দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায়,চট্টগ্রামে আ.লীগের ৬ নেতাকে শোকজ

অন্যান্য সংবাদ চট্টগ্রাম মহানগর

Sharing is caring!

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়ায় চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের ৬ নেতাকে কেন্দ্র থেকে শোকজ করা হয়েছে। দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সভাপতি-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত বিদ্রোহী প্রার্থীদের কাছে এই শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের অনেক নেতা কেন্দ্রের কারণ দর্শানো (শোকজ) নোটিশ পেয়েছেন এবং অনেকেই ক্ষমা চেয়ে শোকজের জবাবও দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একটি সূত্র জানায়, দলের সিদ্ধান্ত অনুসারে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, বোয়ালখালী, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও চন্দনাইশ উপজেলার ৬ আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে ফটিকছড়ি, লোহাগাড়ায় ও বাঁশখালী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী তিন উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিতও হয়েছেন।
তবে এদের মধ্যে অনেকের বক্তব্য হলো-উপজেলা নির্বাচনকে উৎসব মুখর করার জন্য প্রথমে কেন্দ্র থেকে বলে হয়েছিল-দলের আগ্রাহী যে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে।
দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপির শোকজ নোটিশ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ আবু তৈয়ব, লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুল, চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার চৌধুরী।

এ ব্যাপারে লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুল জানান, ‘গত ১০ তারিখ কাদের ভাইয়ের (দলের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের) স্বাক্ষরিত শোকজ পেয়েছি। গত ২৩ সেপ্টেম্বর জবাব দিয়েছি। চিঠিতে আমি কাউকে দোষারোপ করিনি। আমি স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করেছি। আমি ছাড়াও বিএনপির একজন এবং জামাতের একজন স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করেছে। আমার নির্বাচনের কোন ইচ্ছে ছিল না। এলাকার প্রবীণ ও দলের ত্যাগী নেতা এবং মুক্তিযোদ্ধারা আমাকে বলেছেন নির্বাচনের জন্য। যদি সুষ্ঠুভাবে ভোট হয় খোরশেদ (আওয়ামী লীগের প্রার্থী) হবে না। আমি নির্বাচনে না দাঁড়ালে জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে যাবে। এ কারণে আমি নির্বাচন করেছি এবং নির্বাচনে জয়লাভ করেছি। মানুষের ভুলক্রটি হয়ে থাকে। ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখলে ভবিষ্যতে দলের সকল ধরনের আদেশ-নির্দেশ ও নীতি-আদর্শ মেনে চলবো।’

এদিকে চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার চৌধুরী জানান, কেন্দ্র থেকে কারণ দর্শানো নোটিশ পেয়েছি। জবাবও দিয়ে দিয়েছি। এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়া দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি ও শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মো. খোরশেদ আলম এবং বোয়ালখালী থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নেয়া চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল কাদের সুজন জানান, উপজেলা নির্বাচনকে উৎসব মুখর করার জন্য চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে দল থেকে যে কেউ নির্বাচন অংশ নিতে পারবে বলে প্রথমে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ থেকে বলা হয়েছিল। এই ব্যাপারে দেশের সকল জাতীয় ও স্থানীয় এবং টেলিভিশন সমূহে সংবাদও প্রকাশ হয়েছে। নির্বাচনকে উৎসবমুখর করার জন্য আমরা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলাম। আমরা প্রার্থী হওয়ার পর কেন্দ্র থেকে আমাদেরকে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের জন্য বলা হয়নি। আমরা জীবন-যৌবন সব দলের জন্য ত্যাগ করেছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাদের ভাইয়ের (দলের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের) সাথে দেখা করে কথা বলবো।

সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচন করায় শাস্তির মুখোমুখি হতে যাওয়া নেতারা হলেন ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবু তৈয়ব, লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুল, চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা ও নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার চৌধুরী। বাঁশখালী উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়া-দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি ও শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মো. খোরশেদ আলম, বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়া দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল কাদের সুজন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের এডহক কমিটির সহ সভাপতি শ্রমিক নেতা এসএম নুরুল ইসলাম।
গত ১২ জুলাই সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় উপজেলা নির্বাচনে দলের বিদ্রোহীদের শোকজ করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। সেই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বিদ্রোহীদের শোকজ করা হয়েছে।

এদিকে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় কক্সবাজার সদর উপজেলা, টেকনাফ, রামু, মহেশখালী ও চকরিয়া উপজেলার পাঁচ আওয়ামী লীগ নেতাকেও শোকজ করা হয়েছে। তারা হলেন, কক্সবাজার সদর উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য নুরুল আবছার, রামু উপজেলায় আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান সোহেল সরওয়ার কাজল, টেকনাফে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জাফর আলম, মহেশখালীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শরীফ বাদশা এবং চকরিয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি ফজলুল করিম সাঈদী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *