পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোরগঞ্জে ও চুয়াডাঙ্গায় নিহত ৬

সারাদেশ

Sharing is caring!

কিশোরগঞ্জ ও চুয়াডাঙ্গায় পৃথক তিন সড়ক দুর্ঘটনায় ছয় জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জে দুইটি যাত্রীবাহী বাস ও একটি ট্রাকের ত্রিমুখী সংঘর্ষে মারা গেছেন চার জন। এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ হন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গায় দুইটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা গেছেন আরও দুই জন।

মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অনন্যা সুপার পরিবহনের দুইটি বাস কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়কে কটিয়াদীর আছমিতা ইউনিয়নের গাঙকুল পাড়া মাদরাসার সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এসময় ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় আহত অন্তত ১৭ জনকে নেওয়া হয় বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে আরও দু’জন মারা যান।

কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শামা মো. ইকবাল হায়াত দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেন।

দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন— ভৈরব উপজেলার তিয়ারের চর গ্রামের লুৎফুর রহমানের ছেলে টমি (৬), ভৈরবের গজারিয়া গ্রামের বাদল মিয়ার ছেলে ফয়সাল (৮) ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার অষ্টবর্গ গ্রামের লস্কর মিয়ার ছেলে বারিক মিয়া (৪০)। আরেকজনের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দর্শনা ফিলিং স্টেশনের কাছে ও ভুলটিয়া বাজারে আলাদা দুই সড়ক দুর্ঘটনায় জুলফিকার আলী (৪০) ও মেহেদী হাসান পলাশ (৩০) মারা গেছেন। জুলফিকার আলী দামুড়হুদা উপজেলার নতুন হাউলী গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে ও মেহেদী হাসান ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ড উপজেলার কাপাশহাটিয়া গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান জানান, দুপুরে জুলফিকার আলী নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে জীবননগর যাচ্ছিলেন। পথে দর্শনা ফিলিং স্টেশনের কাছে পৌঁছে সামনে দ্রুতগামী ট্রাক দেখে জোরে ব্রেক চাপেন। এসময় তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে সড়কের মাঝখানে পড়ে যান। এসময় পথচারীরা ট্রাকটিকে থামাতে গেলে ট্রাকের চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। তিনি সড়কে পড়ে থাকা জুলফিকার আলীর মাথার ওপর দিয়ে ট্রাক চালিয়ে দেন। ঘটনাস্থলেই জুলফিকারের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর চালক ট্রাকটি ফেলে পালিয়ে যায়।

এদিকে, মেহেদী হাসান পলাশ ও তার বোন শাহনাজ মোটরসাইকেলে করে বাড়ি থেকে চুয়াডাঙ্গা শহরে যাচ্ছিলেন। পথে নয়মাইল এলাকায় ভুলটিয়া বাজারে পৌঁছালে একটি প্রাইভেটকার পেছন দিক থেকে মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে পলাশ ও তার বোন সড়কে ছিটকে পড়েন। এসময় প্রাইভেটকারের চালক পলাশের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দিলে ঘটনাস্থলেই পলাশ মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় পলাশের বোনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাইভেট কারটির চালক পালিয়ে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *