যুবলীগের মহানগর কমিটি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে

রাজনীতি

Sharing is caring!

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর যুবলীগের কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। খুব শিগগিরই এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে। যুবলীগের উচ্চ পর্যায়ের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্রমতে, ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর যুবলীগের শীর্ষ নেতাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনা, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক, অস্ত্রবাজিসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের হাতে পৌঁছেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের ক্ষমতা খর্ব করতে কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের ৭৪তম অধিবেশনে যোগ দিতে বিকেলে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগেই যুবলীগের দুই কমিটি ভেঙে দেবেন প্রধানমন্ত্রী। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ।

এই মুহূর্তে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন রেজাউল করিম রেজা। উত্তরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন মাইনুল হোসেন খান নিখিল ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন ইসমাইল হোসেন।

দলীয় সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতাদের নানা রকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ওই বৈঠকেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে চাঁদা দাবির অভিযোগে সমালোচনার মুখে থাকা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ওই বৈঠকে যুবলীগের কয়েকজন নেতা সম্পর্কেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে তিনি বলেন, যুবলীগের কিছু নেতা শোভন-রাব্বানীর চেয়েও খারাপ। যুবলীগের ঢাকা মহানগরের একজন নেতা যা ইচ্ছে করে বেড়াচ্ছেন, চাঁদাবাজি করছেন। আরেকজন এখন দিনের বেলায় প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে চলেন। সদলবলে অস্ত্র নিয়ে ঘোরেন। এসব বন্ধ করতে হবে। যারা অস্ত্রবাজি করেন, যারা ক্যাডার পোষেণ, তারা সাবধান হয়ে যান, এসব বন্ধ করুন। তা না হলে যেভাবে জঙ্গি দমন করা হয়েছে, একইভাবে তাদেরও দমন করা হবে।

বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগ নেতাদের ধারণা, যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ও সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে ইঙ্গিত করেই প্রধানমন্ত্রী ওইসব কথা বলেছিলেন।

দলীয় সূত্রমতে, বিস্তর অভিযোগের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রথম অব্স্থায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে শোকজ করা হয়। কিন্তু ওই শোকজের সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বিকেলে গুলশান ২ নম্বরের ৫৯ নম্বর সড়কে খালেদের বাসা ও ফকিরাপুলে ইয়ং মেনস ক্লাবে খালেদের নিষিদ্ধ ক্যাসিনোতে একযোগে অভিযান চালায় র‌্যাব সদস্যরা। ক্যাসিনোতে মদ আর জুয়ার বিপুল সরঞ্জামের পাশাপাশি প্রায় ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। দুই নারীসহ ১৪২ জনকে আটক করা হয়। গুলশান বাসা থেকে অবৈধ অস্ত্র, গুলি, মাদকসহ আটক হন খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া।

ঠিক একবছর আগে, গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার প্রাক্কালে গণভবনে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাতে গেলে মহানগর যুবলীগ নিয়ে নিজের ক্ষোভের কথা জানিয়েছিলের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান। এখানে বেওয়ারিশ লাশ দাফন হয়। এখানে আমি ও শেখ রেহানাও সাহায্য করি। এ প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা দাবি করা ও চাঁদা না দেওয়ায় ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেওয়া, এটা আমি সহ্য করবো না।’

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয় প্রায় ছয় বছর আগে। সংগঠনটির তিন বছর মেয়াদি সর্বশেষ কমিটি হয় ২০১২ সালের ১৪ জুলাই। আওয়ামী লীগের ২০১৬ সালের সম্মেলনের আগে অন্যান্য সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি গঠন করা হলেও যুবলীগের সম্মেলন বা কমিটি হয়নি। মূলত শীর্ষ নেতাদের অনীহার কারণেই সম্মেলন হচ্ছে না বলে অভিযোগ আছে দলের মধ্যে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *