুটি একটু একটু করে জয় সম্ভব করে তুলছিল, তখনই আবার জোড়া আঘাত। আকবর কট অ্যান্ড বোল্ড হলেন বাঁহাতি স্পিনার আথার্ভা আনকোলেকারের বলে, এক বল পর চালিয়ে খেলতে গিয়ে আউট মৃত্যুঞ্জয়ও। আকবর ৩৬ বলে করেন ২৩ রান, মৃত্যুঞ্জয় ২৬ বলে ২১। ৭৮/৮ স্কোরে দাঁড়িয়ে গড়ে ওঠে আরেকটি জুটি। তানজিম হাসান সাকিব আর রাকিবুল হাসানের নবম উইকেটের এ জুটি দলকে নিয়ে যায় তিন অঙ্কের ঘরে। যখন দরকার আর মাত্র ৬ রান, হাতে দুই উইকেট- এমন সমীকরণের মুহুর্তে আনকোলেকারের স্পিনে এলবি হন সাকিব। তবে ৩৫ বলে ১২ রান করা সাকিবের আউটের সিদ্ধান্তটি ছিল বিতর্কিত। টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে বল প্যাডে লাগার আগে সাকিবের ব্যাটে লেগেছিল। তবে ডিআরএস না থাকায় শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সাকিবের পরপর শাহিনের বোল্ড হতেই ভারতের জয়োৎসব শুরু হয়ে যায়, হতাশায় মুষড়ে পড়ে বাংলাদেশ ড্রেসিংরুম।

অথচ এর আগে কী দারুণ এক জয়ের সুবাসই এনে দিয়েছিলেন বোলাররা। গত মাসে ইংল্যান্ডে আয়োজিত ত্রিদেশীয় যুব সিরিজের ফাইনালে এই ভারতের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেদিন ব্যাটসম্যানরা ২৬১ রান তুলে দেওয়ার পর বোলাররা সেটি রক্ষা করতে পারেননি। এবার সেই একই বোলাররা মাত্র ১০৬ রানেই আটকে দিলেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের। ডানহাতি অফস্পিনার শামিম ৬ ওভার বল করে মাত্র ৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট আর বাঁহাতি পেসে মৃত্যুঞ্জয় ৭.৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে অবধারিতভাবে মূল কাজটা করে দিয়েছেন, তবে ডানহাতি পেসে দলকে ভালো শুরু এনে দেন সাকিবও। ৭ ওভার বল করে রান দেন ২২টি, তার একমাত্র উইকেটটিতেই ভাঙন ধরে ভারতের ইনিংসে। ৮৪ রানে নবম উইকেট হারানোর পর শেষ জুটিতে ২২ রান যোগ করে ভারত, শেষ পর্যন্ত যা ম্যাচেরই ফল নির্ধারক। বাংলাদেশের হতাশার গল্পের পুনরাবৃত্তিরও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *