লোকমানের ক্যাসিনোর টাকা যেত সাঈদের কাছে

জাতীয়

Sharing is caring!

আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের সভাপতি এ কে এম মমিনুল হক ওরফে সাঈদের কাছে ক্যাসিনোর টাকা পাঠাতেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া । আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবকে এ তথ্য দেন তিনি।

র‌্যাব-২-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন,প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লোকমান জানান, ক্লাবের ক্যাসিনোর টাকা তিনি আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের সভাপতি ও বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মমিনুল হক ওরফে সাঈদের কাছে পাঠাতেন। সাঈদের মাধ্যমে টাকা কোথায় রাখতেন, দেশে না কি বিদেশে পাঠাতেন, সে বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।জিজ্ঞাসাবাদ শেষে লোকমানকে থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। লোকমানের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হবে বলে জানান র্যারব-২-এর অধিনায়ক।

এরআগে বুধবার(২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে লোকমানের মণিপুরী পাড়ার বাসায় অভিযান চালায় র্যাব। সেখানে পাঁচ বোতল বিদেশি মদ পাওয়া যায়। অনুমোদন ছাড়াই এই মদ অবৈধভাবে বাসায় রেখেছিলেন তিনি। এছাড়া তার মদপানের অনুমোদনও নেই। এ কারণে তাকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে, ঢাকা দক্ষিণের ৯নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর, যুবলীগ নেতা ও বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সাঈদের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ক্যাসিনো বাণিজ্যসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধ্যানে উঠে এসেছে মতিঝিলের আরামবাগ স্পোর্টিং ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করেন এই নেতা।

এছাড়া অনুসন্ধানে সাঈদের একটি টর্চার সেলেরও সন্ধ্যান পাওয়া গেছে। মতিঝিল ৮৯, আরামবাগের বাংলাদেশ পাবলিকেশন্স লিমিটেড (বিপিএল) ভবনের দোতলায় তার টর্চার সেলের খোঁজ মিলেছে। এই টর্চার সেলটি একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ছিল রাজাকার মীর কাসেম আলীর নির্যাতন সেল ছিল। যেখানেই নিজের টর্চার সেল খুলেছেন এই যুবলীগ নেতা।

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে সম্প্রতি রাজধানীর মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব, আরামবাগ ও দিলকুশা ক্লাবে হানা দেয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এসব ক্লাব থেকে ক্যাসিনো বোর্ডসহ বিপুল পরিমাণ জুয়া খেলার সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি টাকা, মদ, বিয়ারও পাওয়া যায়।

সম্প্রতি সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশের পর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হয়। এই অভিযানে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *